৪ মাস আগে ডিভোর্স দিয়েছি পলাশকে : চিত্রনায়িকা সিমলা

মাহাদী ওরফে পলাশের সঙ্গে আমার সম্পর্ক আগেই শেষ হয়ে গেছে। পলাশকে চারমাস আগে ডিভোর্স দিয়েছি। তার মানসিক ভারসাম্যতা হারিয়ে ফেলার কারণেই আমি এ সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এক এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন ঢাকাই ছবির এক সময়ের আলোচিত চিত্রনায়িকা শিমলা।রোববার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের শাহ আমানত বিমান বন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের দুবাইগামী একটি ফ্লাইট ছিনতাই চেষ্টার পর কমান্ডো অপারেশনে নিহত হন মাহি বি জাহান পলাশ নামের এক ব্যক্তি। তিনি নিজেকে চিত্রনায়িকা সিমলার স্বামী বলে দাবি করেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে সিমালার সঙ্গে এই এক্সক্লুসিভ কথা হয়।

সাক্ষাৎকারে তিনি পলাশের সঙ্গে তার সম্পর্ক আগেই শেষ হয়ে গেছে বলে দাবি করেন। তিনি জানান ২০১৭ সালের ১২ সেপ্টেম্বর তাদের প্রথম সাক্ষাৎ হয়। তার নিজের অভিনীত একটি চলচ্চিত্রের পরিচালকের বাসার একটি অনুষ্ঠানে প্রথম পরিচয়। এরপর তারা সম্পর্কে জড়িয়ে যান। ২০১৮ সালের ৩ মার্চ তাদের বিয়ে হয়। পরে বছরের শেষ দিকে অক্টোবরে তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়।

কেন বিবাহ বিচ্ছেদ সে প্রশ্নের জবাবে সিমলা বলেন, কিছু সমস্যা ছিলো বিধায়ই ডিভোর্স হয়েছে। তার মানসিক সমস্যাই এর মূল কারণ। মাহি বি জাহান পলাশকে কবর নামের একটি শর্ট ফিল্মের প্রযোজক হিসেবেই চিনতাম।

জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত নায়িকা সিমলা বলেন, তিনি বেকার, ভালো কাজ চান। পলাশের সঙ্গে পরিচিত হয়েও তাকে বড় সিনেমা বানানোর পরামর্শ দেন। পলাশও সিমলার কাছাকাছি যেতে যেতে তার প্রেমে পড়ে যান। সিমলাকে বিভিন্ন সময় কেনাকাটা করে দেয়া, উপহার দেয়া এবং ঘুরতে যাওয়া নিয়ম করে হতে থাকে। এরমধ্যেই পলাশ সিমলাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। সিমলাও তার খরচের হাত দেখে লোভে পড়েন এবং তাকে বিয়ে করতে রাজি হয়ে যান।

পলাশ তার বাবা-মার অনুমতি ছাড়াই সিমলাকে বিয়ে করে ফেলেন। বিয়ের পরপরই সিমলাকে নিয়ে পলাশ সোনারগাঁওয়ে তার গ্রামের বাড়িতে যান। বাবা-মার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে সিমলাকে নিয়ে সিনেমা বানানোর কথা বলে বাবার কাছে টাকা চান। কিন্তু বাবা পি আর জাহান কোনোভাবে টাকা দিতে রাজি হননি। পরে আরো কয়েকবার টাকা চেয়ে ব্যর্থ হয়ে পলাশ বাবা ও মায়ের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেন।

তবে সিমলার অনুরোধে ছেলেকে কিছু টাকা দিতে রাজি হন পলাশের বাবা। তবে সেই অর্থ হানিমুন, কেনাকাটা ও ঘুরে বেড়ানোতে ফুরিয়ে যায়। সিমলাও বুঝতে পারেন পলাশকে দিয়ে অন্তত সিনেমা হবে না এবং টাকাও আসবে না। তখনই তিনি পলাশের সঙ্গ ত্যাগ করেন। চলচ্চিত্র অঙ্গনে অনেকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, পলাশ নামে বয়সে ছোট এক ছেলেকে বিয়ে করেন সিমলা। এ নিয়ে তারা তাদের রহিম-রূপবান বলে হাসি-তামাসাও করেন।

অন্যদিকে ছেলের চেয়ে বয়সে বউ বড় হওয়ার কারণে সিমলাকে মেনে নিতে পারেননি পলাশের বাবা-মা। এছাড়াও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পলাশ পূর্ব বিবাহিত। বনিবনা না হওয়ায় প্রথম স্ত্রীর সঙ্গেও তার ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়। সে ঘরে তার এক সন্তানও রয়েছে। সেই সঙ্গে সোনারগাঁওয়ে নিজ এলাকায় নারী কেলেঙ্কারিতে পলাশের ২০ দিনের জেলও খাটেন। সবমিলিয়ে পলাশ ছিলেন একজন বখাটে।

উল্লেখ্য, ঢাকাই ছবির এক সময়ের আলোচিত নায়িকা শিমলা। শিমলা গীতিকার-সুরকার মিল্টন খন্দকারের মাধ্যমে ১৯৯৯ সালে শহীদুল ইসলাম খোকন পরিচালনায় ম্যাডাম ফুলি চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্রাঙ্গনে প্রবেশ করেন। এই চলচ্চিত্রে শিমলা ও ফুলি দুটি চরিত্রে অভিনয় করে তিনি শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রী বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। তিনিই প্রথম অভিনেত্রী যিনি তার অভিষেক চলচ্চিত্রেই শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *