ফেনীর চৈতি ও মিথিলা বিটিভির সঙ্গীত শিল্পী

ফেনীর মেয়ে চৈতি দে ও মিথিলা মল্লিক বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের শিল্পী হিসেবে তালিকাভুক্ত হলো। তাঁদের এ অর্জনে আর্য সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, ফেনীর সফলতার ঝুঁড়িতে আরো দুটি বিশেষ অর্জন যুক্ত হলো।

এছাড়াও বাংলাদেশ টেলিভিশনে ও বাংলাদেশ বেতারের নিয়মিত শিল্পী হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়ে আর্য সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, ফেনীর অনেক শিক্ষার্থী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ ও জাতীয় বিভিন্ন ইভেন্টে পুরস্কার অর্জন করে আসছেন। বৃহস্পতিবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিটিভির চট্টগ্রাম কেন্দ্রের ওয়েবসাইটে তালিকাভুক্ত শিল্পীদের মধ্যে চৈতি ও মিথিলার নাম প্রকাশিত হয়।

বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রে নজরুল সঙ্গীত, আধুনিক গান ও লোকগীতিতে অডিশন দিয়ে তালিকাভুক্ত শিল্পী হলেন চৈতি। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সঙ্গীত বিভাগের অনার্স (সম্মান) চুড়ান্ত বর্ষের ছাত্রী। এর আগে দেশাত্মবোধক গানে জাতীয় শিশু একাডেমী পুরষ্কার এবং নজরুল সংগীতে জাতীয় শিল্পকলা একাডেমী পুরষ্কার অর্জন করেছে।

এর আগে জাতীয় শিক্ষাসপ্তাহ প্রতিযোগিতায় নজরুল সঙ্গীতে পুরস্কার অর্জন করেছিলেন তিনি।

দক্ষিণ উপমহাদেশের বিখ্যাত সঙ্গীতগুরু ওস্তাদ শ্রী মিহির লালার কাছে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে তালিম নেয়ার মধ্য দিয়ে তাঁর সঙ্গীতজীবনের হাতেখড়ি। চৈতি তৃতীয় শ্রেণি পড়ুয়াকালে তাঁর বাবা বিপুল দে’র হাতধরে ২০০৩ সালের দিকে আর্য সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, ফেনীর তৎকালীন জহির রায়হান মিলনায়তনে গান শিখা শুরু হয়।

ব্যক্তিজীবনে চৈতি অবিবাহিত। বাবা- বিপুল দে কৃষি ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা, মা- লাকী রানী দে, তাঁর একমাত্র ভাই বিশ্বজিৎ দে একজন গিটারিষ্ট।

মিথিলা মল্লিক বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রে নজরুল সঙ্গীত ও আধুনিক গান এ অডিশন দিয়ে তালিকাভুক্ত শিল্পী হলেন। বর্তমানে মিথিলা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গীত বিভাগের অনার্স (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। এর আগে ২০১৬ সালে বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা প্রতিযোগিতায় দেশাত্ববোধক ও নজরুল সঙ্গীতে এবং ২০১৭ সালে জাতীয় শিক্ষা সপ্তাহ প্রতিযোগিতায় পুরস্কার অর্জন করেন তিনি।

২০০৬ সালের দিকে আর্য সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ফেনী ওস্তাদ শ্রী মিহির লালার কাছে শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে তালিমের মধ্য দিয়ে সঙ্গীত জীবন শুরু করলেও হাতে খড়ি তাঁর মায়ের কাছে।

ব্যক্তিজীবনে মিথিলা অবিবাহিত। বাবা- মিহির মল্লিক, একজন ব্যবসায়ী, মা- মিঠু রানী দে, তাঁর একমাত্র বোন মৌনতা মল্লিকও পড়ালেখার পাশাপাশি নিয়মিত গান শিখে আসছে।

চৈতি ও মিথিলা বর্তমানেও ওস্তাদ মিহির লালা ও রিটন কুমার ধর এর নিকট নিয়মিত শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শিখছে।

তালিকাভুক্ত দুই শিল্পী কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে সঙ্গীত গুরু- ওস্তাদ মিহির লালা, রিটন কুমার ধর, তবলা শিল্পী সমর কুমার দেবনাথ, প্রদীপ কুমার দেবনাথ এবং অন্যান্য সকল শুভাকাঙ্খীদের প্রতি। সেই সাথে সকলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। সঙ্গীত অঙ্গনে ভালো অবদান রাখার জন্য তাঁরা সবার নিকট দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করেছেন।

আর্য সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, ফেনীর প্রধান সমন্বয়ক সমর কুমার দেবনাথ তালিকাভুক্ত দুই শিল্পীকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, তাঁদের সঙ্গীত জীবনে আরো ভালো কিছু অর্জন করুক এ প্রত্যাশাই করি। আর্য পরিবারের সদস্য হিসেবে তিনি সবার নিকট দোয়া ও আশীর্বাদ চেয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *