ফেনী রাজাঝি দীঘির পাড়ে পর্ণো ভিডিও ‘র জমজমাট ব্যবসা

নিজস্ব প্রতিনিধি,

ত্রিশ টাকা দিলে মেমোরিতে লোড করে দেয়া হয় নীল-পর্ণো ছবি( ভিডিও)। নেই কোনো বয়স বিবেচনা । স্কুল পড়ুয়া শিশু-কিশোর বাদ নেই সেখানে। এ চিত্র ফেনী প্রশাসনের নাকের ডগা ফেনী রাজাজির দীঘির পূর্ব পাড়ের । কাপড় দোকানীর ফাঁকে একটি কম্পিউটার পিসি, একটি মনিটর নিয়ে বসে আছে একজন কিশোর / যুবক।  চাহিবা মাত্র তিনি লোড করে দিচ্ছেন পর্ণো ভিডিও। শতাধিক বখাটে যুবক এখানে এ অবৈধ কাজটি করে ফেনীতে অবক্ষয় ছড়াচ্ছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা দিন দিন পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত হয়ে পড়ছে। একটি মহল এসব কোমলমতি শিক্ষার্থদের মাঝে খুব কৌশলে ছড়াচ্ছে এই ব্যাধি। এমনকি গৃহবধূরাও বাদ যাচ্ছেন না কুচক্রিদের টার্গেট থেকে। সামান্য লাভের আশায় এর সুদূর প্রসারী ক্ষতিটি চোখে পড়ছে না মহলটির।

সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, রাজাজির দীঘির দুপাশেই ফুটপাত দু-জন এক সাথে পায়ে হাটার জায়গা নেই, এখানে বসবাসরত দোকানীর কোনো পণ্য দেখলে পছন্দ হোক-না-হোক দাম হাঁকতে হবে, না হলে দোকানীর গাল-মন্দ শুনতে হবে । আর নারীরা শিকার হতে হয় যৌন হয়রানীর।

এর ফাঁকে বসে নীল ছবির ব্যবসা করছে কতিপয় বখাটে।

নাম না প্রকাশ করার শর্তে স্থানীয় বাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, মোবাইলে এক জিবি মেমোরি কার্ডে গান লোড করতে ৩০ টাকা ও দুই জিবির উপরে লোড করতে গ্রাহকের কাছ থেকে নেওয়া হয় ৪০ টাকা। অধিক ক্রেতা সংগ্রহের জন্য গান লোডের সময় পর্নো ছবিও মেমোরিতে দিয়ে দেওয়া হয়।

আরেক কম্পিউটার ব্যবসায়ী জানান, সম্প্রতি উপজেলার কিশোর ও যুবকদের চেয়ে স্কুল কলেজের কিছু ছাত্রী এবং স্বামী বিদেশে আছে এমন কিছু গৃহবধূ এসব পর্নো ছবি মোবাইলে ভরে নিতে বেশী আগ্রহী। এসব গ্রাহক তাদের মোবাইলে প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার নতুন কিছু পর্নো ছবি লোড নিতে আসেন বলেও জানান তিনি।

ব্যবসায়ীরা কৌশলে এসব গ্রাহকদের পর্নো ছবির প্রতি আকর্ষিত করে থাকেন। তারা গান লোডের সময় ইচ্ছা করে পর্নো ছবি ভরে দেন। এদের মধ্যে অনেকেই পরবর্তীতে তাদের কাছে পর্নো ছবির গ্রাহক হয়ে ফিরে আসেন।

২৮ বছর বয়সী সায়লা (ছদ্মনাম) নামে এক গৃহবধূ অভিযোগ করে বলেন, ‘আমি উপজেলা সদর বাজারের এক মোবাইল সার্ভিসিং ও গান লোডের দোকানে বিভিন্ন ধরনের গান মোবাইলে নিতে আসি। গান বাড়ি গিয়ে দেখি আমার মেমোরি কার্ডে গানের চেয়ে বেশি পর্নো ছবি দেওয়া হয়েছে। পরের দিন দোকানদারকে জিজ্ঞেস করলে, সে জানায় ভুল করে ওসব ছবি চলে গেছে।’

আর এসব গান লোডের ব্যবসায়ীরা প্রশাসনের নজর এড়াতে তাদের নিজস্ব কম্পিউটারে সরাসরি পর্নো ছবি না রেখে আলাদা পেন ড্রাইভ বা সিডিতে রাখেন। গ্রাহক আসলে তখন সেখান থেকে দেওয়া হয়।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখানে বেশ কয়েকবার অভিযান চালালেও ফের গড়ে উঠে পর্ণো ব্যবসা ।

সচেতন মহল  অনৈতিক এ সব

রোধে দ্রুত

প্রতিকার

চান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *