পাক-মেজরের মস্তক কেটে উল্লাস করি

সৌরভ পাটোয়ারী, ফেনী : ফেনী সদর উপজেলার লেমুয়া ইউনিয়নের নেয়ামতপুর গ্রামের মৃত হাজি আবদুল করিম ভূঁইয়ার বড় ছেলে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মিজানুর রহমান। সালটা ১৯৭১, টগবগে তরুণ, বয়স তখন ২১, চারদিকে চলছিল হানাদারদের অত্যাচার আর নির্যাতন। মিজানুর রহমান তা সইতে না পেরে শপথ নেন যুদ্ধে যাবার।

তিনি আলাপচারিতায় বলেন, তৎকালীন আমাদের ১নং সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর জিয়াউর রহমান ও তার সহকারী মেজর রফিক। আমি ছিলাম প্লাটুন কমান্ডার। আমার অধীনে ৩৭ জন মুক্তিসেনা ছিল। আমরা যুদ্ধ করেছি ১নং হরিনা ও ২নং মেলাঘর সেক্টর  এলাকাধীন। প্রথমে খায়ের উদ্দিনের সহযোগিতা নিয়ে ভারতের দুর্ঘাবাড়ি হয়ে ১নং সেক্টর হরিনাতে পৌঁছাই। সেখান থেকে আমরা আনুমানিক ১৫ দিন পর ভারতের অম্পিনগর নামক স্থানে মেজর আব্রাহামের অধীনে আমরা এক মাসের প্রশিক্ষণ নেই। অম্পিনগরের এক মাসের প্রশিক্ষণ শেষ করে আমরা আবার ১নং সেক্টরে চলে আসি। আমরা ছিলাম গেরিলা, আমাদের কাজ ছিল হিট অ্যান্ড রান। আমরা আঘাত করব, সে কি মরল না বাঁচল তাকিয়ে দেখার সময় নেই। আর আমাদের মূলমন্ত্র ছিল ‘তুমি বাঁচ শত্রুকে মার’।  আমার ওস্তাদের নাম ছিল পুরি ওস্তাদ। আমরা যুদ্ধ করি ফেনী সদরের লেমুয়া, ফাজিলপুর, লস্করহাট ও নবাবপুর এলাকা  এবং পরশুরাম ও ছাগলনাইয়ায় কিছু অংশে।

মুক্তিযোদ্ধা মিজানুর রহমানের সঙ্গে কথা বলছেন  সৌরভ পাটোয়ারী

 

যুদ্ধকালীন নবাবপুরের ঘটনা : পাক-হানাদার ও রাজাকাররা যখন নবাবপুর এলাকার চরাঞ্চলে ডুকল তখন ত্রিমুখী আক্রমণ হয়। ফজিলপুরের মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন, তোহা ও আমাদের নেতৃত্বে ত্রিমুখী আক্রমণে অনেক পাক-হানাদার ও রাজাকার নিহত হয়। তাদের মধ্যে একজন ছিলেন পাকিস্তানি মেজর। তার মুণ্ড কেটে ১নং সেক্টরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মুক্তিযোদ্ধারা মেজরের মুণ্ড নিয়ে উল্লাস করে।

১নং সেক্টরে দুই মাস যুদ্ধ করার পর আমাকে পাঠানো হল ২নং সেক্টর মেলাঘর নামক স্থানে। তখন মেলাঘরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন মেজর হায়দার। আর জাফর ইমাম ছিলেন সাব-সেক্টর কমান্ডার । যুদ্ধস্থল ছিল পরশুরামের বিলোনিয়া। সেখানও বহু পাক-হানাদার হতাহত হয়। তখন আমাদের নেতা ছিলেন করিম হাজারী। আমাদের দলে ছিল আমার ছোট ভাই আরবের রহমান, জালাল আহম্মেদ ও জয়নাল ওরফে ধন মিয়া, ফাজিলপুরের রফিক, তার ছোট ভাই শাহজাহান, জালাল, বেলায়েত ও আরো অনেকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *