ভাষাশহীদ সালাম পরিবারের চাওয়া-পাওয়ার ৬৬ বছর

সৌরভ পাটোয়ারী, সালামনগর ঘুরে এসে :

ফেনী শহর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার পশ্চিমে দাগনভুঞা উপজেলার মাতুভূঞার সালামনগরে ভাষাশহীদ সালামের বাড়ি। শহীদ সালামের একটি ছবি ছাড়া এখানে নেই কোনো স্মৃতিচিহ্ন। রয়েছে একটি জাদুঘর ও গ্রন্থাগার। কিন্তু প্রতিষ্ঠার আট বছরেও তা পূর্ণতা পায়নি। দেখভালের জন্য একজন কর্মচারী থাকলেও ভবনটি খোলা হয় না সময়মতো। দর্শনার্থীরা তাই হতাশ হয়ে ফিরে যান বলে অভিযোগ রয়েছে।

অন্যদিকে ৬৬ বছরের ফেনীর ভাষাশহীদ আবদুস সালামের কবর চিহ্নিত করা হলেও করা হয়নি নামকরণ ।
সালামনগর যাওয়ার রাস্তাটি ফেনী নদীর ভাঙনের ফলে চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কিন্তু তা সংস্কারে কোনো উদ্যোগ নেই নি সংশ্লিষ্ট বিভাগ। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ আংশিক সংস্কার করলেও নদীর ভাঙনের হুমকির মুখে একমাত্র রাস্তাটি। এভাবে উপেতি রয়ে গেছে সালাম পরিবারের অনেকগুলো দাবি। শিক্ষা গ্রহনের জন্য প্রাথমিক বিদ্যালয় থাকলেও
নেই উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ । ২০১৮ সালে এসে ভাষা শহিদ সালামের ছোট আবদুল করিম জানালেন তার শেষ ইচ্ছার কথা । তার শেষ দাবী এখানে গ্রামবাসীর জন্য একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করা । যেটির নাম হবে ভাষা শহিদ সালাম কলেজ ।

এ ছাড়া বিভিন্ন সমস্যায় আটকে আছে ফেনীর ভাষাশহীদ আবদুস সালাম স্মৃতি জাদুঘর ও
গ্রন্থাগারটি। অভিযোগ রয়েছে জাদুঘর ও গ্রন্থাগার বন্ধ থাকে বেশিরভাগ সময়। ফেব্রুয়ারি মাস ছাড়া সালামনগরের খবরই রাখে না কেউ। ফেব্রুয়ারি আসলে এখানে বেড়ে যায় সাংবাদিকের আনাগোনা ।

১৯২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার লণপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে ছাত্র জনতার বিােভ কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে শহীদ হয়েছিলেন তিনিও।

এই শহীদের স্মৃতি রায় জন্মস্থান ফেনীতে নির্মাণ করা হয়েছে স্মৃতি জাদুঘর, ফেনী স্টেডিয়াম, জেলা পরিষদের কমিউনিটি সেন্টারসহ নানা স্থাপনা। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ঢাকার রাজপথে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে বিােভে যোগ দেন আবদুস সালাম। পুলিশের গুলিতে আহত হয়ে দেড় মাস হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে মারা যান ভাষার এই যোদ্ধা।

ফেনী জেলা পরিষদের তত্ত্বাবধানে গ্রন্থাগার ও জাদুঘর দেখভালে কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া হলেও দায়িত্ব পালনে তারা অনেকটাই ব্যর্থ। ৫২র ভাষা শহীদের স্মৃতিতে নির্মিত গ্রন্থাগার ও স্মৃতি জাদুঘরটি সঠিক রণাবেণ করে নতুন প্রজন্মের কাছে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরতে কর্তৃপ আরো উদ্যোগী হবে। এমন প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।

ভাষাশহীদ আবদুস সালামের ভাই আবদুল করিম ফেনীর তালাশকে জানান, গ্রামের নাম সালামনগর। অপরদিকে ৬৬ বছরের ফেনীর ভাষাশহীদ আবদুস সালামের কবর চিহ্নিত করলেও করা হয়নি নামকরন। সরকারিকরণ করা হয়নি গ্রন্থাগার ও জাদুঘরটিও।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *