সোনাগাজীতে গরম রসে পড়লো নাতি, দু-জনকে বান ইউনিটে ভর্তি

(ফাইল ছবি)

প্রতিনিধি, সোনাগাজী, ২৩ জানুয়ারি

ফেনীর সোনাগাজীতে খেজুরের রস জ্বাল দেওয়ার সময় দাদা আবুল হোসেনের (৬৫) কোল থেকে গরম পাত্রে পড়ে যায় সাত মাসের শিশু আশরাফুল। সঙ্গে সঙ্গে আবুল হোসেন নাতিকে বাঁচাতে দুই হাত গরম রসে ঢুকিয়ে তাঁকে দ্রুত তুলে মাটিতে রাখেন। ততক্ষণে শিশু আশরাফুলের শরীর ও আবুল হোসেনের দুই হাত ঝলসে যায়।

 

আজ শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার চর দরবেশ ইউনিয়নের দক্ষিণ চর দরবেশ এলাকায় আবুল হোসেনের বাড়িতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে দাদা-নাতিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। তবে সেখানকার চিকিৎসক তাঁদের দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে প্রেরণ করেছেন। শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক।

 

ফেনীর সোনাগাজীতে খেজুরের রস জ্বাল দেওয়ার সময় দাদা আবুল হোসেনের (৬৫) কোল থেকে গরম পাত্রে পড়ে যায় সাত মাসের শিশু আশরাফুল। শিশুটির মাথাসহ শরীরের ৩৫ শতাংশ ঝলসে গেছে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশুটি এখন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি।

পারিবারিক সূত্র জানায়, সকাল থেকে দক্ষিণ চর দরবেশ এলাকার বিভিন্ন গাছিদের কাছ থেকে পাটালি গুড় তৈরির জন্য রস সংগ্রহ করেন আবুল হোসেন। রস বাড়িতে আনার পর আগুন জ্বালিয়ে বড় পাত্রে রস ঢেলে গরম করে গুড় তৈরি করছিলেন আবুল হোসেনের স্ত্রী। এ সময় আবুল হোসেন তাঁর ছেলে মো. মাসুদের সাত মাস বয়সী ছোট ছেলে আশরাফুলকে কোলে নিয়ে চুলার পাশে দাঁড়িয়ে কথা বলছিলেন। এমন সময় হঠাৎ করে আবুল হোসেনের কোল থেকে শিশু আশরাফুল গরম রসের পাত্রে পড়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে আবুল হোসেন নাতিকে বাঁচাতে দুই হাত গরম রসে ঢুকিয়ে তাঁকে দ্রুত তুলে মাটিতে রাখেন। ততক্ষণে শিশু আশরাফুলের শরীর ও আবুল হোসেনের দুই হাত ঝলসে যায়। পরে তাঁর চিৎকারে বাড়ির লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে দুজনকে দ্রুত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন।

 

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মো. সাদেকুল করিম  বলেন, গরম রসে শিশু আশরাফুলের মাথাসহ শরীরের ৩৫ শতাংশ এবং আবুল হোসেনের দুই হাতসহ শরীরের ১০ শতাংশ ঝলসে গেছে। তাঁদের দুজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক।

 

বিকেলে শিশুর বাবা মো. মাসুদ জানান, আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁর ছেলে ও তাঁর বাবা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *