সোনাগাজীতে যৌন হয়রানির অভিযোগে অধ্যক্ষ সিরাজ আটক

নিজস্ব প্রতিনিধি,

এক আলিম পরীক্ষার্থী ছাত্রীকে প্রশ্ন দেয়ার প্রলোভনে নিজ অফিস কক্ষে ডেকে এনে যৌন হয়রানির অভিযোগে আটক হয়েছেন সোনাগাজী ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা সিরাজ উদদৌলা। আজ বুধবার ১২টার দিকে ঘটনাটি ঘটে।

 

পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্র জানায়, ১ এপ্রিল থেকে ওই ছাত্রীর আলিম পরীক্ষা শুরু। তিনি ওই ছাত্রীকে অগ্রিম প্রশ্ন দেয়ার প্রলোভনে অফিস কক্ষে ডেকে আনেন। দ্বিতীয় তলায় অধ্যক্ষের কক্ষে ছাত্রীটি যৌন হয়রানির শিকার হয়ে বাড়িতে গিয়ে মা-বাবাকে বললে তারা আশপাশের লোকজন ও পৌরসভার কাউন্সিলর সহ মাদরাসায় আসেন। একপর্যায়ে খবর পেয়ে পুলিশ সিরাজ উদদৌলাকে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ উভয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

 

উল্লেখ্য, গত ২০১৮ সালের ৩ অক্টোবর শ্রেনী কার্যক্রম চলাকালে ৩য় ঘন্টার পর উক্ত মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ্দৌলা আলিম দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী নাসরিন সুলতানাকে ছাত্রী উপবৃত্তির তালিকায় নাম অন্তর্ভূক্তিসহ মাদ্রাসা থেকে আর্থিক সুযোগ সুবিধা প্রদান করবেন মর্মে শ্রেনী কক্ষ থেকে তার অফিস কক্ষে ডেকে নিয়ে যায়। ঘটনার এক পর্যায়ে অধ্যক্ষের অফিস কক্ষের দরজা বন্ধ করে ছাত্রী নাসরিন সুলতানাকে একা পেয়ে তাকে প্রথমে মুখোশ খুলে চমুচা খাওয়ার অপার দিয়ে ছাত্রীর হাত ধরে অনেকটা জোর পূর্বক ছাত্রীর মাথায়, পিঠে ও কোমর সহ শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়। এমাতাবস্থায় উক্ত ছাত্রী চিৎকার করে অধ্যক্ষের কক্ষ হতে বের হয়ে শ্রেনী কক্ষে এসে এ অপমান সইতে না পেরে কান্না শুরু করে। পরে তার সহপাঠিদের সহায়তায় শ্রেনী কক্ষ হতে বের হয়ে বাড়ীতে চলে যায়। মাদ্রাসা অধ্যক্ষ কর্তৃক এ অপমানের শিকার হয়ে বাড়ীতে এসে সে আতœহত্যার প্রচেষ্টা চালায় এবং মাদ্রাসায় আর পড়ালেখা করবেনা বলে কান্নাজড়িত কন্ঠে তার মা’কে সাফ জানিয়ে দেয়। মাদ্রাসার অধ্যক্ষ কর্তৃক অনেকটা প্রকাশ্যে এরকম ছাত্রী যৌন হয়রানীর বিষয়টি মুহুর্তের মধ্যে মাদ্রাসার সকল ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে জানা-জানি হয়ে যায়।

এদিকে ঘটনার শিকার উক্ত ছাত্রীর পিতা সোনাগাজীর মদিনাতুল উলুম দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা সিরাজুল ইসলামের নিকট জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, আমার মেয়ের প্রতি মাদ্রাসার অধ্যক্ষের এরকম জঘন্য আচরণ এবং অপকর্মের বিবরণ দিয়ে ঘটনার দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দাবী করে গত ৭ অক্টোবর তারিখে মাদ্রাসার গর্ভনিং বড়ির সদস্য ও তিনজন শিক্ষক প্রতিনিধিদেরকে মৌখিক ভাবে অবহিত করি। পরবর্তীতে মাদ্রাসার গভর্নিং বড়ির সম্মানিত অভিভাবক সদস্য জামশেদ আলমকেও এ ঘটনার প্রতিকার চেয়ে মৌখিক ভাবে অবহিত করি। তিনি অনেকটা ক্ষোভের সাথে আরো বলেন, এঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হলে আমি প্রয়োজনে মিডিয়াসহ প্রশাসনের সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করব।

 

এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাদ্রাসার একাধিক ছাত্রী ও অভিভাবকদের সাথে আলাপ কালে জানাগেছে, ছাত্রীদের সাথে অধ্যক্ষের যৌনহয়রানির বিষয়টি অনেকটা “ওপেন সিক্রেট” অতীতে বেশ কিছু ছাত্রীর সাথে আরো জঘন্য ঘটনা ঘটলেও মাদ্রাসার শিক্ষকবৃন্দ ও কর্তৃপক্ষ এতদ বিষয়ে কোন কার্যকরী ভূমিকা পালন করেনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *