রাজাপুরে নীতি বহির্ভূত অতিরিক্ত ইজারা আদায়ের অভিযোগ

দাগনভূঞা প্রতিনিধি, ২৫ ফেব্রুয়ারী
ফেনী জেলার দাগনভূঞা উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নের রাজাপুর বাজার ইজারাদার জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে বাজারে সরকারি নির্ধারিত ছাড়াও কয়েক গুণ বেশি ইজারা আদায় করার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবাদে গত হাটদিন বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ররি) থেকে ইজারা প্রদান বন্ধ করে দিয়েছে খুচরা ব্যবসায়ীরা।

এ বাজারে সাধারণ কৃষক ও জনসাধারণ কৃষিপণ্য বিক্রি করতে গিয়ে নাজেহাল হচ্ছেন। অতিরিক্ত খাজনা দিতে গিয়ে তাঁদের নাভিশ্বাস উঠছে। সরকারি দপ্তরে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না।
এটি এখন উপজেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি বাজার ।প্রতি রোববার ও বুধবার এখানে হাট বসে। প্রতি হাটে গরুর মাংস, মুরগী, মাছ, শুটকী, ফল, পান, সবজীসহ কৃষকেরা তাঁদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করেন।বাজারে দুই শতাধিক দোকান রয়েছে। কিন্তু হাটের দিন আরো প্রায় ১০০টি দোকান বসে।

কিন্তু বাজারটিতে সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে খাজনা আদায়কারী জাহাঙ্গীর অতিরিক্ত খাজনা আদায় করছেন। এতে সাধারণ কৃষক ও পাইকারি ব্যবসায়ীরা অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। এ বিষয়ে খুচরা ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ রাজাপুর বাজার কমিটি, কোরাইশমুন্সী পুলিশ ফাঁড়ি, দাগনভূঞা থানা বরাবর অভিযোগ করেছেন।

সম্প্রতি হাটে গিয়ে দেখা যায়, সাধারণ ক্রেতা ও পাইকারি ব্যবসায়ীদের ভিড়ে বাজারটি জমজমাট। কাঁচামাল ব্যবসায়ী মো. ফারুক বলেন, মাল কেনার সময় খাজনা দিতে হয় আবার বিক্রি করার সময় খাজনা দিতে হয়। এর পর আবার অরিরিক্ত ইজারা প্রদান করলে পূঁজিই শেষ হয়ে যায়।

বর্তমানে অতিরিক্ত ইজারা দেয়ার ভয়ে হাটবারে আসেন না ছোটখাটো সবজি বিক্রেতা ও সাধারন খেটে খাওয়া কৃষকরা। এতে করে তাজা শাক, সবজি, বিভিন্ন দেশিয় ফল খাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে এলাকাবাসী।

১৫০ টাকার সবজি বিক্রেতার থেকে ১২০ টাকা ইজারা নেয়ার অভিযোগও রয়েছে। জোরপূর্বক অতিরিক্ত ইজারা আদায় করলে, ব্যবসায়ীরা এর প্রতিবাদ করায় বাজার থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি ও প্রয়োজনে পাঁচগাছিয়া বাজারের ব্যবসায়ীদের এখানে বসাবে বলে হুমকি-ধমকি দেয় জাফর আহম্মদ রিয়াজ ও তার বাবা জাহাঙ্গীর আলম।

সাধারণ ব্যবসায়ীরা তাদের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে ঐক্যবদ্ধ হয়। করোনা ভাইরাস লকডাউন থাকাকালীন কোরাইশ মুন্সি পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ দিলে তাৎক্ষণিক ইনচার্জ মোজাম্মেল হক রাজাপুর পরিদর্শনে বাজারে আসে। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ আমলে নিয়ে, সব ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নির্দিষ্ট হারে ইজারা দেয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। পরবর্তীতে বাজারের সাধারণ ব্যবসায়ীরা একত্রিত হয়ে বাজার ইজারা নেওয়ার জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে এবং সিদ্ধান্ত মোতাবেক তারা নতুন করে বাজার ইজারা নিতে ২৪ ফেব্রুয়ারী সকাল দাগনভূঞা উপজেলায় টেন্ডার ফরম জমা দেয়।

বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক জহির উদ্দিন রিপন জানান, ব্যবসায়ীদের এসব অভিযোগ সত্য। আমি চাই বাজারের শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরে আসুক, এলাকার সাধারণ খেটে খাওয়া কৃষক বাজারমুখী হোক। এসব সমস্যা সমাধানে অনেক বৈঠক হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে জাফর আহমদ রিয়াদ বলেন ২৪ তারিখ সকাল দাগনভূঞা উপজেলার শান্তিপূর্ণভাবে আমার বাবা জাহাঙ্গীর আলম, নজরুল ইসলাম বাঙ্গালী, মাহববু ইসলাম, ও আব্বাস বাজার ডাকের টেন্ডার ফরম জমা দেয় । কে বা কারা আব্বাস ও তার সমিতির সদস্যদের উপর হামলা করেছে এই বিষয়ে আমি অবগত নই।

টেন্ডার ড্রপকারী মাহবুবুল ইসলাম। তার কাছে এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, আমি সকাল দশটায় টেন্ডার ফরম ড্রপ করে চলে আসছি। যাকেই বাজার ইজারা দিক এতে আমার আপত্তি নাই ।

এ ব্যপারে জানতে চাওয়া হলে দাগনভূঞা থানার ইনচার্জ(ওসি) ইমতিয়াজ আহম্মেদ জানান, এ বিষয়ে তিনি লিখিত কোনো অভিযোগ পাইনি।

এ বিষয়ে সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে পুলিশ প্রশাসন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও উর্ধতন কর্মকর্তার কাছে সুদৃষ্টি কামনা করেন সাধারন ব্যবসায়ীরা।

এ বিষয়ে রাজাপুর ইউপি চেয়ারম্যার আ ন ম কাসেদুল হক বাবর ফেনীর তালাশকে জানান, ঔতিহ্যবাহী এ বাজারটি অতিরিক্ত ইজারা আদায়ের জন্য হারাচ্ছে ঐতিহ্য। পূর্বের ইজারাদার মাহবুব ও বর্তমান ইজারাদার জাহাঙ্গীর দুজনই অতিরিক্ত টাকা দিয়ে ইজারা এনে মুনাফার লোভে সাধারন ব্যবসায়ীদের উপর নীতি বহির্ভূত ইজরা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। বাজারের ডাক নিয়ে এক পক্ষ মহড়া দিয়েছে। কোনো পক্ষই সঠিক পথে হাটছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *