শর্শদিতে করোনার অজুহাতে ৫ সন্তানের জননীকে বেওয়ারিশ গোরস্থানে দাফন ! মেয়ের কান্না আজও থামছে না

সৌরভ পাটোয়ারী, ২৫ আগস্ট ২০২০

ফেনীতে করোনার অজুহাতে ৫ সন্তানের জননীকে বেওয়ারিশ গোরস্থানে দাফন করা হয়েছে ! দাদা-দাদু, নানা-নানী তথা বাবার সমপত্তি থাকার পর সমাজের কিছু মানুষ রূপি অমানুষ থেকে রক্ষা পায়নি হতভাগা এক নারী।তাকে দাফন করা হয়েছে ফেনী পৌর কবরস্থানে।কি অপরাধ ছিলো আমার মায়ের এমন জিজ্ঞাসা এক মা হারা কন্যার।হতভাগা মেয়ের কান্না আজো থামছে না। আজ মঙ্গলবার সকালে ফেনী শহরের একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন ফেনী সদর উপজেলার শর্শদি ইউনিয়নের দক্ষিণ আবুপুর গ্রামের মোল্লা বাড়ির মো: কামাল উদ্দিন মোল্লার ভাগ্নে।

কিডনীজনিত রোগে মারা যাওয়া এক নারীকে সম্পত্তি বিরোধের জের ধরে করোনা রোগী আখ্যায়িত করে লাশ দাফনে বাঁধা দেয়া, লাশের সাথে থাকা স্বজনদের মারধর ও লাশবাহী গাড়ি ভাংচুরের ঘটনায় প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে মামলা করায় বাদীকে স্বপরিবারে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে আসামীরা।
লিখিত অভিযোগে মো. কামাল উদ্দিন মোল্লা জানান- তারা বাবা আবদুর রশিদ একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। ১৯৭৩ সালে তিনি মারা যাওয়ার পর একই বাড়ির আবু আহমদ, মো: আবু সাইদ রাহাত ও মেজবাহ উদ্দিন সর্মাট গংরা আমাদের জায়গা সমপত্তি দখল করে তাদের নামে বিএস খতিয়ান তৈরী করে। ওই খতিয়ানের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। এ নিয়ে বিরোধের জের ধরে গত ১৩ এপ্রিল হাজেরা বেগম কিডনী রোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকা সরকারী ন্যাশনাল কিডনী ইনস্টিটিউটে মারা যায়। মৃত্যুর পর লাশ নিয়ে হাসপাতাল থেকে গ্রামের বাড়ি সংলগ্ন আবুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পশ্চিমে বেলালের দোকানের সামনে লাশবাহী গাড়িটি পৌঁছলে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ সভাপতি নুর হোসেন সোহাগ, মেজবাহ উদ্দিন সর্মাট আবু আহমদ ও আবু সাইদ রাহাতসহ ১০-১২ জন দুবৃত্ত অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা লাশবাহী মাইক্রোবাসটি (ঢাকা মেট্টো চ ১৫-৯৯৫৮) ভাংচুর করে এবং লাশের থাকে স্বজনদের মারধর করে। এ সময় কামাল উদ্দিন মোল্লা হামলাকারীদের হাতেপায়ে ধরে বলি ’আমার বোন করোনায় নয়, কিডনী রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন’। এসময় হামলায় কামাল উদ্দিন মোল্লা, তার ভাগ্নি তাসলিমা আক্তার, আবুল কাশেম, আবুল হাশেম ও আবুল খায়ের গুরুতর আহত হই। খবর পেয়ে পুলিশ ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জানে আলম ভ‚ঞা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাসরীন আক্তার, ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জানে আলম ভ‚ঞা ও ফেনী পৌরসভার ৬নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর ফয়সালের সহযোগিতায় জানাযা শেষে ফেনীর পৌর বেওয়ারিশ গোরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় মামলা করায় আসামীরা ক্ষুব্ধ হয়ে অস্ত্র ও মাদক দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেয়াসহ স্বপরিবারে হত্যার হুমকি দিচ্ছে। এই ঘটনায় ৫ আগস্ট ২০২০ ফেনী মডেল থানায় ৮ জনকে আসামী করে একটি জিডি করা হয়। (ডায়েরী নং-১৫৭৪)। জিডিটি তদন্ত করছেন এসআই শহীদ বিশ্বাস। এছাড়াও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছেও জিডি করি।

কামাল উদ্দিন মোল্লা কান্না জড়িত হয়ে বলেন- নিজের পৈত্রিক সমপদ থাকা ও বোনের অসিয়ত থাকার পরও তাকে পৈত্রিক গোরস্থানে লাশ দাফন করতে পারিনি। যা ভাই হিসেবে আমার জন্য অত্যন্ত বেদনাদায়ক। এ রকম ঘটনা যেন আর কারো জীবনে না ঘটে । এছাড়াও তাদের ভয়ে ৪৫ বছর ধরে নিজের বসত ভিটায় আসতে পারছি না পরিবারের লোকজন নিয়ে। অসহায় পরিবারটি ন্যায় বিচার ও শান্তিপূর্ণভাবে পৈত্তিক বসত ভিটায় বসবাস করতে পুলিশ প্রশাসনের যথাযথ পদক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নিহত হাজেরা বেগমের স্বামী আবদুস সালাম, মেয়ে আসমা আক্তার, তাসলিমা আক্তার, ছেলে আবুল হাশেম ও আবুল খায়েরসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *