রোহিঙ্গা ইস্যুতে যা বলেছেন আং সান সু চি

আং সান সু চি অনেকের কাছে পরিচিত ‘দ্য লেডি’ নামে। ১৯৯০ এর দশকে তিনি বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পান মানবাধিকার আর গণতন্ত্রের প্রতীক হিসেবে। একবার মার্কিন রাষ্ট্রদূত রোহিঙ্গা সমস্যাটি নিয়ে কথা বলতে গেলে সু চি তাঁকে সংশোধন করে বলেন, ‘রোহিঙ্গা’ বলবেন না। সু চি নিজেকে ‘বর্মি’ বলতে গর্ববোধ করেন। অথচ রোহিঙ্গাদের ‘রোহিঙ্গা’ বলতে তাঁর আপত্তি।

বিবিসি-কে দেয়া সাক্ষাতকারে আং সান সুচি বলেছেন, রাখাইন প্রদেশে মুসলমানরাই মুসলমানদের হত্যা করছে। রোহিঙ্গা মুসলমানদের জাতিগতভাবে নিধন করা হচ্ছে এমন অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়। রাখাইন প্রদেশে যথেষ্ট বৈরিতা রয়েছে, মুসলমানরাই মুসলমানদের হত্যা করেছে। একটি জাতিকে ‘নিধন’ করা হচ্ছে শব্দটি সেখানকার পরিস্থিতির জন্য বেশি কঠিন। সেখানে নানা বিভক্তি রয়েছে মানুষের মাঝে এবং আমরা সেটাই কমানোর চেষ্টা করছি।সেখানে অক্টোবরে পুলিশের ওপর হামলা থেকেই সবকিছুর সূত্রপাত। এরপর সামরিক বাহিনী বিষয়টি সুরাহার চেষ্টা করে।পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশে শরণার্থী হিসেবে চলে যাওয়া রোহিঙ্গাদের কেউ ফিরে আসতে চাইলে তাদের সাদরে গ্রহণ করা হবে।আমি মার্গারেট থ্যাচার কিংবা মাদার তেরেসো নই।আমি শুধুই একজন রাজনীতিবিদ।

‘এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনাল’-এর সঙ্গে আলাপকালে সু চি বলেন, মিয়ানমারের প্রত্যেক নাগরিককে রক্ষা করতে দেশটি সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সরকার সংঘাতকবলিত রাখাইন রাজ্যের প্রত্যেক নাগরিককে রক্ষার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

ইয়াঙ্গুনে ভারতের সফররত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে সুচি বলেন, ‘অবশ্যই আমাদের সম্পদ যথাযথ নয় এবং পর্যাপ্তও নয়। কিন্তু আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের এটা নিশ্চিত করতে হবে, প্রত্যেকে আইনের সুরক্ষা পাওয়ার অধিকারী। আমাদের নাগরিকদের রক্ষা করতে হবে। আমাদের সবাইকে রক্ষা করতে হবে, যারা আমাদের দেশে আছে, এমনকি তারা আমাদের নাগরিক না হলেও।’

রয়টার্সে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায়- অং সান সুচি ভুয়া তথ্যের অবাধ প্রবাহে মিয়ানমারের রাখাইনের পরিস্থিতি বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের সংবাদ উগ্রপন্থিদের সাহায্য করছে। মিয়ানমারের সহিংসতাপূর্ণ রাজ্য রাখাইনে প্রত্যেককে রক্ষায় সরকার সামর্থ্য অনুযায়ী সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।আমাদের নাগরিকদের দেখভাল আমাদের করতে হবে, যারা আমাদের দেশে আছে তাদের প্রত্যেকের দেখভাল আমাদের করতে হবে, তারা আমাদের নাগরিক হোক বা নাই হোক।’

বিবিসিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানা যায়- সুচি বলছেন, রাখাইনে জটিল পরিস্থিতি চলছে কয়েক দশক ধরে। এর সমাধানের জন্য মাত্র ১৮ মাস ধরে ক্ষমতায় থাকা তার সরকারের ওপর একক দায় দেয়া কোনভাবেই যৌক্তিক নয়। রাখাইনের রোহিঙ্গাদের রক্ষা করা হচ্ছে। তারা সর্বোচ্চ নিরাপত্তায় রয়েছে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিচেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় সু চি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভুল তথ্য ছড়িয়ে সন্ত্রাসীদের সাহায্য করা হচ্ছে। দেশটির রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর চলমান গণহত্যা এবং নির্যাতনের ঘটনা ‘ভুল তথ্যের বিশাল বরফখণ্ড। রোহিঙ্গা সংকটের প্রকৃত চিত্রকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। সন্ত্রাসবাদ মিয়ানমারের জন্য নতুন তবে তা যাতে পুরো রাখাইন রাজ্যে ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য সরকার সবকিছুই করবে।

সূত্র : বিবিসি বাংলা, রয়টার্স ও এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনাল

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *