করোনাকালীন সময় এর বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে বলছি

আল্লাহ সর্বশক্তিমান।
সন্তান পিতা/মাতাকে, পিতা/মাতা সন্তানকে, স্বামী স্ত্রীকে, স্ত্রী স্বামীকে, মানুষ মানুষকে ফেলে রেখে চলে যাবার ঘটনা করোনা অতিমারির শুরুর দিকে দেখা গেলেও এখন হয়তো খুব কম। করোনা সম্পর্কে অজ্ঞতা এবং পারস্পরিক সম্পর্কের গভীরতার অভাব সম্ভবত এসবের মুল কারণ বলে আমার মনে হয়েছে। এটা আমার সাম্প্রতিক সময়ে নিজ জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি।
ছবির ৩ জনই করোনাক্রান্ত। একজন আমার মা, একজন বাবা, একজন স্ত্রী। এটি আমার তোলা লক্ষিপুর সদরের একটা প্রাইভেট হাসপাতালে আমার মা ভর্তিকালীন অবস্থার ছবি। আমার ৪ এবং ৬ বছরের বাচ্চারা তখন বাসায়। প্রথমে মা, অতপর তাঁর সেবায় নিয়োজিত স্ত্রী, পরে বাবা, ঈদ-উল-আযহার পরের সপ্তাহে একে একে আক্রান্র হন। আল্লাহ হয়তো আমাকে আক্রান্ত করেননি তাদের এবং বাচ্চাদের কথা ভেবে। মা’কে ১১ দিন পর বাড়ি নিয়েছি। অক্সিজেন লেগেছিল ২/৩ দিন স্বল্প পরিমাণে। এখন মোটামুটি আছেন। বাবা আর স্ত্রী নেগেটিভ হয়েছেন। বাচ্চারাও আলহামদুলিল্লাহ সুস্থ আছে। গত পরশুদিন ঢাকায় ফিরেছি।
পোস্টখানা করার কারণ হচ্ছে কিছু উপলব্ধি শেয়ার করা। আমি ভীত হয়েছি, কিন্তু কাউকে বুঝতে দেইনি। আম্মাকে করোনার কথা একবারও বলিনি। একমাত্র সাহায্য প্রার্থনা করেছি মহান আল্লাহ পাকের। যোগাযোগটা তাঁর সাথেই বেশি করার চেষ্টা করেছি। যা বলার তাঁকেই বলেছি। বাকি যুদ্ধটা ছিলো আমার আর আমার স্ত্রী’র। মানসিক এবং শারীরিক। পাশে পেয়েছি একদম নিকট আত্মীয়, রক্তের কয়েকজনকে। খালামণি, যিনি আম্মার সাথে হাসপাতালে ছিলেন সার্বক্ষণিক। আর চাচাতো বোনদের, যারা বাসায় সবকিছু করেছে স্ত্রী’র গাইডলাইন মেনে। মেজ খালার (মরহুম) ছেলে শামীম। পেয়েছি আমার সাথে ছোটার সার্বক্ষণিক গ্রামের এক ছোট ভাই বুলবুলকে। কিছু বন্ধু জেনেছে, ফোন করেছে, দোয়া চেয়েছি। অনেকের ফোন ধরতে পারিনি। এখন তাদের সাথে যোগাযোগ করছি। দূর থেকে খোজ নেয়ার মানুষই বেশী। আপনি পাশে থেকে সাপোর্ট দেয়ার লোক খুব একটা পাবেন না। তবে দূর হতে তাদের উহ, আহ করার পাশাপাশি দোয়া করার সুযোগ রয়েছে। কিন্তু আপনি বোঝাতে পারবেন না কিছুতেই যে, কাছে থেকেও নিরাপদেই অনেক সাপোর্ট দেয়া সম্ভব। কিন্তু ওই যে বললাম, সম্পর্কের গভীরতা!
ও বন্ধু আমার! ও বড় ভাই আমার! ও ছোট ভাই আমার! ও আত্মার আত্মীয় আমার! হাজার হাজার! ওহে! ওহে! ওহে!
সেই কবিতাখানাই এখানে প্রযোজ্য,
“সুসময়ে বন্ধু বটে অনেকেই হয়,
অসময়ে হায় হায় কেউ কারো নয়!”
যাইহোক, নির্ভর করেছি যার ওপর, তিনি এখন অব্দি শতভাগ সাহায্য করে যাচ্ছেন। আরো সাহায্য প্রয়োজন তাঁর, সর্বশক্তিমান আল্লাহর। পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধিও মেনেছি বারবার মনে করে। দিনে কতোবার যে হাত ধুয়েছি ইয়ত্তা নেই। আসলে স্বাস্থ্যবিধি জানলে নিজের মতো করে সেটা এডাপ্ট করতে হয় নিজেকে এবং নিজের নিকট হতে অন্যদের নিরাপদ রাখতে।
যাইহোক, মুল কথা যেটা বলার জন্য এতো কথা, সেটি হচ্ছে, পারিবারিক সম্পর্কের গভীরে প্রবেশ করুন। পিতা-মাতা-সন্তান-ভাই-বোন-স্বামী -স্ত্রী, দিনশেষে এই সম্পর্কগুলোর উত্তাপ বড় বেশী প্রয়োজন। তবেই আর কেউ কাউকে ফেলে যাবে না!
পাশাপাশি যত্ন নিন নিকট কিছু আত্মীয়ের, ভেবে চিন্তে নিজ মহিমায় যাচাই করে, রক্তের বন্ধন ছিন্ন না করে, অবশ্য অবশ্যই কাজে দেবে। আর বন্ধু!? ২ হাজার! ৫ হাজার! ১০ হাজার! ২০ হাজার! ৩০ হাজার! না-রে ভাই! ২/৫/১০ জনই যথেষ্ট। যদি বন্ধু হয়!
আর সর্বশেষ কথা, সারেন্ডার করুন এক জায়গায়, সর্বশক্তিমান মহান আল্লাহতায়ালার নিকট। দোয়া করবেন সবাই।
ধন্যবাদ।
জাহিদ বিপ্লব,
২০ আগস্ট, ২০২১।
শুক্রবার।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *