হারিয়ে যাচ্ছে ফেনীর জমিদার বাড়ীগুলোর শেষ স্মৃতি.( পর্ব-৩)

সৌরভ পাটোয়ারী>>

নতুন প্রজন্মের কাছে জমিদার বাড়ির গল্প মানে রুপ কথার গল্প। যারা শোনাবে কে এমন পূর্ব মানব-মানবী কেউ আজ নেই। জমিদারের নাতি-পূতিরা আজ সেজেছে দাঁদা-

দাদু হয়ে। তারাও আজ মৃত্যু পথ বা পর-পারের যাত্রি । তারা চলে গেলে বাস্তব কাহীনির জীবন চিত্র হয়ত আর খুঁজে পাওয়া যাবে না কোথায়ও। কারণ ফেনীর জমিদার তথা তালুকদার ব্যাখ্যা নেই কোনো বইয়ের পাতায়। জানার আগ্রহ আর কৌতুহল নিয়ে ফেনীর বিভিন্ন উপজেলায় অবস্থিত জমিদার বাড়ি, ঘর, পুকুর গুলো দেখতে আসে প্রতিদিন শতশত শিশু,তরুণ তরুণীরা ও মধ্য বয়সীরা। ৫’শত বছর গত হয়ে গেছে পিজা , দাদা, বাপ, চাচা, মামা, খালু . নাতি, পূতি ও বড় ভাইসহ পূর্ব মানব -মানবীরা। পূর্ব পুরুষদের পাকা দালানের তৈরীকৃত কবর আর দাহের স্থান চিতা মন্দির কালের ¯^াক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে ফেনী জেলার বিভিন্ন স্থানে। কোথায়ও দখল হয়ে গেছে আকর্ষনীয় বাস ভবন আছে শুধু ভবন নির্মাণ বাংলা সন তারিখ টুকু। কোথায়ও আবার সে টুকুও নাই।

বর্তমান ও আগামী প্রজন্মের জমিদার বাড়ির ইতিহাস ধরে রাখা যেমন জরুরি। তেমনি জমিদার বাড়ির স্থির চিত্র, প্রবন্ধ, রচনা, গল্প-কবিতা ,নাট্য মঞ্চ, ভিড়িওসহ সকল স্মৃতি জ্ঞান চর্চার সহায়ক বলে মনে করেন ফেনীর স্থানীয় সুশিল সমাজের ব্যক্তিবর্গরা। অর্থচ ফেনীর জমিদার বাড়ি গুলো স্মৃতিচিহ্ন নিয়ে লিখা নেই বইয়ের পাতায়। বড় থেকে খুদে লেখকরাও কেউ এ বিষয়ে নিয়ে কোনোদিন কলম ধরেনি বলে অভিযোগ উঠে আসছে।

সরেজমিন ঘুরে ফেনীর ইতিহাস পর্যবেক্ষনে দেখা গেছে, ইংরেজী ১৬০০ থেকে ১৮০০ শতকের শেষের দিকে বিট্রিশ শাসনামলে জমিদার বাড়ি গুলো নির্মিত হয়। ১৯৬০ সালের দিকে জমিদারী প্রথা উঠে যায়। ফেনী জেলায় প্রায় ৭ টি জমিদার-তালুকদার বাড়ি ছিল , তাঁর মধ্যে ৪ জন জমিদার ছিলেন ক্ষমতাধর- সম্পদশালী জমিদার তথা তালুকদার। তার মধ্যে ফেনী সদর এলাকায় দুইটি ফুলগাজীতে একটি, ছাগলনাইয়ায় দুইটি,দাগনভ’ইয়ায় একটি ও সোনাগাজীতে একটি জমিদার বাড়ি তথ্য পাওয়া গেছে।( চলবে)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *