বিদ্যুতের দাম বাড়ানো যাবে না

সরকার একের পর এক পরিবেশ বিধ্বংসী ও ব্যয়বহুল বিদ্যুৎ উৎপাদনের দিকে যাচ্ছে। এসব প্রকল্পে সীমাহীন দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি উৎপাদন খরচ আরও বাড়ছে। আর এসবের দায় সাধারণ মানুষের ঘাড়ে চাপানোর জন্য বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দাম বাড়ানো হচ্ছে। গতকাল রোববার তেল-গ্যাস-খনিজ সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির এক মতবিনিময় সভায় এই অভিযোগ করেন অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ।

রাজধানীর মুক্তি ভবনে ‘বাংলাদেশের গ্যাসসম্পদ, বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি এবং সরকারি পরিকল্পনা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় দেশের জ্বালানি বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন বাম সংগঠনের নেতারা অংশ নেন। তাঁরা সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে বিইআরসির প্রস্তাবের প্রেক্ষাপটে গণশুনানিতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় কমিটির সদস্যসচিব আনু মুহাম্মদ বলেন, বিদেশ ও বিভিন্ন কোম্পানির ওপর নির্ভর করে সরকার জ্বালানি মহাপরিকল্পনা তৈরি করছে। এতে দফায় দফায় গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়বে। তিনি জনস্বার্থে জ্বালানি মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের দাবি জানান। তিনি বলেন, জাতীয় কমিটি ইতিমধ্যে খসড়া মহাপরিকল্পনা হাজির করেছে। এটি নিয়ে আলাপ-আলোচনা করে মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে পারলে দেশ ও জনগণের স্বার্থ রক্ষা পাবে।

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, একসময় বলা হয়েছিল যে দেশে গ্যাসের সংকট নেই। তখন লক্ষ্য ছিল গ্যাস রপ্তানি করা। এখন বলা হচ্ছে, গ্যাসের সংকট আছে। এখনকার লক্ষ্য হলো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করা। তিনি রপ্তানির সুযোগ রেখে সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের চুক্তি বাতিল, জনগণের শতভাগ মালিকানা নিশ্চিত এবং গ্যাস উত্তোলনে যথাযথ ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

মতবিনিময় সভা শুরু হওয়ার আগে পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক মোশাহিদা সুলতানা। তিনি বলেন, সরকারের গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ অনেক ধীরগতিতে এগোচ্ছে। অথচ গ্যাসনির্ভর বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে কম খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়।

গণসংহতি আন্দোলনের আহ্বায়ক জোনায়েদ সাকী বলেন, সরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোকে সঠিকভাবে চালাতে ও দুর্নীতিমুক্ত করতে পারলে খরচ অনেক কমানো যাবে। এ জন্য বিদ্যুতের দাম না বাড়িয়ে উল্টো কমানো সম্ভব।

সভায় আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক মো. শাহ আলম ও দলের নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) বজলুর রশিদ ফিরোজ ও বাম নেতা টিপু বিশ্বাস।

অন্য বক্তারা বলেন, কয়েক দিন আগে বিদ্যুৎ নিয়ে অনুষ্ঠিত গণশুনানিতে এটা প্রমাণ করা হয়েছে যে প্রচলিত ব্যবস্থায় বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ ৭ হাজার ৮৪৩ কোটি টাকা কমানো যেত। এর ফলে বিদ্যুতের দাম খুচরো পর্যায়ে ইউনিটপ্রতি ১.৫৬ টাকাও কমানো সম্ভব। বক্তারা বিদ্যুৎ খাতে অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতি দূর করে রাষ্ট্রীয় খাতকে প্রাধান্য দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও দাম কমানোর দাবি জানান। বক্তারা গ্যাস খাত উন্নয়নেও উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *