সহনীয় পর্যায়ে না আসা পর্যন্ত মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে -ফেনীতে সেতুমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধি, ২৭ মে ২০১৮

সহনীয় পর্যায়ে না আসা পর্যন্ত মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান চলতে থাকবে বলে মন্তব্য করে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, তারা মিয়ানমার থেকে ইয়াবা এনে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে দিচ্ছে, এ অবস্থায় র‌্যাব ও পুলিশ জুঁইফুলের গান গাইবে না।
গতকাল রবিবার (২৭ মে) দুপুরে ফেনী সার্কিট হাউসে ঢাকা-চট্টগ্রাম জাতীয় মহাসড়কে যানজট নিরসনকল্পে করণীয় নির্ধারণ বিষয়ক সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ফেনীতে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় পর্যায়ের এ সভায় ফেনীর সাংসদ, চট্টগ্রাম বিভাগের পাঁচ জেলার ডিসি, এসপি, সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রকৌশলী, সরকারী উর্ধত্বন কর্মকর্তা, সেনা কর্মকর্তা, পরিবহন মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ঈদে যানজট নিরসনে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও প্রশাসনকে নির্দেশনা দিয়ে বলেন, ঈদের ১০ দিন আগে এবং ঈদের পর ৫ দিন পর্যন্ত মহাসড়কে কোনো নির্মাণকাজ-খোড়াখুড়ি চলবে না। সিএনজি স্টেশন ২৪ ঘন্টা খোলা রাখার নির্দেশ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ঈদের চার দিন আগে থেকে ঈদের তিন পর পর্যন্ত মহাসড়কে ভারী যানবাহন চলবে না। তবে পচনশীল দ্রব্য, গার্মেন্ট পণ্য ও ওষুধ এর আওতায় পড়বে না।
মন্ত্রী আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে মহাসড়কে কোনো প্রকার যানজট বরদাস্ত করা হবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন। তিনি বলেন, মহাসড়কে যানজটের অন্যতম প্রধান কারণ রং সাইড দিয়ে গাড়ি চলাচল এবং টোল আদায়ের সিস্টেম। তিনি সবাইকে নিয়ম মেনে ধৈর্য্যরে সাথে গাড়ি চালানোর পরামর্শ দিয়ে বলেন, টোল পয়েন্টে যাওয়ার আগে চালকরা যেন টোলের নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা আলাদা করে সাথে রাখেন। যাতে টাকা দেয়া নেয়ায় সময় নষ্ট না হয়।


মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে উদ্দ্যেশ্য করে বলেন, যত প্রভাবশালী মন্ত্রী, এমপি হোক না কেন- রং সাইড দিয়ে গাড়ি চালানো কঠোরভাবে মোকাবিলা করতে হবে। প্রয়োজনে তিনগুণ জরিমানা করতে হবে।
পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ঈদের আগে মেয়াদোত্তীর্ণ কিছু গাড়ি রং করিয়ে সড়কে নামনো হয়। এটা অনৈতিক কাজ। সেগুলি ব্রীজের ওপর কিংবা পথিমধ্যে নষ্ট হয়ে যানজট সৃষ্টি করে। আনফিট গাড়ি সড়কে নামানো যাবে না।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, ফেনীর ফতেহপুর রেলক্রসিং ওভারপাস নির্মাণ কাজের জন্য কয়েকদিন যানজটের সৃষ্টি হয়েছিল। ইতিমধ্যে ওভারপাসের চার লেনের মধ্যে দুই লেন খুলে দেওয়া হয়েছে। নিচের দুটি লেনের একটি আগামী ৫ জুন ও দ্বিতীয়টি ঈদের আগেই ১৫ জুন খুলে দেয়া হবে। আগামী জুলাইয়ের মধ্যেএই ওভারপাসের সব কাজ শেষ হবে এবং চারলেনেই যানবাহন চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। যথাসময়ে কাজ শেষ করায় সেনাবাহিনীকে তিনি ধন্যবাদ জানান।
সেতুমন্ত্রী বলেন, মহসড়কে সড়ক দুর্ঘটনার অন্যতম কারণের মধ্যে ব্যাটারীচালিত রিক্সা, ইজিবাইক চলাচল। নিষিদ্ধ হলেও আদেশ অনাম্য করে সেগুলো চলছে। মোটরসাইকেলও চলে। এতে অনেক নেতাও পেছন থেকে মদদ জোগায়। প্রশাসন যেন তাদের বেআইনী সুবিধা না দেয়।

সভায় উপস্থিত ছিলেন ফেনী-২ আসনের সাংসদ নিজাম উদ্দিন হাজারী, ফেনীর সংরক্ষিত নারী সাংসদ জাহান আরা বেগম, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি, ফেনী জেলা প্রশাসক মনোজ কুমার রায়, পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম সরকারসহ চট্টগ্রাম বিভাগের সকল জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বন্দর- সড়ক বিভাগের প্রকৌশলী, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক নেতৃবন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকালে মন্ত্রী ফেনীর ফতেহপুর রেলক্রসিংয়ের ওভারপাসের কাজ পরিদর্শন করেন। সেখানে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন বিগ্রেডের অতিরিক্ত মহাপরিচালক কর্নেল জাকারিয়া হোসাইন, ফতেহপুর রেলক্রসিং উড়ালসেতু নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক লে. কর্নেল রোমিও নওরিন খান, সড়ক বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী ইবনে আলম হাসান, কুমিল্লা অঞ্চলের অতিরিক্ত
প্রধান প্রকৌশলী মুনির হোসেন পাঠান, চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আফতাব হোসেন খান উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *