লোকসানে বন্ধের পথে সোনাগাজী আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার

নিজস্ব প্রতিনিধি

জনবল সংকট, লুঠপাট, লোকসান এবং সংস্লিষ্ট বিভাগের উদাসীনতার কারণে বন্ধ হওয়ার পথে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সোনাগাজী আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার।

জানা গেছে, সোনাগাজী পৌর শহরের পশ্চিম পার্শ্বে প্রায় সাড়ে ১০ একর জায়গার ওপর ২০০২ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর উদ্ধোধন হয় আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার। ফেনী জেলাসহ বৃহত্তর নোয়াখালী, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম জেলার বেশ কিছু উপজেলার ছোট-ছোট হাঁস খামারিদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে মূলত: এ খামার প্রতিষ্ঠা করা হয়। এখানে বৈজ্ঞানিক প্রযুক্তিতে ইনকিউবেটরের মাধ্যমে ডিম থেকে বিভিন্ন জাতের হাঁসের বাচ্চা উৎপাদন করে ওইসব অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়।

খামার সূত্রে জানা যায়, এ খামারে ১টি ব্রুডার, ৫টি লেয়ার ও ৩টি গ্রুয়ার সেড রয়েছে। এতে ১২ হাজার হাঁসের বাচ্ছা, ৩ হাজার বাড়ন্ত ও ৫ হাজার লেয়ার হাঁস পালন করা যায়। এছাড়া ইনকিউবেটরের ২টি সেটারে ৩১ হাজার এবং ১টি হ্যাচারে ৮ হাজার ডিমের ধারণ ক্ষমতা রয়েছে। এতে সপ্তাহে গড়ে ৪ থেকে ৫ হাজার বাচ্চা ফোটানোর ব্যবস্থা আছে।

এছাড়া খামারটিতে ১টি দ্বিতল অফিস ভবন, ১টি হ্যাচারি ভবন, ১টি ফিড গোডাউন, ১টি ডরমেটরি ভবন, ১টি গ্যারেজ, ১টি পুকুর আছে।

বর্তমানে এই খামারে কর্মকর্তা-কর্মচারির ১৮টি পদের মধ্যে ১৩টি পদই শূন্য। হ্যাচারি মেশিন পদে লোক নেই, মেশিনটিও দীর্ঘদিন ধরে অকেজো। এছাড়া এখানকার একজন অফিস সহকারী দীর্ঘদিন ডেপুটেশনে আছেন ঢাকার সদর দফতরে, ক্যাশিয়ার আছেন নরসিংদীতে ডেপুটেশনে।

খামারের ৯টি সেডের মধ্যে ৪টিই পরিত্যক্ত। খামারের চারিদিকে নিরাপত্তা দেওয়ালের প্রায় ভেঙ্গে গেছে, দীর্ঘদিনেও তা মেরামত না হওয়ায় তা মাদকসেবী ও বখাটেদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে ।

জানা গেছে, এ খামারের জিংডিং, খাকি ক্যাম্বল, ইন্ডিয়ান রানার, সাদা বেইজিং ও দেশী কালো জাতের হাঁসের বাচ্চা উৎপাদন করা হয়। বর্তমানে খামারটিতে বিভিন্ন জাতের তিন হাজার ১শ‘টি হাঁস রয়েছে। গড়ে প্রতিদিন ৪৫০-৫০০টি হাঁস ডিম দেয়।

অপরদিকে অভিযোগ আছে, খামারের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা খামারের ডিম, বাচ্চা ও হাঁস বিক্রিতে করছে নানা রকম ফাঁকি ও অনিয়ম।

জনবল সংকট ও অবকাঠামো সমস্যার কারণে সম্ভাবনাময় এ খামার কোনো রকমে জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছে। এইসব সমস্যায় নিয়মিত উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার লোকসানে পড়ছে সোনাগাজী আঞ্চলিক হাঁস প্রজনন খামার।

খামারের বিভিন্ন সমস্যার কথা স্বীকার করে ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক, ডা: মো: জাহিদ বিন রশিদ আল নাহিয়ান জানান, ক্যাপাসিটি থাকা সত্বেও সবগুলো সেড ঠিক না থাকায় পূর্ণ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। বাউন্ডারিওয়াল নির্মাণের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপরে সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছে। এই ছাড়া অন্যান্য অনেক সমস্যা রয়েছে।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *