মাদকের তথ্য দেয়ায় পুত্র খুন করে স্বামীকে হত্যার চেষ্টা- অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

ছাগলনাইয়া  সংবাদদাতাঃ “চোরাকারবারী ও মাদক  বিরুদ্ধে আইনশৃংখলা বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করায় আমার পুত্র ছাগলনাইয়া থানা পুলিশের সোর্স আবু আইয়ূব সবুজকে (২৬) হত্যা ও আমার স্বামী বিজিবির সোর্স মোঃ আবুল কাসেমকে (৫২) প্রথমে হত্যার চেষ্টা ও পরে ফেন্সিডিল দিয়ে ফাঁসিয়ে দিয়েছে তারা।

২৮মার্চ বুধবার সকাল ১০টায় ছাগলনাইয়া প্রেস কাবে এক সংবাদ সম্মেলনে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন, ছাগলনাইয়া পৌরসভার মটুয়া গ্রামের আবুল কাসেমের স্ত্রী গোল নাহার বেগম। লিখিত বক্তব্যে গোল নাহার আরো বলেন,
আমার স্বামী মোঃ আবুল কাসেম বিজিবির সোর্স হিসেবে এবং পুত্র আবু আইয়ূব সবুজ পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করে আসছে।
এতে উভয় সোর্সের সঙ্গে ছাগলনাইয়া উপজেলার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারীদের বিরোধ দেখা দেয়। এই বিরোধের জের ধরে এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারীরা ২০১৭ সালের ২৫ অক্টোবর জয়নগর গ্রামের হাসু হাজী বাড়ীর সামনে আমার স্বামী বিজিবির সোর্স মোঃ আবুল কাসেমের উপর হামলা চালিয়ে বেদম মারধর করে হত্যার চেষ্টা চালায়। এই ঘটনায় ফেনীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা হয়েছে (নং-২৪৩/১৭)।
৫ ফেব্রুয়ারী বিকাল ৩টায় মটুয়া রাস্তার মাথায় এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারীরা আমার পুত্র পুলিশের সোর্স আবু আইয়ূব সবুজের উপর হামলা চালিয়ে মারধর করে মোটর সাইকেলযোগে তাকে অপহরনের চেষ্টা চালায়। সবুজের আর্তচিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে আসলে হামলাকারীরা সবুজকে মোটর সাইকেল থেকে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় সবুজকে প্রথমে ছাগলনাইয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরে চটগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং অবস্থার অবনতি হলে ফৌজদার হাট বক্ষব্যাধি হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ফেব্রুয়ারী রাত ৮টায় সবুজ মৃত্যুবরণ করে।
এ ব্যাপারে ১৯ ফেব্রুয়ারী নিহত সবুজের পিতা আবুল কাসেম বাদী হয়ে এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারী কফিল উদ্দিন, আবুল হাসেম প্রকাশ বোমা হাসেম, জিয়াউল হক জিয়া, মোঃ জিয়া, ভাবলু, জয়নাল আবেদীন, আবদুল কাদের ও কামাল উদ্দিনসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫জনকে আসামী করে ছাগলনাইয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে (নং-২৩)।
১৯ মার্চ রাত ১০টায় ছাগলনাইয়ার সীমান্তবর্তী মটুয়া গ্রামে আমাদের আবদুর রহমান মোল্লা বাড়ির ঘর ও ঘরের আশপাশ এলাকায় অভিযান চালায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি রেইডিং পাটি। এসময় তারা আমার স্বামী বিজিবির সোর্স আবুল কাসেমকে আমাদের ঘর থেকে আটক করে নিয়ে তাদের গাড়ীতে হ্যান্ডকাপ পড়িয়ে বসিয়ে রাখে। কি কারনে আমার স্বামীকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে জিজ্ঞাসা করলে আটক কারীরা জানায় আমার স্বামীর নাম রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে আসা মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকায়। পরে রেইডিং পাটির সদস্যরা আমাদের বাড়ি থেকে আধা কিলোমিটার দূরে আমার ভাশুর আবু ছৈয়দের বাড়ির পুকুরের দক্ষিণ পূর্ব কোনের পাড় থেকে ৯৮ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করে এবং ওই ফেনসিডিল দিয়ে আমার স্বামীকে চালান দেয়। কিন্তু রহস্যজনক কারনে মামলায় ঘটনাস্থল দেখানো হয় আমাদের বসত ঘরের পশ্চিম পাশের পুকুর পাড়। এব্যাপারে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক মোঃ ইকবালুর রহমান বাদী হয়ে ছাগলনাইয়া থানায় আমার স্বামী আবুল কাসেমকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করে। যাহা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও সাজানো।
আমার স্বামী আবুল কাসেম মাদক ব্যবসা করেনা। সোর্স হিসেবে মাদক ব্যবসায়ীদেরকে ধরিয়ে দেয়। তাই তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এই মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। পরবর্তীতে আমরা জানতে পেরেছি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে আসা তালিকার আবুল কাসেম আর আমার স্বামী আবুল কাসেম কাসেম এক ব্যক্তি নয়। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে আসা তালিকার আবুল কাসেমের বাড়ি বাঁশপাড়ায় আর আমাদের বাড়ি হচ্ছে মটুয়া।
“চোরাকারবারী ও মাদক ব্যবসায়ীদের হাত অনেক লম্বা” ওদের বিরুদ্ধে আইনশৃংখলা বাহিনীকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করায় আমার পুত্র ছাগলনাইয়া থানা পুলিশের সোর্স আবু আইয়ূব সবুজকে (২৬) হত্যা করে এবং আমার স্বামী বিজিবির সোর্স মোঃ আবুল কাসেমকে (৫২) প্রথমে হত্যার চেষ্টা চালায় ও পরে ফেন্সিডিল দিয়ে ফাঁসিয়ে দেয়।
বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করার জন্য গোল নাহার প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *