বাবুর মায়ের কান্না এখনো থামছে না !

শহর প্রতিনিধিঃ
ফেনী শহরে পাঠানবাড়ী রোডে চাঞ্চল্যকর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার মোঃ ইউনুছ বাবু (২২) হত্যা মামলার প্রধান আসামী বাবুর বন্ধু মোঃ ইউনুছ নবী রাকিবকে গ্রেফতার করতে না পারায় ও মামলার অগ্রগতি নিয়ে অসন্তোস প্রকাশ করেন বাবুর মা রেজিয়া বেগম। ৫৩ দিন অতিবাহিত হলেও রাকিবকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এখনো পূত্র হত্যার শোক কাটিয়ে উঠতে পারেনি বাবুর মা। তিনি জানান, সেলাইয়ের কাজ ও টিউশনি করে বাবুর জন্য টাকা পাঠাতেন। নিজেদের কষ্ট হলেও বাবুকে তা বুঝতে দিতেন না। আজ বাবু নেই তা কোনভাবেই মানতে পারছেন না তিনি। এই সময় হত্যাকারীরা তার স্বপ্ন ভেঙ্গে দিয়েছে। প্রতিদিন বাবুর কথা বারবার মনে পড়ে তার। ছেলের ছবি নিয়ে অজোরে কাঁদেন তিনি।
এদিকে রাকিবকে গ্রেফতার ও কেয়ারটেকার শাহীনের বিচার এবং প্রকৃত ঘটনা উৎঘাটন করতে ১২ নভেম্বর ফেনীর একটি চাইনিজ রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন করেন। রাকিবকে গ্রেফতার ও এসআই বিকাশ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ২৫ অক্টোবর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল সাথে দেখা করে লিখিত অভিযোগ দেন রেজিয়া বেগম। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বিষয়টির ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন বিপিএমকে দায়িত্ব দেন। গত ১৭ অক্টোবর এলাকাবাসী ও বাবুর স্বজনেরা রাকিবকে গ্রেফতারের দাবীতে ফেনী শহীদ মিনারের সামনে মানববন্ধন করে।
নিহত পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবার রাতে শাহীন একাডেমীর বাসা থেকে রাকিব ও শাহরিয়ার সাথে বের হয় ইউনুস বাবু। বের হওয়ার পর আর বাসায় ফেরেনি বাবু। দুইদিন পর তাসপিয়া ভবনের সেফটিক ট্যাংক থেকে মিলল বাবুর লাশ। এ ঘটনায় নিহত বাবুর মা রেজিয়া বেগম বাদী হয়ে ১১ অক্টোবর সকালে ফেনী মডেল থানায় মোঃ ইউনুস নবী রাকিব ও তাসপিয়া ভবনের কেয়ারটেকার মোজাম্মেল হক শাহীনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরো ৪/৫ জনকে আসামী করে মামলা করে। মামলার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর সুদ্বীপ রায়। মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর সুদ্বীপ রায় কেয়ারটেকার মোজাম্মেল হক শাহীনকে ১২ অক্টোবর ৭ দিন ও ১৯ অক্টোবর ২ দিনসহ মোট দুই দফায় ৯ দিনের রিমা-ে এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করেন। ২১ অক্টোবর বুধবার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালতে বাবুকে হত্যা দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারা জবানবন্ধী দেয় কেয়ারটেকার শাহীন।

এদিকে পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের কদলগাজী রোডের রেনু হাজারী বাড়ির নুরুল আলমের ছেলে মোঃ ইউনুছ নবী রাকিব মামলা দায়েরের পর থেকে পলাতক রয়েছে। ৫৩ দিনেও মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা তাকে গ্রেফতার করতে না পারায় তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর সুদ্বীপ রায় জানান, মামলার আসামী রাকিবকে গ্রেফতারে পুলিশ অভিযান অব্যহত রয়েছে। মামলার এজহারনামীর অপর আসামী তাসপিয়া ভবনের কেয়ারটেকার মোজাম্মেল হক শাহীন বর্তমানে কারাগারে রয়েছে। এর আগে শাহরিয়ারের উপর হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার দায় স্বীকার করে ১০ অক্টোবর আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী প্রদান করেছিল কেয়ারটেকার শাহীন।

বাবুর মা রেজিয়া বেগমের দাবী, রাকিবসহ আরও কয়েকজন বাবুকে বাসা হতে ডেকে এনে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর লাশ গুম করতে ওই ভবনের সেফটিক ট্যাংকে ফেলে দিয়েছে। সুযোগ থাকা সত্ত্বেও পুলিশ রাকিবকে গ্রেফতার করেনি। বরং ফেঁসে যাওয়ার ব্যাপারে রাকিবকে সতর্ক করেছিল এসআই বিকাশ চক্রবর্তী।

প্রসঙ্গত, গত ১০ অক্টোবর রাতে শহরের পুরাতন রেজিস্ট্রি অফিসের মনির উদ্দিন সড়কের তাসপিয়া ভবনের সেফটিক ট্যাংক থেকে চীনের আনুহ ইউনিভার্সিটি বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়–য়া ইউনুস বাবুর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে ৯ অক্টোবর ভোরের দিকে একই ট্যাংক থেকে বাবুর বন্ধু শাহরিয়ারকে আহতাবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় ভবনের কেয়ারটেকার শাহীনকে গ্রেফতার করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *