স্ত্রীর মর্যাদা পেতে ৩দিন থানায় অনশন

নিজস্ব প্রতিনিধি->>

স্ত্রীর মর্যদা পেতে নরসিংদীর লাকি আক্তার গত ৩ দিন যাবৎ সোনাগাজী মডেল থানায় অবস্থান করছে। সে নরসিংদী জেলার সদর উপজেলার কামারচর গ্রামের কবির আহাম্মদের মেয়ে।

গত ৩ দিন কখনো ডিউটি অফিসারের কক্ষে কখনো থানার অন্য কক্ষে বসে থেকে স্বামী আসার অপেক্ষায় নির্ঘুম রাত পারছে সে।

সোনাগাজী মডেল থানা কর্তৃপক্ষ তাকে নিয়েছে পড়েছে মহা ঝামেলায়। গত ৩ দিন ধরে পুলিশ তাদের ক্যান্টিনের রান্না করা খাবার তার জন্য সরবরাহ করছে। স্বামী রাসেল কে কৌশলে পালিয়ে যেতে সহায়তা করে শ্বাশুড়ি ও খালা শ্বাশুড়ি তাকে নির্যাতন শুরু করলে সে গত ২৫ জুন সোমবার স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান ও সদদ্যের সহযোগীয় আইনী সহায়তা পেতে সোনাগাজী থানায় আসে। পুলিশ তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে শ্বশুর শাহজাহান ও শ্বাশুড়ি মৌচেনা বেগম কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে।

মেয়েটির স্বামী রাসেল থানায় অবস্থানরত লাকি আক্তারের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ২০১৬ সালে নভেম্বর মাসে হাসাপাতালের সেবিকার ভিসায় লাকি ওমানে যায়। ওমানের রাজধানী মস্কেট হাসপাতালে কাজ করার সময় পূর্ব থেকে ওমানে অবস্থানরত সোনাগাজীর চরমজলিশপুর ইউপির চরগোপালগাঁ গ্রামের শাহজানের ছেলে রাসেলের সাথে তার পরিচয় হয়। পরিচয় থেকে তাদের সম্পর্ক প্রণয়ে রুপ নেয়।

লাকি দাবী করে ২০১৭ সালের মে মাসে প্রবাসে অবস্থানরত অনেক বাংলাদেশীর উপস্থিতিতে শরিয়া মোতাবেক কলেমা পড়ে তাদের বিয়ে হয়। উভয়ে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাসের একপর্যায়ে সে অন্ত:সত্ত্বা হয়ে পড়লে আইনী জটিলতা এড়াতে উভয়ের সম্মতিতে গর্ভে থাকা ৭ মাসের সন্তান নষ্ট কষ্ট করতে বাধ্য হয়। ওই সময় তার জীবন হুমকির মধ্যে পড়ে বলে জানায় সে। বিয়ের প্রমান হিসেবে লাকি প্রতিবেদককে তার হেফাজতে থাকা ছবি, অডিও, ভিডিও প্রদর্শন করে।

রাসেল তাকে স্ত্রী মর্যদা না দিয়ে পালিয়ে রয়েছেন প্রশ্নের জবাব এড়িয়ে গিয়ে সে দ্রুত চলে যায়।

দেশে নতুন করে সংসার গড়ার আশায় গত ১৩, ১৪ রমজানে লাকি ও রাসেল ওমানের ভিসা বাতিল করে দেশে ফিরে আসে।দেশে ফিরে এসে তারা আত্মীয় স্বজনের বাসায় স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে বসবাস করতে থাকে।

গত ০৩ জুন লাকি স্ত্রীর মর্যদা দিয়ে তাকে বাড়ীতে তুলে নেওয়ার জন্য রাসেল কে অনুরোধ করলে সে বাড়ীতে নিতে রাজী হয়। তার কথামত লাকি ২৪ জুন নরসিংদীর বাড়ী থেকে রওয়ানা হয়ে রাতে রাসেলের বাড়ীতে উঠে।লাকির দাবী মতে রাসেল বাড়ীতে তাকে স্ত্রী হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদের কে দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী স্ত্রীর মর্যদা দিতে তার বাবা মাকে অনুরোধ জানায়। কিন্তু তারবাবা মা কৌশলে রাসেল কে বাড়ী থেকে বের করে দিয়ে তার নির্যাতন করে তাকে গভীর রাতে বাড়ী থেকে বের করে দেয়। লাকির জানায়, রাসেল যদি তাকে স্ত্রীর মর্যদা দিয়ে ঘরে তুলে না নেয় সে আত্মহত্যা করবে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য বেলায়েত হোসেন জানান,এলাকাবাসীর কাছ থেকে খবর পেয়ে সে রাতে ওই বাড়ীতে যাওয়ার সময় বাড়ীর সামনের রাস্তায় লাকিকে একা বৃষ্টির মধ্যে কান্নারত অবস্থায় দেখতে পেয়ে রাসেলের বাবা মাকে মেয়েটাকে ঘরে আশ্রয় দেয়ার অনুরোধ জানালেও তারা রাজী না হওয়াতে তাকে নিজ বাড়ীতে নিয়ে যায়। সকালে স্থানীয় চেয়ারম্যানের সহায়তায় মেয়েটাকে থানায় পৌঁছে দেয়া হয়।

মডেল থানার পরিদর্শক মোয়াজ্জেম হোসেন জানিয়েছে, মানবিক দিক বিবেচনা করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। মেয়েটির পরিবার কে ফোনে সোনাগাজী থানায় আসতে বলা হয়েছে এবং রাসেলকেও থানায় থাকতে বলা হয়েছে। উভয় পরিবারের সম্মতিতে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে। যদি সমাধান না হয় তবে আইন অনুযায়ী পরবর্তী প্রদক্ষেপ গ্রহন করা হবেে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *