সোনাগাজীতে পরীক্ষা নামে অতিরিক্ত ফি ও বকেয়া বেতন আদায়

নিজস্ব প্রতিনিধি,  ২১ আগস্ট

ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বিশেষ মূল্যায়ন পরীক্ষার নামে অতিরিক্ত ফি ও বকেয়া বেতন  নেয়ার অভিযোগ উঠেছে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। চট্টগ্রাম বিভাগীয় শিক্ষা কমকর্তা বলেছেন ১ শ টাকার বেশি ফি নেয়া যাবে না,নেয়া হচ্ছে ৪শ১০ টাকা।

অভিভাবকরা জানান,  সোনাগাজীতে মূল্যায়ন  পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে বকেয়া বেতন আদায় করতে ।এদিকে পরীক্ষার ফি নামে নেয়া হচ্ছে৩ শ৬০ টাকা থেকে ৪ শ১০ টাকা।  সোনাগাজীতে ২৪টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে প্রায় ১০ হাজার ছাত্রছাত্রী রয়েছে। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিশেষ মূল্যায়ন পরীক্ষার নামে লাখ লাখ টাকা পরীক্ষার ফি  হাতিয়ে নিচ্ছেন শিক্ষাকরা।

অর্ধ-বার্ষিকীর সিলেবাস অনুসরণ করে সোনাগাজীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশেষ মূল্যায়ন পরীক্ষা গ্রহণ করছে শিক্ষকেরা। এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে প্রশ্নপত্র ও খাতা শিক্ষার্থীদেরকে বিদ্যালয় থেকে সংগ্রহ করার জন্য ফোন করা হয়। সকল শিক্ষার্থীদেরকে পরীক্ষা ফি  ও মাচ থেকে আগষ্ট মাসে  বেতন   জমা দিয়ে বিদ্যালয় অফিস কক্ষ থেকে প্রশ্ন ও উত্তরপত্র গ্রহণ করার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়। কোরবানীর ঈদের পরের সপ্তাহে সরকারী সাবের পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, আল হেলাল একাডেমী, চর সাহাভিকারী উচ্চ বিদ্যালয় ও সোনাগাজী মডেল  দাখিল মাদ্রাসায় পরীক্ষা গ্রহণ করে বকেয়া বেতন আদায়  করে । শনিবার থেকে সোনাগাজী উপজেলার আরো ২০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণির মূল্যায়ন পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। পরীক্ষা ফি ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পযন্ত  ৩শ১০ টাকা নবম  থেকে দশম শ্রেণি ৪শ ১০ টাকা আদায় করা হচ্ছে। বর্তমান করোনাকালীন সময়ে অভিভাবকদের আর্থিক অবস্থা ভালো যাচ্ছে না। এর মধ্যে পরীক্ষার ফি সাথে বকেয়া বেতন  তাদের জন্য বাড়তি বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক অভিভাবকের ২-৩ জন সন্তান একই বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করছে। তাদের জন্য এটা মরার উপর খাড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক জানান, কিছু  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার ফি ৪ শ থেকে ৫শ টাকা করে নেয়া হচ্ছে ও বকেয়া বেতন আদায় । যা করোনাকালীন সময়ে একজন অভিভাবকের জন্য এ টাকা জোগাড় করা খুবই কষ্টকর। পরীক্ষা ফিসের সাথে বকেয়া বেতনের জন্য চাপ দেয়া হচ্ছে আল হেলাল একাডেমি ৪ হাজার টাকা পযন্ত নিয়েছে।বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছাড়িয়ে দিয়েছে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ না করলে বাষিক পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতে দেওয়া হবে না

সোনাগাজী উপজেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও আহম্মদপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মাঈন উদ্দিন জানান, চট্টগ্রামের ডিজি, জেলা শিক্ষা অফিসার ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের সাথে আলোচনা করে এ পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ ৫ মাস ধরে পড়ালেখা থেকে দূরে সরে গেছে। তাদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করতে মূল্যায়ন পরীক্ষা নেয়া হচ্ছে। এখানে পরীক্ষার ফির জন্য কাউকে বাধ্য করা হচ্ছে না।

মঙ্গলকান্দি বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ বলেন,পরীক্ষার ফির সাথে আগষ্ট মাস পযন্ত বেতন দিতে হবে।পরীক্ষার ফি কোন শ্রেণীতে কত তিনি জানেনা।পরীক্ষার ফি শিক্ষকেরা জানেন বলেন তিনি জানান।

মোয়াজ্জেম হোসেন উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান  শিক্ষক বলেন, পরীক্ষার ফি  ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে  অষ্টম শ্রেণির পযন্ত ৩ শ ৬০টাকা নবম শ্রেণির থেকে দশম শ্রেণির  পযন্ত ৪ শ১০ টাকা। উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. নুরুল আমিন জানান, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বাড়তি ফি না নিয়ে পরীক্ষা নেয়া যেতে পারে। বকেয়া বেতনের জন্য কোন অভিভাবককে ফোন করে চাপ না দেয়ার জন্য শিক্ষার্থীদের নির্দেশ দেন। জেলা শিক্ষা অফিসার কাজী সলিম উল্যাহ বলেন, শিক্ষকেরা চট্টগ্রামে ডিজি সাথে যোগাযোগ করেছে। তিনি  ১ শ টাকার বেশি ফি নেয়া যাবে না বলেছে।বেশি নিলে খতিয়ে দেখা হবে। পরীক্ষার খাতা ও প্রশ ছাত্র- ছাত্রী  বাড়িতে  পাঠিয়ে দিতে হবে। তার স্কুলে আসবে না

উপজেলা নিবাহী অফিসার অজিব দেব জানান,বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *