ফেনীর জমিদার বাড়িগুলো আজ রুপকথার গল্প (১ম পর্ব)

সৌরভ পাটোয়ারী >> ফেনীর ঐতিহাস-ঐতিহ্যে কালের স্বাক্ষী হয়ে দাড়িয়ে আছে জমিদারদের পুরানো চিতা মন্দির ,কবর, বাস ভবন, রাজকীয় পুকুরঘাট, দিঘী নালা ও বাসস্থান। কোথাও আবার দখল হয়ে যাচ্ছে সেই শেষ স্মৃতি চিহ্ন টুকুও। রাজনৈতিক পট পরিবর্তন, ক্ষমতার পালাবদল মাঠ-ঘাট পুকুর বাড়ি দখল করছে জোতদাররা প্রভাবশালী নেতা কর্মীরা। কোথায়ও আবার বির্বতনের ধারায় পুরাতন ভবন ভেঙ্গে গড়া হচ্ছে নতুন অট্রালিকা। বই বা ম্যাগাজিনে জমিদারদের স্মৃতির বিষয়ে কোনো রকম লেখা বা স্থিরচিত্র স্থান না পাওয়ায় নতুন প্রজন্মের কাছে পুরাতন জমিদার বাড়ি শুধুই ধাঁধা ও রুপ কথার গল্পের মতো শোনায়।

 

ফেনীর মানচিত্র দলিল, মৌজা ও নকশা থেকে জানা গেছে, সাবেক জমিদারদের বিশাল আকারের দিঘী-পুকুর, বাড়ি ও এক খন্ড জমির আয়তন ছিল ১০০ শতক থেকে ১০০০ শতক পর্যন্ত। দ্রুত বংশদর ও জনসংখ্যার বৃদ্ধি ফলে এক খন্ড অংশিদার ২০ থেকে ২৫ জন উত্তোরাধিকার। শত ভাগ হয়ে গেছে দিঘী-পুকুর ও বিশাল বাড়ি । ১৯৬০ সালের দিকে জমিদারী প্রথা উঠে যাবার পর ঐতিহ্যের সে ব্যবসা, পেশা, সিংহাসন, তালুক, ঘোড়ার গাড়ী করে খাজনা আদায় সবই আজ বিলুপ্ত। ব্রিটিশ শাসন আমলে ভারত বর্ষের অধিন ফেনীর শাসক ছিলেন ত্রিপুরার রাজা বিরেন্দ্র কিশোর মানিক্য ১৩১৯ সাল থেকে ১৬৬৬ পর্যন্ত ২৪ জন রাজা বৃহত্তর নোয়াখালীর ফেনী শাসন করেন। ফেনীর রাজবাড়ি,রাজাঝির দিঘী, বিজয়সিংহ দিঘী,শমসেরগাজীর দিঘী,শমসের গাজীর সুড়ঙ্গ পথ,কৈয়ারা দিঘী , রামপুর, নবাবপুরসহ অনেক স্থাপনা, অবকাঠামো ও জায়গাগুলোর নাম জমিদারের ঐতিহ্যের নীরব স্বাক্ষী বহন করে।


চলবে….

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *