সোনাগাজীতে প্রাইমারী প্রধান শিক্ষককে মারধর>থানায় মামলা>পিয়ন আটক

সোনাগাজী প্রতিনিধি

সোনাগাজীতে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিয়নের পিটুনিতে প্রধান শিক্ষক আহত হয়েছে।ঘটনাটি বৃহস্পতিবার সকালে পৌরসভাস্থ সোনাগাজী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঘটে।

এ ঘটনায় আহত প্রধান শিক্ষক হোসাইন আহাম্মদ বাদী হয়ে পিয়ন জহির উদ্দিন সুমনের নামে মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।পুলিশ ঘটনার পর পরই অভিযুক্ত সুমন কে বিদ্যালয় থেকে আটক করে।সে বিদ্যালয় সংলগ্ন সোনাগাজী সরকারী ছাবের পাইলট হাইস্কুলের নৈশ প্রহরি আবুল কালামের ছেলে।

প্রধান শিক্ষক হোসাইন আহাম্মদ বলেন,গত কিছুদিন ধরে সুমন নিজে ঝাড়ুনা দিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দিয়ে ঝাড়ু দেওয়াতে শুরু করে। কয়েকজন অভিভাবক বিষয়টি দেখতে পেয়ে তারা আমাকে ঘটনাটি অবহিত করে। আমি সুমনকে শিক্ষার্থীদের দিয়ে ঝাড়ু দেওয়াতে নিষেধ করলে সে আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে।ঘটনার সময় দেখি সুমন দাড়িয়ে থেকে বিদ্যালয়ের শ্রেনীকক্ষ দুইজন শিক্ষার্থীকে দিয়ে ঝাড়ু দেওয়াচ্ছে।  নিষেধ অমান্য করে কেন শিক্ষার্থীদের দিয়ে ঝাড়ু দেওয়া হচ্ছে জানতে চাইলে সে ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে গালিগালাজ শুরু করে আচমকা এলোপাথারি কিলঘুষি মেরে মাটিতে পেলে দেয়।আমি চিৎকার শুরু করলে বিদ্যালয়ের অপর শিক্ষকরা এগিয়ে তার পিটুনি থেকে আমাকে রক্ষা করে।

তিনি আরো বলেন,২০১৩ সালে সুমনকে পিয়ন কাম নৈশ প্রহরি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।প্রথম কয়েক বছর ভালোভাবে কাজ করলেও গত কয়েক বছর ধরে সে উশৃঙ্খল আচরন শুরু করে।বিষয়টি বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি, উপজেলা শিক্ষা অফিসার কে অবহিত করা হলে সে আর কখনো করবেনা বলে অঙ্গিকার করে।

অভিযুক্ত সুমনের পিতা আবুল কালাম জানান, প্রধান শিক্ষক হোসাইন আহাম্মদ গত ১৭ বছর ধরে একই বিদ্যালয়ে কর্মরত রয়েছে।প্রায় সে সুমন কে দিয়ে ব্যাক্তিগত কাজ করাতো,গত কিছুদিন থেকে সুমন প্রধান শিক্ষকের ব্যক্তিগত কাজ করতে অসম্মতি জানালে তাকে চাকুরিচ্যুত করার হুমকি দেয়। বিদ্যালয়ের নলকুপটি নষ্ট থাকায় সুমন ঘটনার আগে পানি আনতে যায়,এসময় প্রধান শিক্ষক তাকে না পেয়ে সুমন কোথায় রয়েছে বিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে দেখতে বলে।সুমন পানি নিয়ে ফিরে এলে প্রধান শিক্ষক তাকে গালিগালাজ করলে সেও ক্ষিপ্ত হয়ে পাল্টা গালিগালাজ করে।প্রধান শিক্ষককে মারধরের কোন ঘটনা ঘটেনি।ব্যক্তিগত জেদ হাসিল করার জন্য প্রধান শিক্ষক মারধরের নাটক সাজিয়েছে।

বিদ্যালয়ের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য সিরাজুল হক বলেন, বিদ্যালয়টি আমার ঘরের পাশেই অবস্থিত হলেও ঘটনার বিষয়ে কোন  কিছু প্রধান শিক্ষক আমাকে অবহিত করেনি।আমি লোকমুখে জানতে পেরে প্রধান শিক্ষককে জিজ্ঞাসা করলেও সে আমাকে কিছুই জানায়নি।

সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, মারধরের অভিযোগ এনে প্রধান শিক্ষক পিয়নের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেলে পুলিশ অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে।তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *