সোনাগাজীর মঙ্গলকান্দিতে আমনের আগমনী বার্তা, বাঁশের তৈরী পণ্যের সয়লাভ

নিজস্ব প্রতিনিধি,

সোনাগাজীর মঙ্গলকান্দিতে আমনের আগমনী বার্তা, বাঁশের তৈরী পণ্যের সয়লাভ। এ বাজার থেকে উপজেলার চাহিদা মিঠিয়ে ফেনী জেলার বাজারগুলোতে  দ্রুত গতিতে চলছে বাঁশের তৈরী কুটির শিল্পের পণ্যের বেচাকেনা।

এ সব পণ্য জেলা ছাড়িয়ে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। এখানে আছে  বাঁশের তৈরী লাই, খাঁচা, উর্জা, ছায়, চাটাইসহ মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন পণ্য । নারী-পুরুষ কারিগররা রাত-দিন তৈরী করছেন বাঁশ-বেত দিয়ে কুটির শিল্পের বিভিন্ন পণ্য।

কুটির শিল্পে নিয়োজিত ব্যক্তিদের সন্তানদের জীবিকা ভবিষ্যৎ ও খেলাপড়ার খরচ চালিয়ে নিয়ে সংসারের অভাব নিবারনে পুরুষ-নারীরা নিজেরাই তাদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে। এখানকার গ্রামগুলোতে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও সু-পথে এগিয়ে যাওয়ার আশায় বাঁশের পণ্য তৈরীর কাজ করছেন।

বাড়তি আয়ের একবুক স্বপ্ন নিয়ে শতশত নারী সংসার কাজের ফাঁকে বাঁশের পণ্য তৈরীর কাজ করছেন দীর্ঘদিন ধরেই। তবুও এদের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটেনি। এ উপজেলায় বাঁশের তৈরী পণ্যের কদর দিনদিন কমে যাওয়ায় কারিগরদের বাড়িতে বাড়িতে এপণ্যের মজুদ বাড়ছে। সঠিক সময়ে বিক্রয় করতে না পারায় তৈরীকৃত পন্যগুলো নষ্ট হচ্ছে বলে কারিগররা এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন।

সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে এখানে বাড়ছে প্লাস্টিকজাত পণ্যের কদর। সরকারি পৃষ্টপোষকতায় এপণ্য জেলা-সদরসহ দেশের বিভিন্নস্থানে বিক্রি করা হলে ডিজিটাল সময়ে পিছিয়ে পড়া পরিবারগুলো সুদিনের পথে এগিয়ে যাবে।

আধুনিকতার এ যুগে বাঁশ বেত দিয়ে তৈরী বিভিন্ন পণ্যের চাহিদা দিন দিন বেড়ে চললেও বিলীন হতে চলেছে এ পণ্য উৎপাদনের সুবিধা ও পরিবেশ।

এদিকে গ্রামের খাল-বিল, নদী-নালায় চলছে মাছ ধরার মৌসুম। এসময়ে  গ্রামগুলোতে গরীব মানুষসহ মৎস্যজীবীদের কাছে বাঁশের তৈরী মাছ ধরার বিভিন্ন পণ্যসহ গৃহস্থালির কাজে ব্যবহৃত  আবারও বাড়তে শুরু করেছে।

তবে বাঁশের চাষ কমে যাওযায় কুটির শিল্পের কারিগরদের কাঁচামালের জন্য বেগ পেতে হচ্ছে। তারপরও পৈত্রিক পেশা ধরে রাখতে বাঁশের পণ্য তৈরীতে ব্যস্ত কুটির শিল্প কারিগররা। হাজারও পরিবারের সংসার চলে কুটির শিল্পে।  তাদের পেশা ধরে রাখতেই করছেন কুটির শিল্পের কাজ।

কারিগররা জানান, ২০০ টাকা মুল্যের একটি বাঁশ দিয়ে ২টি ধানের লাই, ২টি খাচা, ২টি উর্জা, ২টি মাছ ধরার ছাই ও ১টি চাটাই তৈরী হয়।

১০০ টাকা থেকে ১২০ টাকা মূল্যের একটি বাঁশ দিয়ে ১টি ধানের লাই, ১টি খাচা, ১টি উর্জা, ১টি মাছ ধরার ছাই ও ১টি চাটাই তৈরী হয়। বাঁশের ভিতর অংশ ও বাহির অংশ দিয়ে এসব পণ্য সামগ্রী তৈরী হয়। তৈরীকৃত সামগ্রীর মধ্যে লাই প্রতি জোড়া ৪শ ৫০ টাকা, খাচা প্রতি পিছ ২শ ৮০ টাকা, উর্জা প্রতি পিছ ৮০ টাকা, ছাই প্রতি পিছ ২০০ টাকা, চাটাই প্রতি পিছ ৩০০ টাকায় বিক্রি হয়।

সমবায় অফিস সূত্রে জানা যায়, এখন চলছে আমন ধান কাটার আগাম মৌসুম।মাট থেকে ধান আনা থেকে শুরু করে মজুদ পর্যন্ত

বাঁশের তৈরী পণ্য সামগ্রীর প্রয়োজন হয়। তাছাড়াও বাসা-বাড়ীতে বাঁশের পণ্যের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

মঙ্গলকান্দি গ্রামের সৈয়দ বাড়ীর জসিম কারিগর বলেন, আমরা বা দাদার পেশা বাঁশের তৈরী পণ্য বিক্রি করে সংসার চলে যায়।এখন আগ্রহ কমে যাচ্ছে। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আরো উপকার হতো। তিনি আরো বলেন, ৬ হাজার টাকা পুজি নিয়ে শুরু করি বাঁশের তৈরী পণ্যের ব্যবসা। এখন প্রতি মাসে ১৫ থেকে ১৫ হাজার টাকা আয় হয়। ৫ সদস্যের পরিবার চলছে সুখে শান্তিতে। তবে বাঁশের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের লাভ হচ্ছে কম। বাঁশ ঝাঁড় দিনদিন বিলীন হয়ে যাচ্ছে বলে জানান তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *