লেপ-তোষক ব্যস্ত সময় পার করছে মৌসুমী কারীগর

সৌরভ পাটোয়ারী,
ফেনীতে ক্রেতার চাহিদা মাথায় রেখে লেপ-তোশক তৈরীতে ব্যস্ত সময় পার করছে ফেনীর মৌসুমী কারীগর-রা। এদেশে ঋতৃ-প্রকৃতির নিয়মে পৌষ ও মাঘ মাস শীতকাল হলেও অগ্রহায়ণ মাসের শীতেই মানুষ কাবু। শহরের চেয়ে গ্রামাঞ্জলে শীতের মাত্রা কিছুটা বেশি। তাই ফেনী শহরের লেপ তোষকের দোকানগুলোতে বাড়ছে কেনা-বেচা। তার সাথে পাল্লা দিয়ে কারিগররাও এ মুহুর্তে ব্যস্ত সময় পার করছে।
ফেনীর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, শীতের আগমনে ফেনীর বিভিন্ন মোটা কাপড়ের দোকান ও লেপ তোষকের দোকানে ক্রেতা সমাগম বেশি। বিশেষ করে লোপ তোষকের দোকান গুলোতে চলছে ধুমধাম বেচাকেনা। একটু বিশ্রামের সময় নেই লেপ তোষক ও জাজিম কারিগরদের। শীতকে সামনে রেখে মোটা কাপড়ের দোকান গুলোতেও বসানো হয়েছে নতুন পসরা।
দোকানীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ফেনীতে প্রায় অর্ধশত দোকানে নিজের পছন্দের লেপ তোষক কিনছে। আর কেউ এসেছেন অর্ডার দিতে। দোকানীরাও বিভিন্ন রং ও মানের লেপ তোষক ও জাজিমের পসরা সাজিয়ে ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন।
শহরের শহিদ মহিদুল্লাহ কায়সার সড়কে গিয়ে দেখা যায়, এখানে বেশ কয়েকটি লেপ তোষক দোকানের গোডাউন রয়েছে। মৌসূমী ব্যাস্ততার কারনে এখানকার কারিগরদের সাথে যেন কথা বলার কোন সুযোগ নেই। কেউ সুঁই দিয়ে সেলাই করছে। কেউ লাঠি দিয়ে তুলা ধুনছে। আবার কেউ কেউ শো-রুমে এগুলো পাঠানোর কাজ করছে।
শহরের বিভিন্ন ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ফেনীতে রেডিমেট সিঙ্গেল সাইজের লেপ বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ২শ থেকে ১ হাজার ৮শ পর্যন্ত। রেডিমেট সেমি ডাবল সাইজের লেপ বিক্রি হচ্ছে দেড় হাজার থেকে আড়াই হাজার টাকা পর্যন্ত। এছাড়াও কেউ কেউ ফ্যামেলী সাইজের ডাবল লেপ ক্রয় করছেন দুই হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা দাম দিয়ে। অনেক শৌখিন ক্রেতা গুণগত মানের নিশ্চয়তার জন্য অর্ডার দিচ্ছেন নিজের পছন্দ সই রং ও কাপড়ের দিয়ে লেপ তোষক ও জাজিম বানানোর জন্য। এেেত্র দেড় হাজার থেকে তিন হাজার টাকার মধ্যে বিভিন্ন সাইজের লেপ তোশকের অর্ডার দিচ্ছেন তারা।
দাগনভূঞা সিলোনিয়া বাজারের প্রগতি রায়হান বেডিং স্টোরের কারিগর জানান, তুলার মান ও পরিমাণের ওপর নির্ভর করে লেপ তৈরির খরচ। একটি ডাবল লেপ বানাতে ৩ থেকে ৪ কেজি তুলা লাগে। এ বছর জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই লেপ-তোষক তৈরিতে খরচ বেড়েছে ৩শ’ থেকে ৩৫০ টাকা পর্যন্ত। প্রতিটি লেপ বিক্রি করার পর ২ থেকে ৪শ টাকা পর্যন্ত লাভ হয় বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *