ফেনীর তালাশে সংবাদ প্রকাশের পর সেই নুরজাহানকে হাসপাতালে ভর্তি করালেন কাউন্সিলর বাহার

 নিজস্ব প্রতিনিধি, ৮ নভেম্বর

জনপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল ফেনীর তালাশ এ সংবাদ প্রকাশের পর মাত্র দুই ঘন্টার মধ্যে ফেনী শহরের গাজী ক্রসরোডে ড্রেনের উপর বসবাসকারী সেই নুরজাহানকে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে । সেখানে তার চিকিৎসা চলছে। ফেনী পৌরসভা সাত নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর বাহাউদ্দিন বাহার ফেনীর তালাশ কে জানান। গত ৭ অক্টোবর দুপুরে ফেনীর তালাশ লাইভে  নুরজাহানকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদন  দেখামাত্র আমি তাকে ওখানে গোসল করিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করায়।

বর্তমানে তাকে স্যালাইন এবং ইনজেকশনসহ যাবতীয় ঔষুধপত্র সরবরাহ করা  হয়েছে । নুরজাহানের চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। কাউন্সিলর বাহার এজন্য ফেনীর তালাশের সম্পাদকে এ রকম অনুসন্ধানী সংবাদের জন্য ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। বর্তমানে নুরজাহান ফেনী সদর হাসপাতালে পুরাতন বিল্ডিং এর নারীর ওয়ার্ডের তিন নম্বর পেইন বেডে রয়েছেন। নুরজাহান ফেনীর তালাশ কে জানান তিনি একটি ঘর চান। এ ছাড়া সমাজের বিত্তবানদের প্রতি তিনি একটি ঘরের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন।

এর আগে  উক্ত প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়……

তিন বাই পাঁচ ফিটের একটি কাঠের চৌকিতে দীর্ঘ দুই বছর শুয়ে আছে ছিন্নমূল নুরজাহান।নিচে ফেনী পৌরসভার ড্রেন। সেখানে মশা, মাছি ও পোকা কিলবিল করছে।অসহনীয় ড্রেনের দূর্গন্ধে নাকাল এলাকাবাসী পাশের রাস্থা দিয়ে হাঁটার সময় নাক চেপে ধরে হাটে।অর্থচ অসহায় চিহ্নমূল নুর জাহান আক্তার(৫৫) দীর্ঘ দুই বছর শুয়ে আছে ড্রেনের উপরই।

স্থানীয় মানুষের দেয়া একটি বালিশ, একটি কাঁথা ও একটি কম্বলই তার সম্বল। প্রথম দেখে মনে হলো এটি কোনো লাশ এখানে পড়ে আছে, নিথর দেহ, একটু পরে নড়চড় দেখে বুঝা গেলো মানুষটি জীবিত আছে।চৌকির এক পাশে কিছু খাদ্য দেওয়া আছে খাদ্য, সেগুলো বাসি হয়ে গেছে অনেক আগে।তারপরও নুরজাহার সেগুলো খেয়ে ক্ষুদা নিবারণ করে। বাসি ধূলোবালি মিশ্রিত খাবারগুলো মাছিও খাচ্ছে নুর জাহানও খাচ্ছে। এসব খাবার খেয়ে নুরজাহান ডাইরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গেছে। দীর্ঘদিন অভুক্ততা ও দুষিত পরিবেশে থাকার কারণে তার পা দুটো অকেজোসহ বিভিন্ন রোগাক্রান্ত হয়ে গেছে সে । এখন সে উঠে বসলেও দাড়াতে পারে না।

সে জানায় তার বাবার নাম সেকান্তর মিয়া মায়ের নাম মাসুদা খাতুন। তার মাও ভিক্ষবৃত্তি করে খায়।তার গ্রামে নাম ফেনীর বারাহীপুর। দারিদ্র পরিবারের জীবনের প্রাথমিক সূচনা।অন্যের বাসা-বাড়িতে গৃহ পরিচারিকার কাজ করতে করতে বড় হয়। এক সময় স্বামী এক সন্তান ও এক ছেলে সব ছিলো।

কালক্রমে স্বামী ছেলে-মেয়ে সবাই মারা গেছে।এ পর্যায়ে সে রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ে এবং রোগাক্রান্ত হওয়ার পরে কেউ আর বাসায় কাজ দেয় না।এরপর নেমে পড়ে ভিক্ষবৃত্তিতে।এক সময় ভিক্ষবৃত্তিও বন্ধ হয়ে যায়।এরপর ফেনী পৌরসভা ৭ নং ওয়ার্ডের গাজীক্রস রোডের হাসান আলী ভূঞা জামে মসজিদের পাশে মালেক মিয়ার ঘরে সামনে ড্রেনের উপর একটি চৌকিতে দিনাতিপাত করতে থাকে। বর্তমানে নুরজাহান সেখানে থাকে আদপেটা খেয়ে না খেয়ে পড়ে থাকে। সে এখন বিনা চিকিৎসায় ধুকে ধুকে মরছিল।  এভাবে গত দুই বছর ধরে বসবাস করছে ছিন্নমূল এ নারী । বৃদ্ধা নুরজাহান ওখানে বৃষ্টি হলে ভিজে রোদে আবার শুকায় এভাবে চলছিল তার জীবন যাপন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *