২২ দিনেও খোঁজ মেলেনি ফেনীর প্রবাসী মামা ও মাদ্রাসা ছাত্র ভাগ্নের

প্রতিনিধি, ফেনী

1 July ,2019,

ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার দেবরামপুর গ্রামের বাসিন্দা ও প্রবাসী মোহাম্মদ আতিক উল্যাহ (৫০) ও তাঁর ভাগনে মোহাম্মদ হুজাইফা তাহমিদ (১৬) গত ২২ দিন ধরে নিখোঁজ রয়েছেন। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তাঁদের কোনো খোঁজ মেলেনি। এই ঘটনায় ফেনীর দাগনভূঞা থানা ও ঢাকার খিলগাঁও থানায় পৃথক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে।

 

নিখোঁজ ছেলের বাবা স্থানীয় মসজিদের ঈমাম হাফেজ আবুল বসর ফেনীর তালাশকে জানান, নিখোঁজ মোহাম্মদ আতিক উল্যাহ প্রায় ১৫ বছর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিতে ব্যবসা করেন এবং সপরিবার সেখানে বসবাস করেন।

গত রমজানের কয়েক দিন আগে একাই গ্রামের বাড়িতে আসেন। তাঁর বোনের পরিবারের সঙ্গে উপজেলার উত্তর চণ্ডীপুর ছিলেন। তাঁর  ছেলে মোহাম্মদ হুজাইফা তাহমিদ স্থানীয় উত্তর চন্ডিপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসার দশম শ্রেণিতে লেখাপড়া করতো।তার রোল নং-  ।

গত ১৩ জুন দুপুরে মোহাম্মদ আতিক উল্যাহ আবুধাবি যাওয়ার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন। সঙ্গে ভাগনে হুজাইফা তাহমিদকেও নেন। তাঁরা ঢাকায় এক দিন থাকবেন। তারপর আতিক উল্যাহ আবুধাবি চলে যাবেন, আর ভাগনে তাহমিদ বাড়ি চলে আসবেন এমনটাই কথা ছিল। সকাল ১১টায় বাড়ি থেকে বের হয়ে তাঁরা ফেনীতে স্টার লাইন পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন দুপুর আড়াইটায়।একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ঢাকার খিলগাও হাড়ি ভাঙ্গা এলাকায় জনৈক জাহাঙ্গীরের বাসা উঠার জন্য তাকে ফোন দেন। কিন্তু কিছুক্সণ পর ফোন বন্ধ পায় জাহাঙ্গির।

এরপর থেকেই মামা-ভাগনে নিখোঁজ রয়েছেন। দুজনের সঙ্গে থাকা দুটি মুঠোফোনও বন্ধ । ঢাকা ও এলাকার সম্ভাব্য সব আত্মীয়স্বজনের কাছে খোঁজ করেও তাঁদের কোনো হদিস মেলেনি। আতিক উল্যাহ আবুধাবিতেও যাননি।তাহমিদও বাড়ি ফিরে আসেননি।

 

খোঁজাখুঁজির পর ওই প্রবাসীর ভগ্নিপতি ও ভাগনে মোহাম্মদ হুজাইফা তাহমিদের বাবা মোহাম্মদ হাফেজ আবুল বাশার ১৫ জুন দাগনভূঞা থানায় জিডি করেন। এ ছাড়া অপর এক আত্মীয় হাফেজ মো. মুনছুর আলম ১৭ জুন ঢাকার খিলগাঁও থানায় জিডি করেছেন।

নিখোঁজ তাহমিদ পিতা আবুল বশর ছেলে হারিয়ে দুঃছিন্তায় দিন কাটাচ্ছেন। অপর দিকে আবুধাবী প্রবাসী মোহাম্মদ আতিক উল্যাহ স্ত্রী ও ৪ ছেলে মেয়েরা পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যাক্তিকে হারিয়ে বার বার জ্ঞান হারাচ্ছেন ।

 

দাগনভূঞা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. ছালেহ আহম্মদ পাঠান বলেন, জিডি করার পর পুলিশের বেতারের মাধ্যমে সব থানায় খবর পাঠানো হয়েছে। কিন্তু তাঁদের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

দাগনভূঞা থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) সালেহ আহম্মদ পাঠান ফেনীর তালাশকে  জানান, ঢাকার খিলগাও গিয়ে দুজনের সিম ও মোবাইল হয়ে যায়। যার ফলে ট্রাকিংয়ে ফলাফল ঝিরো। পুলিশ এ বিষয়ে আন্তরিক যে কোনো মহুর্ত্বে রেজাল্ট পাওয়া যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *