নুর ইসলাম মারা গেছেন

৭ মার্চ- ২০১৮, নুর ইসলাম (৭০), নুরু ভাই ৩ মার্চ সকাল ৯টায় কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার চিওড়া কাজী বাড়ীতে মৃত্যুবরন করেছেন। ঐ দিন বিকেলে তাকে কনকাপৈত ইউনিয়নের জঙ্গলপুর তার নিজ গ্রামে দাফন করা হয়েছে। ৩ মার্চ সকালে নাস্তা করার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। সাথে সাথে মৃত্যুর মুখে চলে যান। তার দীর্ঘদিনের আশ্রয়স্থল চিওড়া কাজী বাড়ীতে ১ম জানাযা শেষে তার ছেলেরা তাকে জঙ্গলপুর নিয়ে যায়। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, ৩ ছেলেসহ অসংখ্য গুনগ্রাহী রেখে গেছেন। তার মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন ভাসানী স্মৃতি সংসদ, ফেনী, ফেনী জেলা গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা কল্যান পরিষদ, ফেনি জেলা শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশন ও ফেনি জেলা হোটেল রেস্টুরেন্ট সুইট মিটস শ্রমিক ইউনিয়ন। নুর ইসলাম ০১/০১/১৯৪১ইং সনে কুমিল্লা জেলার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের জঙ্গলপুর গ্রামে জন্ম গ্রহন করেন। তাহার পিতা সাইদ ভুঞা ক্যাশিয়ার। তিনি এস.এস.সি পাশ করে ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। স্বাধীনতা সংগ্রামে তিনি ন্যাপ-কমিউনিষ্ট পার্টি ছাত্র ্ইউনিয়ন যৌথ গেরিলা বাহিনীর একজন সক্রিয় মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে ভুমিকা রাখেন। স্বাধীনোতত্তর চৌমুহনী ডেল্টা জুট মিলের চাকুরী করেন। আজীবন সংগ্রামী নুর ইসলাম আর্থিক সংকটে নিপতিত হয়ে আয় বৃদ্ধির সাথে সাথে মানসিক রোগাগ্রস্থ হয়ে যায়। কিছুদিন তিনি পত্রিকার হকার হিসাবে ফেনীতে বিচরন করেন। প্রগতিশীল রাজনৈতিক কর্মী, সাংবাদিক, ফেনী স্বদেশের অনেক সমাজ সচেতন ও সংগঠকদের সকলের নিকট নুর ইসলাম নুরু ভাই হিসেবে পরিচিত ছিল। সদা হাস্যজ্বল, বিনয়ী নুরু ভাই (কমরেড নুরু) সকলে নিকট অতিকাদের ও হৃদয়ের মানুষ ছিল। নুরু ভাইর শিশু সুলভ আচরন, কথা বলার ঢং, মিষ্টি মধুর মুচকি হাসি, বিয়ে করানোর প্রলোভন তার বন্ধু বান্ধবদের নিত্য নৈমিত্তিক ব্যাপার ছিল। তার চলাচল, কথাবার্তা সকলের নিকট হাস্যরসে সৃষ্টি হত, তিনি হাসতেন, সকলকে হাসাতেন। তিনি আর ফেনী আসবেন না, কয়েকদিন থাকার জন্য অনুমতি চাইবেন না, কাহাকেও হাসবেন না। মুক্তিযোদ্ধার ভাতা দাবী করবে না। কারো সমালোচনা করবেন না। চলগেলেন না পেয়ার দেশে। নুরু ভাইর আত্মার মাগফেরাত কামনা করে ৭ মার্চ বিকালে ফেনির ডাক্তার পাড়াস্থ শ্রমিক ফেডারেশন কার্যালয়ে বাদ মাগরীব এক মিলাদ ও দোয়ার মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। ফেনী জেলা শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের উদ্যোগে সভায় বাবু লক্ষন বনিক, জালাল হাজারী, বাবু অজিত বরন দাস, ইয়াহিয়া খান ও শাহজাহান হাওলাদারসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *