ফেনীর গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসা যেন মৃত্যু ফাঁদ !

সৌরভ পাটোয়ারী, ৯ জুন ২০১৮
ফেনীতে সিলিন্ডার ব্যবসা যেন মৃত্যুর ফাঁদ ! নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে যত্রতত্র মুদি-মনোহরীর মতোই চলছে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবসা। এসব দোকানীদের নেই বিস্ফোরক অনুমতি বা লাইসেন্স। মেয়াদোত্তীর্ণ বোতলে সিলিন্ডার গ্যাস অবৈধভাবে প্রকাশ্যে বিক্রি হলেও এসব বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপরে কোন উদ্যোগ দৃশ্যমান হচ্ছে না। প্রতিমাসে আবাসিক-অনাবাসিক প্রায় ২০ হাজার গ্রাহক সিলিন্ডার গ্যাস ব্যবহার করে। দিন দিন বাড়ছে এর ব্যবহার। পরিবেশকরা তাদের টার্গেট পুরণ করতে অধিক মুনাফার আশায় যত্রতত্র এ গ্যাস সিলিন্ডার মজুদ করে ব্যবসা চালাচ্ছে। এতে করে ঘটচ্ছে ভয়াবহ অগ্নিকান্ড ও প্রাণহানীর ঘটনা। ঝুঁকি রোধে ক্রেতা-বিক্রেতাদের প্রশিক্ষন, সচেতনতা বৃদ্ধি, নীতিমালার সঠিক বাস্তবায়ন ও আইনের কঠোর প্রয়োগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন অভিজ্ঞমহল।

সম্প্রতি সিলিন্ডার বিস্ফোরণে পুড়ে যাওয়া হার্ডওয়ার দোকান ও অগ্নিকান্ডের দৃশ্য।

 

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ফেনীতে বসু›্ধরা, যমুনা, এলসিজি, ওমেরা, এলপি, কিনহিট, লাভস্ , টোটাল, সুপার, টিকে, ইউনির্ভাসেল, ওরিয়েন, নাভানা, মিন হাবিব, দীঘিরাজ, নেওয়াজ ও বিএম এসব পাওয়া যায়। এর বিস্তৃতি জেলা ও উপজেলার গ্রাম-গঞ্জ, পাড়া মহল্লার সর্বত্র।
ফেনীতে ২৫-৩০ জন পরিবেশকের মাধ্যমে প্রায় ২০ হাজার গ্রাহক এ গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহার করে। আবাসিককে ১২ কেজি ওজনের বোতল ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ অনাবাসিকে ৩৫ কেজি ওজনের বোতলজাত গ্যাস ব্যবহার করে থাকেন। এসব বোতলে কয়েকদফা রিফিলের পর মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে বিস্ফোরণ ঘটে।

গ্রাহকরা জানান, ২/৩ বছর ব্যবহারের পর বোতলগুলো ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। কিন্তু অসাধু ব্যবসায়ীরা মেয়াদোত্তীর্ণ বোতলে রং করে ফের বাজারজাত করে। ফলে বাড়ছে অগ্নিকান্ড ও মৃত্যুর ঝুঁকি। সাম্প্রতিক সময়ে ফেনীর ট্রাংক রোডে একটি হার্ডওয়ার দোকানে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে ভয়াবহ আগুনে এক দোকান কর্মচারী মৃত্যু ও কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়।
এ ছাড়া দাগনভূঞার জায়লস্কর, সোনাগাজী ও পরশুরামসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরনের ছোট-বড় একাধিক অগ্নিকান্ডে প্রাণহানি ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির ঘটনা ঘটেছে।

্র

না প্রকাশ না করা শর্তে একাধিক খুচরা ক্রেতা-বিক্রেতা জানান, যমুনা, টিকে, সুপার ও ইউনিভারসেলসহ বেশ কয়েকটি কোম্পানীর বোতলগুলো বছরের পর বছর রিফিল করে বাজারজাতের ফলে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। এ সব মেয়াদোত্তীণ ও ঝুঁকিপূণ বোতলজাত গ্যাস সিলিন্ডার মার্কেট থেকে উঠিয়ে নিতে প্রশাসনের নজরদারী জরুরী।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ফেনী শহরের শহীদ শহীদুল্লাহ কায়সার সড়ক, একাডেমী সড়ক, ট্রাংক রোডসহ উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে, মার্কেটের সামনে, হার্ডওয়্যার দোকানে, সড়কের উপর, দোকানের সামনে, খোলা আকাশের নিচে গ্যাস সিলিন্ডার রেখে বিক্রি করা হচ্ছে।
এছাড়াও গ্রামের মুদি-মনোহরীর দোকানঘরেও চলছে এর জমজমাট বাণিজ্য। চা-দোকান থেকে শুরু করে মুদি দোকান, ফার্মেসী, স্টেশনারী দোকান মোবাইলের রিজার্জের দোকানেও পাওয়া যায় বিভিন্ন ব্যান্ডের সিলিন্ডার গ্যাস।

ফেনী জেলার বিভিন্ন উম্মুক্ত স্থানে গ্যাস সিলিন্ডার রেখে বিক্রি-মজুদ ও লোড-আনলোডিং এখন নিত্যনৈমিত্তিক দৃশ্য। এতে করে যে কোন সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা। ঝুঁকিপূর্ণ এসব সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রির জন্য বিস্ফোরক দ্রব্যের লাইসেন্স গ্রহণের পাশাপাশি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখার বিধান থাকলেও ব্যবসায়ীরা নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছেন না। অনেক সিলিন্ডার দোকানীই জানেন না আইনের-বিধি বিধান।
ফেনী জেলা লিকুয়িড প্রেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) পরিবেশক সমিতির সভাপতি সাইফুল ইসলাম ফটিক জানান, নিয়ম মোতাবেক একটি সিলিন্ডার ৫ বছরের অধিক সময় ব্যবহার না করতে বলা হলেও ফেনীর হাট-বাজারে ১০ থেকে ১৫ বছর আগের সিলিন্ডারও প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে। এক শ্রেনীর অসাধু ব্যবসায়ী পরিত্যক্ত সিলিন্ডার মেরামত ও রং করে নতুনভাবে বাজারজাত করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। এতে করে দিন দিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গৃহকর্মী ও দোকানীরা এ সিলিন্ডার ব্যবহারের দিকে ঝুঁকছেন।

ফেনী জেলা লিকুয়িড প্রেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) পরিবেশক সমিতির কে সাধারণ সম্পাদক সানা উল্ল্যাহ ফয়সাল তালাশকে জানান, ফেনীতে বিভিন্ন কোম্পানীর ১৮ জন ডিলার রয়েছে। এর বাইরে অনেক খুচরা ব্যবসায়ীও রয়েছেন। প্রতিমাসে ১৮ হাজারেরও বেশি বোতলজাত গ্যাস বিক্রি হয়। তিনি জানান, ক্রেতা-বিক্রেতাদের প্রশিক্ষণ না থাকায় দূর্ঘটনা ঘটছে।

ফেনী ফায়ার সার্ভিস স্টেশানের ইনচার্জ কবির হোসেন তালাাশকে জানান, ফেনীতে বিস্ফোরণ ও ফায়ার সার্ভিস অনুমোদিত বোতলজাত গ্যাসের ডিলার রয়েছে মাত্র ৮/১০ জন। এর বাইরে অবৈধভাবে যত্রতত্র এই ব্যবসা প্রায় পাঁচশতাধিক দোকানী। এতে করে অগ্নিকান্ডসহ মৃত্যুর ঝুঁকি বেড়েছে। এসব বন্ধে ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ঈদের পরই অভিযান পরিচালনা করা হবে।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *