বিলোনিয়া স্থলবন্দরে চলছে একমুখী বানিজ্য

সৌরভ পাটোয়ারী ……

ফেনীর বিলোনিয়া স্থলবন্দরে পন্য রপ্তানি ও যাত্রী ভ্রমণের বিপরীতে গত দুই অর্থবছরে ৭১ লাখ ৫ হাজার বৈদেশিক মুদ্রা (মার্কিন ডলার) আয় করেছে বাংলাদেশ। লাভজনক প্রতিষ্ঠান হলেও ৯ বছরেও কোন অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি বিলোনিয়া স্থলবন্দরের।
জানা যায়, ২০০৯ সালের ৪ অক্টোবর বাংলাদেশ-ভারত দুই দেশের মধ্যে আমদানি-রপ্তানির মধ্যে সম্পর্ক বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে বিলোনিয়া স্থলবন্দরের কার্যক্রম শুরু হয়। আনুষ্ঠানিকভাবে দুই দেশের উধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বন্দর কার্যক্রম শুরু হলেও অবকাঠামোগত উন্নয়ন, লোকবল, গুদাম ও মালামাল পরিমাপের যন্ত্র সংকটসহ বিভিন্ন সমস্যার কারণে ব্যবসায়ীদের মধ্যে বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনায় তেমন কোন আগ্রহ সৃষ্টি হয়নি। আর্থিক লেনদেনের জন্য নেই সরকারি-বেসরকারি ব্যাংকের কোন শাখা।

অবকাঠামো সমস্য সমাধান করতে এলাকায় ১৫ একর জমি অধিগ্রহনের উদ্যোগ নেয়া হলেও আইয়ুব হোসেন নামে এক ব্যক্তি উচ্চ আদালতে ভূমি অধিগ্রহনের উপর স্থগিতাদেশ চেয়ে একটি রিট আবেদন করায় অধিগ্রহনের কার্যক্রম থমকে দাঁড়ায়। গত ৯ বছরে কোন পন্য আমদানি না হলেও পন্য রপ্তানির বিপরীতে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা আয় করে লাভজনক হয়ে উঠেছে বিলোনিয়া স্থলবন্দর।

বিলোনিয়া শুল্ক ষ্টেশান সূত্র জানায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে বিলোনিয়া স্থলবন্দর দিয়ে ৯৯ হাজার ২শ ২৪ মেট্্িরক টন সিমেন্ট, পাথর, চুন, খৈল, পিভিসি ডোর, ঢেউটিন, এমএস রড, মশারি রপ্তানি করে ৬৫ লাখ ৪৩ হাজার ৪শ ৬৭ মার্কিন ডলার আয় করে বাংলাদেশ। বাংলাদেশি টাকায় ৫২ কোটি ১৫ লাখ ৩ হাজার ৬শ ৮৯ টাকা। ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে ৮৯ হাজার ১শ ৬৫ মেট্্িরক টন রপ্তানি পন্যের বিপরীতে ৫৬ লাখ ১৪ হাজার ২শ ২২ মার্কিন ডলার আয় করে। বাংলাদেশি টাকায় ৪৪ কোটি ৭৩ লাখ ৪৯ হাজার ৮৩ টাকা।
এছাড়া ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ১৭৬১ জন বাংলাদেশি, ৬২৪ জন বিদেশি যাত্রীর ১০ লাখ ৯১ হাজার ৫শ টাকা, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ১৩২৩ জন বাংলাদেশি, ৫০৯ জন বিদেশি যাত্রীর ১০ লাখ ৯১ হাজার ৫শ টাকা ভারত ভ্রমন কর আয় করে বিলোনিয়া শুল্ক ষ্টেশান।

এদিকে পুরাতন একটি পরিত্যক্ত ভবনে চলছে বিলোনিয়া শুল্ক ষ্টেশনের কার্যক্রম। বিলোনিয়া স্থল বন্দরের অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ায় কোন পণ্য পাঠাচ্ছে না ভারত।

বিলোনিয়া শুল্ক ষ্টেশানের রেভিনিউ এসিস্ট্যান্ট মো.আমিনুল হক জানান, ব্যাপক পন্য রপ্তানির ফলে বিলোনিয়া স্থলবন্দর লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। তিনি আরো জানান- শুল্ক ষ্টেশানের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের নিরাপত্তা সমস্যা রয়েছে।

রাজস্ব কর্মকর্তা মোজাম্মেল হক জানান, এ বন্দরে একমূখী বাণিজ্য চলছে। বন্দর চালুর পর থেকে ভারতে ইট, সিমেন্ট, পাথর, রড, শুটকী, মশারিসহ বিভিন্ন পন্য রপ্তানী করে বিপুল পরিমান বৈদেশিক মুদ্রা আয় হয়েছে। বিলোনিয়া স্থলবন্দর একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়ন হলে এখানে ব্যবসা বানিজ্যের আরও সম্প্রসারণ ঘটবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *