রাখাইনে উদ্বাস্তদের ঘরে ফেরার আহ্বান মিয়ানমার সেনা প্রধানের

রাখাইনে অভ্যন্তরীণ ভাবে উদ্বাস্ত হওয়া মানুষদের বাড়ি-ঘরে ফেরার আহ্বান জানিয়েছেন মিয়ানমার সেনাবাহিনীর প্রধান মিন অং হাইং। তবে সেনাবাহিনীর ক্লিয়ারেন্স অপারেশনের নৃশংসতায় বাংলাদেশে পালিয়ে আসা চার লাখেরও বেশি রোহিঙ্গাদের বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি তিনি। রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে প্রথমবারের মতো মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সঙ্গে রাখাইনে বৈঠক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল।

২৫শে আগস্ট সহিংসতা শুরুর পর বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো রাখাইন রাজ্য সফর করেন মিয়ানমারের সেনাপ্রধান মিন অং হিলাইং। সেখানে এক ভাষণে মিয়ানমার সেনাপ্রধান এলাকার মানুষদের বাড়ি-ঘরে ফেরার আহ্বান জানালেও রোহিঙ্গাদের জাতিগত নিধনের বিষয়ে কোনো কথা বলেননি।

মিয়ানমার সেনাবাহিনী সেনা প্রধান মিন অং হিলাইং বলেন, আমাদের লোকদের পুনর্বাসনের জন্য প্রথমে তাদের নিজ গ্রামে ফিরে আসতে হবে। গুরুত্বপূর্ণ হলো আমাদের মানুষদের নিজেদের এলাকায় পাওয়া। কোনো মানুষ যদি আমাদের জাতির না হয় তাহলে তাদের জন্য আমরা কিছুই করতে পারবো না। পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হলে প্রয়োজনে নিরাপত্তা আরো জোরদার করা হবে। অনেকে রয়েছে যারা কেবল সমস্যাই সৃষ্টি করছে। এ ব্যাপারে আমাদের সজাগ থাকতে হবে। একইদিন রাখাইনের সিত্তে শহরে রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে মিয়ানমারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রথমবারের মতো বৈঠক করে যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রতিনিধি দল। এসময় রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে মিয়ানমার সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানায় ওয়াশিংটন। পাশাপাশি রাখাইনে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘমেয়াদি কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানানো হয়।

এসবের মধ্যেই রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলমানদের জন্য আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থা রেডক্রসের পাঠানো ত্রাণ সামগ্রী আটকে দেয়ার খবর পাওয়া গেছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, সিত্তের বন্দরে প্রায় ৫০ টন ত্রাণসামগ্রী নৌকায় বোঝায় করার সময় অস্ত্র নিয়ে বাধা দেয় কয়েকশ’ বিক্ষোভকারী। এসময় ত্রাণবাহী নৌকা লক্ষ্য করে পেট্রোলবোমা ছুড়ে মারা হয় বলেও জানানো হয়। এদিকে, ভারতে বসবাসরত রোহিঙ্গা মুসলিমরা শরণার্থী নয় বরং মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা অবৈধ অভিবাসী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংয়ের এমন বক্তব্যের প্রতিবাদ ও রোহিঙ্গাদের রক্ষার দাবিতে নয়াদিল্লিতে বিক্ষোভ করেছে বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন।

মুসলিম সংগঠনগুলো জানায়, মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য ভারতীয় সরকারের প্রতি দাবি জানানো হচ্ছে। কেউ নিজের ইচ্ছায় দেশ ছেড়ে পালিয়ে আসে না। ভারত তাদের প্রতিবেশী দেশ। রোহিঙ্গারা মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচতে এই দেশে পালিয়ে এসেছে। তাদের রক্ষা করা উচিত আমাদের। এছাড়া তারা আরো বলেন, ভারত সরকার রোহিঙ্গাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য যে হুমকি মনে করছে, আদালতে সেটা প্রমাণিত হলে আমরা এই দাবি থেকে সরে আসবো। কিন্তু আমি মনে করি, সরকার সেটা পারবে না, কারণ জীবন বাঁচাতে পালিয়ে আসা এই অসহায় মানুষগুলো নিরস্ত্র। আমরা বিশ্বাস করি, তারা জঙ্গিবাদী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়বে না।

মিয়ানমারের কাছে ভারতের সামরিক সরঞ্জাম বিক্রির বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে সংবাদ মাধ্যম। মিয়ানমারের নৌ প্রধানের নয়াদিল্লি সফরে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে ভারতীয় কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানায় রয়টার্স। এমন একটি সময়ে ভারত এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছে, যখন রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের উপর সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের জন্য বিশ্বব্যাপী সমালোচনা চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *