বিয়েতে রাজি না হওয়ায় রত্নার গলায় ৩বার চুরি চালায় ঘাতক বিপ্লব

তালাশ ডেক্স রিপোর্ট  >>

 

এসএসসি পরীক্ষার্থী শিরিন সুলতানা রত্না হত্যা ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত আবদুল্লাহ আল নোমান বিপ্লব দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. সিরাজ উদ্দিন ইকবালের আদালতে এ জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।

 

ফেনী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায় আসামি বিপ্লবকে ফেনীর জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের আদালতে হাজির করা হয়। সেখানে সে হত্যার দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দিতে সে জানায়, লক্ষ্মীপুর জেলার রামগতি থানার আ.স.ম আবদুর রব কলেজের এইচএসসি ১ম বর্ষের ছাত্র আবদুল্লাহ আল নোমান বিপ্লব প্রায় সময় ফেনীতে খালার বাসায় বেড়াতে আসতো। তার খালা শহরের বারাহিপুর নাজির রোড এলাকার আনোয়ার উল্যাহ সড়কের সুলতান হক ম্যানশনের চতুর্থ তলার ভাড়াটিয়া। খালার বাসায় বেড়াতে আসার সুবাদে ওই বাড়ির মালিকের মেয়ে তৃতীয় তলার বাসিন্দা সৌদি প্রবাসী আনিছুল হকের ছোট মেয়ে শিরিন সুলতানা রত্নার প্রেমে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক চলছিলো। রত্নার এসএসসি পরীক্ষা শুরু হলে তাদের যোগাযোগ কিছুটা কমে যায়। গত কয়েক দিন আগে বিপ্লব ফের খালার বাসায় বেড়াতে আসে।

গত ১লা মার্চ বৃহস্পতিবার রত্নার কৃষি শিক্ষার ব্যবহারিক পরীক্ষা ছিল। পরীক্ষা শেষে রত্না ফোন করে বিপ্লবকে তাদের ঘরে যেতে বলে। ওই সময় ঘরে রত্না একা ছিল। তার মা পার্শ্ববর্তী একটি বাড়িতে গিয়েছিলো। বিপ্লব প্রেমিকা রত্নার ঘরে যাওয়ার পর তাদের বিয়ে নিয়ে আলাপ হয়। এক পর্যায়ে এবিষয়টি নিয়ে কথাকাটাকাটিও হয়। পরে সে অভিমান করে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়।

কিছুক্ষণ পর বিপ্লব ওই বাড়ির পার্শ্ববর্তী ‘ফ্যামেলি বাজার’ দোকান থেকে ৭৫ টাকা দিয়ে একটি ছুরি কিনে ফের রত্নার ঘরে যায়। এসময় রত্নার সঙ্গে ফের ঝগড়া হলে রত্নাকে পর পর কয়েকটি থাপ্পড় দেয়। পরে রত্না বিছানায় পড়ে গেলে বিপ্লব ছুরি বের করে রত্নার গলায় তিনবার ছুরি চালায়। রত্না মারা গেলে সে বাথরুমে গিয়ে ছুরিটি পানিতে ধুয়ে ফেলে। পরবর্তীতে সে রত্নার ঘর থেকে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়ার হাতে ধরা পড়ে।

 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফেনী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. নাছির উদ্দিন জানান, রত্নার মা সালমা আক্তার বাদী হয়ে বিপ্লবকে আসামি করে শুক্রবার থানায় মামলা করেছে। ওই মামলায় বিপ্লবকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যায় জবানবন্দি শেষে বিপ্লবকে ফেনীর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

 

এদিকে শুক্রবার বিকালে রত্নার মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে পুলিশ। সন্ধ্যায় ফেনী সদর উপজেলার ফরহাদনগর ইউনিয়নের কাটামোবারক ঘোনা গ্রামে রত্নার গ্রামের বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে মরদেহ দাফন করা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *