বাংলাদেশের জিডিপি গ্রোথ ৭.২%

শেখ তাজ উদ্দিন চৌধুরী

বাংলাদেশের জিডিপি গ্রোথ কি উন্নয়নের পরিমাপক? বাংলদেশের গ্রোথ ৭.২%। অথচ আপনি অবাক হবেন আসলে বহু খাতে গ্রোথ ১০% এর বেশি। প্লাস্টিক খাতে, শিক্ষা ব্যয়ে, স্বাস্থ্য ব্যয়ে, গাড়ির পার্টস আমদানিতে, ঔষধ খাতে, কৃষি কেমিক্যাল খরচে, বিদেশী খাবার আমদানিতে, কাগজ আমদানীতে, ফ্যাশন পণ্য ও কাপড় আমদানীতে রাষ্ট্রের গ্রোথ দুই অংকের বেশি, হ্যা কোন কোন খাতে গ্রোথ ১৫ থেকে ২০%। কথা হচ্ছে এই গ্রোথ কি পজিটিভ নাকি নেগেটিভ এটা ভেবেছেন? যত গুলো নেগেটিভ খাত আছে তার প্রায় সবখানেই গ্রোথ দুই অংকে! অবিশ্বাস্য সত্য এটাই! যেভাবে নদী ও পানি দূষণ, বায়ু দুষণ আর খাদ্যে ভেজাল বাড়ছে, তাতে করে দুই অংকের গ্রোথ পাওয়া নতুন নতুন খাত তৈরি হবে কোন সন্দেহ নাই। ফলে জিডিপি গ্রোথ অব্যহত থাকবে। কথা হচ্ছে এটাই উন্নতির একমাত্র পরিমাপক কিনা? খোজ নিয়ে দেখুন আড়াই কোটি জনতা এখনও অতি দারিদ্র সীমায় বাস করে। খোজ নিয়ে দেখুন ধনী গরবী ব্যবধান হ্রাসের হিসাবে গ্রোথ আছে কিনা কিংবা ক্যালরি কঞ্জাম্পশনের ইনডেক্সে আদৌ কোন গ্রোথ আছে কি না! উন্নয়নের গল্প সেদিন বোধগম্য হবে যেদিন গ্রাম ও নগরীতে জীবন শঙ্কা মুক্ত হবে, যেদিন নারী ধর্ষিত হবে না, যেদিন রাষ্ট্রীয় সেবা ঘুষ মুক্ত হবে, যেদিন অটোমেটেড পেমেন্ট সাপেক্ষে সেবা নাগরিকের ঘরে পৌছে যাবে।নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ হবে দুর্নীতিমুক্ত করা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে,ব্যাংকিং তথা সেবাখাতে শৃংখলা ফিরিয়ে আনা,সমাজে সর্বত্র সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা,জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলা করে পরিবেশবান্ধব শিল্প কারখানা গড়তে বেসরকারী উদ্যোক্তাদের পাশে দাঁড়ানো।আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতা প্রশ্নাতীত।কিন্তু সব কিছুর জন্য একজনের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকার যে প্রবনতা শুরু হয়েছে তা এসব বিষয়ে সমাধানের পথ বের করতে কতটুকু সহায়ক হবে তাও ভাবতে হবে।এবার মন্ত্রীসভা প্রশংশিত হয়েছে ঠিকই,কিন্তু মন্ত্রীমহোদয়দের কাজের পরিধি এবং ভুমিকা মুল্যায়ন করার সময় এখনও আসেনি।তবে তাদের প্রো-একটিভ হয়ে নিজেদের যোগ্যতা প্রমানের সুযোগ রয়েছে।অর্থনৈতিক মুক্তির পাশাপাশি দারিদ্র বিমোচনের এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে এগিয়ে যাক বাংলাদেশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *