৫ লাখ মানুষের একমাত্র হাসপাতালটিরও বেহাল দশা( ভিড়িওসহ)

বখতেয়ার মুন্না……

ফেনীর সমুদ্র উপকূলীয় সোনাগাজীর প্রায় ৫ লাখ মানুষের স্বাস্থ্য সেবার একমাত্র সরকারি হাসপাতাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। অথচ চিকিৎসা চলছে মাত্র দুজন চিকিৎসক দিয়ে। নেই কোন টেকনিশিয়ান, এক্সরে মেশিন, অপারেশন থিয়েটার, বিকল্প বিদ্যুৎ ব্যবস্থা। এ অবস্থ্যায় চিকিৎসা নিয়ে এলাকার মানুষের দুশ্চিন্তার শেষ নেই।

 

ফেনীর সমুদ্র উপকূলবাসীর স্বাস্থ্যসেবার একমাত্র ভরসা সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসা এই রোগির কথার পেছনের গল্পটা আরও ভয়াবহ। গত দু’মাস থেকে এখানে চিকিৎসকের ২২টি পদে আছেন মাত্র ২জন। এদের একজনকে অধিকাংশ সময় থাকতে হয় প্রশাসনিক ও প্রশিক্ষণ কাজে ব্যস্ত। অন্যদিকে কর্মচারীর ১’শ ১৫ পদের মধ্যে ৫৯ পদই শূন্য।

এদের মধ্যে সেবিকা আছেন ১৪ জনে ৪ জন। এক যুগেরও বেশি সময় ধরে নেই কোন টেকনিশিয়ান, এক্সরে মেশিন, বিকল্প বিদ্যুত ব্যবস্থা। জন্ম থেকে হয়নি অপারেশন থিয়েটার। বিছানা সংকটে রোগিদের থাকতে হয় বারান্দার মেঝেতে। আসবাবপত্র ও বিভিন্ন বিভাগের যন্ত্রপাতির সংকট তো রয়েছেই। এ অবস্থায় চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে হাসপাতালটির স্বাস্থ্যসেবা।

আর সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জানান, তাঁর অপারগতা ও অপেক্ষার কথা।

ডা. মো. নুরুল আলম (উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, সোনাগাজী, ফেনী) বলেন, এ সংকট মোকাবেলার তাগিদে প্রতিমাসে আমরা উচ্চতর কর্মকর্তাদের একবেলা করে যাচ্ছি।

জনবল ও যন্ত্রপাতির সংকটে ৫০ শয্যার হাসপাতালটিতে রোগী নেমে এসেছে বর্হিবিভাগে গড়ে সাড়ে তিন’শর জায়গায় ২’শ এবং আন্ত:বিভাগে গড়ে ৭০ এর জায়গায় ৪০ এ।

এই হাসপাতালের সুবিধাভুগিরা মনে করছেন, এখন রোগি বাঁচানোর আগে হাসপাতালটি বাঁচানোর জন্য সরকারকে এগিয়ে আসতে সবার আগে। না হয়, স্বাস্থ্যসেবা বঞ্চিত হয়ে চরম ক্ষতির মুখে পড়বে এখানকার মানুষেরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *