সৃষ্টিতে তরুণদের প্রাণ সঞ্চারের উদ্যোগ প্রশংসনীয় :ফেনী জেলা প্রশাসক

নিজস্ব প্রতিনিধি,  ফেনী জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজজামান বলেছেন, ‘ফলদ বাংলাদেশ’ নামে তরুণদের সংগঠন পায়ে হেঁটে জেলা-উপজেলায় বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে প্রাণ সঞ্চারের যে পথ দেখাচ্ছে তা প্রশংসনীয়। তিনি বলেন, হাদীসে আছে ‘আগামী দিন কেয়ামত হবে তা জেনেও গাছ লাগাতে হবে।’ গাছ লাগানো হলে ফল যদি অন্য কেউও খায় তাহলে পূন্য হয়। গাছ লাগালে মানুষ অক্সিজেন পায়, ছায়া ও সুশীতল পরিবেশ বিরাজ করে।

প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যময় বাংলাদেশ। আমাদের জন্মস্থানে এমন জলবায়ু বিরাজ করে উদ্ভিদের বিচি পুঁতে রাখলেও গাছ জন্ম নেয়। এটা বাংলাদেশের জন্য বড় নেয়ামত। আমাদের গ্রাম, জনপদ, পাহাড় সবুজে ভরা।

তিনি এও বিশ্বাস করেন, বৃক্ষপ্রেমীরা উদার ও বন্ধুত্বভাবাপন্ন হয়। এটা সব মানুষের মধ্যে হয় না।

জেলা প্রশাসক সবার উদ্দেশ্যে বলেন, আপনাদের বাড়িও আশপাশের জায়গায় ফলজ গাছ লাগাবেন।যেখানে বনায়ন হবে সেখানে বনজ গাছ। ইসলাম ধর্মমতে ইহকাল ও পরকালের কথা বিশ্বাস করে দেশ ও পৃথিবী টিকিয়ে রাখতে হলে বনায়ন করতে হবে।

 

শুক্রবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেলে ফেনী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ‘ফলদ বাংলাদেশ’ এর উদ্যোগে প্রতীকি হিসেবে চারটি ফলদবৃক্ষ রোপণ শেষে সন্ধ্যায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

 

ফলদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কমিটির প্রধান সমন্বয়ক দ্রবিড় সৈকত বলেন, “পুষ্টি অর্থ সবুজ পথ, ফলের গাছেই ভবিষ্যৎ” এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ফলদ বাংলাদেশের আয়োজনে বৃক্ষ পদযাত্রায় ফলের গাছের গুরুত্ব, উপকারিতা এবং পরিবেশ ও বাস্তুসংস্থানের জন্য ক্ষতিকর বৃক্ষেও প্রভাব সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং ফলদ বৃক্ষ রোপনের মাধ্যমে ক্যাম্পাস থেকে খাগড়াছড়ি পর্যন্ত (ময়মনসিংহ, কিশােরগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, কুমিল্লা, ফেনী, চট্টগ্রাম এবং খাগড়াছড়ি)৭টি জেলার,২৪টি উপজেলা সহ দেড় শতাধিক বাজারে ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে যাচ্ছি।

মাহমুদুল আহসান লিমন বলেন- ফলবৃক্ষ মানুষের পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধি করে, আত্মীয়-বন্ধুদের দাওয়াত দেওয়া এবং বাড়িতে ফল পাঠিয়ে দেওয়া বাঙ্গালী সংস্কৃতির অংশ, সেই সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনাই আমাদের লক্ষ।

অন্যদিকে পদযাত্রীদের মধ্যে হুমায়ুন কবির টুটুলের মতে, দেশের পুষ্টি ঘাটতি কমানোর পাশাপাশি নিঃস্বার্থভাবে অপরের অভ্যাস তৈরি করা এবং বিদেশি ক্ষতিকর বৃক্ষের বিপরীতে আমাদের বাস্তুসংস্থানের উপযোগী বৃক্ষকে গুরুত্ব দেয়াই আমাদের লক্ষ।

 

ফলজ গাছরোপণকালে উপস্থিত ছিলেন, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সজল দাশ, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট ফেনীর সাধারণ সম্পাদক সমর দেবনাথ, নজরুল একাডেমী ফেনীর সভাপতি ফখরুদ্দিন আলী আহমেদ তিতু, দৈনিক অজেয় বাংলা সহ-সম্পাদক সুরঞ্জিত নাগ, দৈনিক সংবাদের জেলা প্রতিনিধি শাবিহ মাহমুদ, কবি উত্তম দেবনাথ প্রমুখ।

মহান বিজয় দিবস ১৬ ডিসেম্বর বুধবার সকাল ১০টায় “ফলদ বাংলাদেশ” জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা পদযাত্রা শুরু করেন।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে দলটি, জয় বাংলা ভাস্কর্যে পুষ্প অর্পণ, ক্যাম্পাসে বৃক্ষ রোপন ও বঙ্গবন্ধু ভাস্কর্যের পাদদেশে জাতীয় সংগীত পরিবেশনার পর, ক্যাম্পাস থেকে খাগড়াছড়ি পর্যন্ত ৪০০ কিলোমিটার এর উদ্দেশ্য ফলদবৃক্ষ পদযাত্রার শুরু করেন।

১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস থেকে শুরু করে খাগড়াছড়ি পর্যন্ত ৪০০ কিলোমিটার পৌঁছবে, ৩১ ডিসেম্বর খাগড়াছড়ি শহীদ মিনারে পুষ্প অর্পণ এর মাধ্যমে ফলদবৃক্ষ পদযাত্রা সমাপ্ত হবে।

 

শুক্রবার ফেনী সার্কিট হাউজে রাত্রি যাপন শেষে শনিবার সকালে পায়ে হেঁটে খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে রওয়ানা হবেন।

 

ফলদ বাংলাদেশর এই ফলদ বৃক্ষ পথযাত্রায় অংশগ্রহণ করেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক দ্রাবিড় সৈকত, সেকশন অফিসার মাহমুদুল আহসান লিমন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাতুল মুন্সী, হুমায়ুন কবীর টুটুল, নিউটন চাকমা, শাহীন আলম, সুজালো চাকমা ও রঞ্জিত কুমার।

উল্লেখ্য যে, ২০১৩ সালে ১২জুন সংগঠন এর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করে।

২০১৩ সাল থেকে ২০২০পর্যন্ত ইতেমধ্যে ফলদ বাংলাদেশ সেচ্ছাসেবকবৃন্দ সারা দেশের ৪৬ টি জেলার একাধিক উপজেলা এবং গ্রামে গ্রামে প্রায় ২,৭৫,০০ (দুই লক্ষ পঁচাত্তর হাজার) ফলের বৃক্ষ রোপন করেছে। রোপন পদ্ধতির বিশেষত্বের করণে রোপিত বৃক্ষের ৯৫ ভাগ টিকে আছে এবং ফল দিচ্ছে।

২০৩০ সালের মধ্যে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সারা বাংলাদেশ অন্তত পাঁচ কোটি ফলের গাছ রোপন ও মানুষকে সচেতন করার মাধ্যমে পরিবেশ ও মানসিকতার সমস্যাবলী যথাযথ সমাধান নিশ্চিত করার অবদান রাখা সংগঠনটির লক্ষ্য।

ফলদ বাংলাদেশ বৃক্ষ পদযাত্রা-২০ টিম ২২ তারিখ সকালে কসবা থেকে ব্রাহ্মণপাড়ার দিকে রওনা হয় ভোর ৬.৩০ মিনিটে কসবা ডাকবাংলো থেকে

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *