রামপুরে ভরাটকৃত পুকুরের মাটি অপসারণ করতে পরিবেশ অধিদপ্তরের নির্দেশ

নিজস্ব প্রতিনিধি,  ৩১ জানুযারীি

 ফেনীর রামপুরে ঐতিহ্যবাহী ভূঁইয়া বাড়ির পুকুর দখল করে আবর্জনা ফেলে ভরাট ও পাড়ের উপর  বালু ফেলার কারণে পরিবেশ দূষণে পানি নষ্ট হয়ে গেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভরাটকৃত পুকুরের মাটি অপসারণ করতে ভরাটকারীদেকে সময় বেধে দিয়েছে ফেনীস্থ পরিবেশ অধিদপ্তর।অন্যথায় বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইন ১৯৯৫ সংশোধিত ২০১০ পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা ১৯৯৭ অনুযায়ী  প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান পরিবেশ অধিদপ্তর ফেনী উপ-পরিচালক।

 

২০০০ সালের জলধারা সংরক্ষণ আইনের (২)চ অনুযায়ী জেলাশহর, পৌর এলাকাসহ সলিল পানি এবং বৃষ্টির পানি ধারণ করে এমন ভূমি ও প্রাকৃতিক জলধার এর আওতাভুক্ত , তার আলোকে ব্যক্তি মালিকানাধীন পুকুর ভরাট করে আইন অমান্য করায় গত ১৭ জানুয়ারি ২০২১ ইং তারিখে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা হয়েছে ।

একই সাথে বলা হয় আইন অমান্যকারী ফিরোজা বেগমকে আগামী দুই মাসের মধ্যে অংশীদারদের সমন্বয় পুকুরপাড় নির্ধারণ করতে হবে। এবং শুধুমাত্র  পাড়ের অংশ অবকাঠামো বা অন্য কোন কাজে ব্যবহার করা যাবে। তাছাড়া পাডের অংশ ব্যতীত পুকুরের অভ্যন্তরে ভরাটকৃত মাটি বালি ময়লা-আবর্জনা নিজ উদ্যোগে অতি দ্রুত অপসারণ করে এ অধিদপ্তরকে অবহিত করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো।

জানা গেছে ফেনী শহরের রামপুর ভুইয়া বাড়ি রোডস্থ রাম পুর মৌজার সিএস ৩৩ নং খতিয়ানের ২৫৯৯, ২৬০০ দাগ, এস এ ৯১৭ নং খতিয়ানের ২৩৬৪, ২৩৬৫ দাগ, হাল- বিএস ডিপি ১৩টি খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত ৭২০২ দাগের ১১০.৩২ শতাংশ ভূমির  এই পুকুরটিতে শহরের হাজার হাজার মানুষ গোসল করে, মসজিদের মুসল্লিরা ওযু করে  থাকে। এ পুকুরে যৌথভাবে মাছ চাষ করেছে।

কিন্তু বালি ভরাটের পর থেকে মারা গেছে শত শত মাছ । পুকুরের পানি ব্যবহার করার অযোগ্য হয়ে পড়ছে।

অপরদিকে প্রতিপক্ষের দাবী মাছ মারার গ্যাস ট্যাবলেট প্রয়োগ করে নিজেরা মাছ মেরে  আমাদেরকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।তাছাড়া মূল্যবান এ জায়গাটিতে পূর্বে যারা  পুকুরের পাড় দখল করে দোকান ঘর করার কারনে বর্তমানে অন্যপক্ষ ভরাট করেছে। এতে দু-পক্ষ সমান দোষী । 

স্থানীয়রা জানান,  এ পুকুরটি হতে ফেনীর ফায়ার সার্ভিস এর গাড়ি আগুন নেভানোর  জন্য পানি সংগ্রহ করে। এ পানি পৌরসভার গাড়ি করে ফেনী শহরের ধূলোবালি নিবারনসহ ডিভাইডারের গাছে ব্যবহার করে থাকে।

এ ছাড়া এ পুকুরটির পাড় রক্ষা করার জন্য ফেনী পৌরসভার অর্থয়ানে দু দফায় ৩৭ লাখ টাকা বরাদ্দ করে গাড় ওয়াল নির্মাণ করে।

রামপুর ভূঞা বাড়ির এ পুকুরটি ভরাট করার  ফলে পানি নষ্ট হয়ে  মাছগুলো মরে ভেসে উঠছে বলে অভিযোগ উঠছে। মারা যাওয়া মাছে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এবং  এতে পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। জনগণের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে এবং ভুক্তভোগীরা  জেলা প্রশাসক, উপ-পরিচালক পরিবেশ অধিদপ্তর ফেনী,  সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফেনী সদর ও ফেনী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে মানববন্ধনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। 

ভূমির ক্রয়সূত্রে মালিক ইমাম রকি ফেনীর তালাশকে জানান, মূল্যবান এ জায়গাটিতে পূর্বে যারা  পুকুরের পাড় দখল করে দোকান ঘর করার কারনে বর্তমানে অন্যপক্ষ ভরাট করেছে। এতে দু-পক্ষ সমান দোষী । 

পুকুরের অপর  অংশীদার মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাদের ভূঞা, ও মো. সাজাহান এ ব্যপারে ফেনীর তালাশকে জানান, আমরা  সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রতিকার চেয়ে আবেদন করায় ফেনীর পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ পুকুরের অংশে  ভরাটকৃত মাটি দুই মাসের মধ্যে অপসানের জন্য অপর অংশীদার ফিরোজা বেগমকে নির্দেশ প্রদান করেন। অন্যথায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে কর্তৃপক্ষ।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *