মিয়ানমারে নৃশংসতা থেকে বাঁচতে পালিয়ে এলো পোষা কুকুর

মিয়ানমার বাহিনীর নৃশংস আক্রমণ থেকে বাঁচতে রোহিঙ্গা মুনিবের সাথে এবার তার পোষা কুকুরটিও পালিয়ে নাফ নদী পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশে এসেছে। গত বৃহস্পতিবার কুকুরটি শাহপরীর দ্বীপ এলাকায় নাফ নদী পাড়ি দিয়ে এপাড়ে আসে।কুকুরটির নাম ‘লাইল্যা’। আরকানের বুচিডংয়ের জাংহামা এলাকায় কুকুরটির মনিব সাদেকের বাড়ি। কুকুরটির গায়ের রঙ লাল বলেই সেটিকে তার মনিবসহ সবাই আদর করে এই নামে ডাকে।

কুকুরটির মনিব সাদেক জানালেন, তার পরিবারের সবার সাথে লাইল্যার গলায় গলায় ভাব। দুষ্কৃতকারীর কাছ থেকে ঘরের মানুষকে সুরক্ষা আর নৈশপ্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা তার প্রধান কাজ। চার বছর বয়সী লাইল্যার মুনিবভক্তি দেখার মতো।সাদেক জানিয়েছেন, মিয়ানমারের সৈন্যরা দশ-বারো দিন আগে বুচিডংয়ের জাংহামা রোহিঙ্গাপল্লীতে হামলা চালায় এবং রোহিঙ্গাদের ধাওয়া করে। লুটপাট করে তাদের বাড়িঘরে। পরে সব বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় জ্বলন্ত বাড়িঘরের সামনে ঘেউ ঘেউ করে মিয়ানমারের সেনাদের প্রতি হুঙ্কার ছাড়ে লাইল্যা। সৈন্যরা তার দিকেও রাইফেল তাক করে গুলি চালাতে থাকলে দৌড়ে পালায় সে। সাদেক ও তার পরিবার সেনাবাহিনীর বর্বরতা থেকে বাঁচতে পাহাড়ে আশ্রয় নেয়। লাইল্যাও মনিবের সাথে চলে আসে।

অবস্থা বেগতিক দেখে আশ্রয়ের সন্ধানে বাংলাদেশে পালিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নেন সাদেক। পাহাড়ি দুর্গম পথ বেয়ে বাংলাদেশের দিকে পা বাড়ায় সাদেকের পরিবার। কুকুরটিও তাদের পিছু নেয়। বিল-ঝিল, নদী-নালা, পাহাড়-পর্বত পেরিয়ে সীমান্তের কাছে পৌঁছতে তাদের ৩০ মাইলের মতো হাঁটতে হয়। নাফ নদীর কিনারায় তাঁবু ফেলেন সাদেক। পাঁচ দিন খেয়ে-না-খেয়ে কাটায় সাদেকের পরিবার। কুকুরটিও এদিক-সেদিক ঘুরে আবারও মনিবের কাছে চলে আসে। সাদেকের পরিবার নৌকায় ওঠার আগে কুকুরটির গায়ে হাত বুলিয়ে শেষ বিদায় জানায়। যেখানে খুশি চলে যাওয়ার জন্য ইশারা-ইঙ্গিত করে। নৌকার ইঞ্জিন স্টার্ট হয়। চলতে শুরু করে নৌকা।

ওপার থেকে কুকুরটি হু হু করে ডাক ছাড়তে। নদীপাড়ের এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করে আর একের পর এক ডাক ছাড়ে। সাদেকের পরিবারের সদস্যরা তা দেখে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেন না। কিন্তু তারা অসহায়।কিছুক্ষণ পর নদীতে ঝাঁপ দেয় কুকুরটি। মনিবকে বহনকারী নৌকা যে দিকে গেছে সে দিকেই সাঁতরাতে থাকে। দূর থেকে সাদেকদের নজরে আসে লাইল্যা সাঁতরে আসছে। এবার সাদেক নৌকার মাঝিকে কুকুরটিকে তোলার জন্য কাঁকুতিমিনতি করেন। প্রয়োজনে আরো একজনের ভাড়া বাড়িয়ে দেয়ার কথা বলেন। মাঝি নৌকা ঘুরিয়ে কুকুরটিকে তুলে নেন।

ঘণ্টাখানেক পর টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপে আসে সাদেকদের বহনকারী নৌকা। নৌকা থেকে নেমে তারা কূলে ওঠেন। সাথে আসে কুকুরটিও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *