ফেনীর কম্পিউটার দোকানগুলোতে আলাদা হার্ডডিক্সে পর্নো ভিডিও’র রমরমা ব্যবসা

নিজস্ব প্রতিনিধি, ৭ মার্চ ২০১৮
ফেনীতে অধিকাংশ কম্পিউটারের দোকানগুলোতে আলাদা হার্ডডিক্সে পর্নো ভিডিও সংরক্ষণ করে আপলোড ব্যবসা রমরমা হয়ে উঠেছে ।
কোথায় নেই পর্নো ভিডিও ! শহরের পাড়া, মহলা ও ফুটপাতের অলিগলিতে হাত বাড়ালেই মিলছে কাঙ্খিত  জিনিস। সয়লাব হয়ে গেছে পর্নো সিডি ও মেমোরি কার্ড ।

গৃহবধূ, ধনীর সন্তান, কিশোর-কিশোরী হতে শুরু করে কোমলমতি শিার্থীরাও মেতে উঠছে এ সর্বনাশা পর্নো সিডি ও মেমোরি কার্ড নিয়ে।

আর ত্র অবাধে ইন্টারনেটের সহজলভ্যতা ও আইনশৃঙ্খলা  বাহিনীর নির্লিপ্ততাকে দায়ী করছেন অভিভাবক মহল ও সচেতন সমাজ।

সংশিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এসব পর্নো ভিডিও মূলত ফেনীর বিভিন্ন স্কুল-কলেজ, ইউনিভার্সিটির শিার্থীদের তৈরি করা। অনেক ক্ষেত্রে ব্যাকমেইল করে তোলা ছবি ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে বাজারে। ভিডিওতে বেনামী ঠিকানা ব্যবহার করা হচ্ছে । অনলাইনে নিদিষ্ট ঠিকানা দিয়ে সার্চ দিলেই পাওয়া যায় পর্নো ভিডিও ।

কোন কোন সময় তা ইন্টারনেটেও ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। বেশিরভাগ পর্নো ভিডিও মোবাইল ফোন সেটে ধারণ করা। মোবাইল ফোন সেটের ক্যামেরায় যৌন আবেদনের দৃশ্য ধারণ করে তা তুলে দেওয়া হচ্ছে কম্পিউটার দোকানীদের হাতে। আর এভাবে বিভিন্ন চক্র কামিয়ে নিচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। এসবের পাশাপাশি রয়েছে বিদেশি পর্নো ছবির সিডি ও মেমোরি কার্ড।

গোয়েন্দা সূত্রগুলো জানায়, ফেনী শহরের বিভিন্ন শপিং মল ও মার্কেটে একশরও বেশি দোকানে গোপনে বিক্রি হচ্ছে পর্নো সিডি ও মেমোরি কার্ড। জেলা শহর এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে সহস্রাধিক দোকানে মেমোরি কার্ডে পর্নো ছবি ধারণ করে বিক্রি হচ্ছে। আইন শৃংঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে কমপিউটারে আলাদা ইউএসবি মেমোরীতে ধারণ করে লুকিয়ে রাখা হয় এ সব পর্নো ভিডিও । আর সুয়োগ বুঝে প্রকাশ্যে দেয়া হচ্ছে শিশু কিশোরের হাতে । ফেনী মডেল থানার একশ গজের মধ্যেই রাজাঝি দীঘির পাড়েও মিলছে এগুলো। মডেল থানার বিপরীতে মার্কেটগুলোতে পাওয়া যায় খুব সহজেই।

গোয়েন্দা সূত্রগুলো আরও জানায়, মহিপাল পাজা, কালীবাড়ী মন্দির মার্কেট, সমবায় সুপার মার্কেট, তমিজিয়া শপিং কমপেক্স, রাবি শপিং কমপ্লেক্স, রোকেয়া শপিং সেন্টার, তাকিয়া রোড, শহীদ হোসেন উদ্দিন বিপনী বিতানে মোবাইল ফোনের দোকানগুলোতে পর্নো ভিডিও ও স্থির ছবি আপলোড করা হয়ে থাকে। রেলগেইটে একটি দোকানে পাওয়া যায় পাইকারিভাবে।

তারা আরও জানায়, ছাত্র, শ্রমিক থেকে শুরু করে সব বয়সের লোকদের ভিড় থাকে এখানে। উঠতি বয়সের মেয়েরাও আসে এসব দোকানে। মোবাইল টেলিফোন সেট বিক্রির আড়ালে দোকানিরা পর্নো ছবি বিক্রি করে। গান ও ছায়াছবি বিক্রির আড়ালে পর্নো সিডি বিক্রি হয় প্রতিটি ৪০-৫০ টাকায়।
মেমোরি কার্ডে ছবি লোড করতে লাগে মাত্র ২০ টাকা। শহরের পাড়া, মহলা থেকে এখন গ্রামাঞ্চলেও এগুলো ছড়িয়ে পড়ছে।

জানতে চাইলে ফেনী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ(ওসি) রাশেদ খান জানান, ইতিমধ্যে কয়েকবার অভিযান চালানো হয়েছে। অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে দোকানিরা এসব সরিয়ে ফেলে। শিগগিরই আবার অভিযান পরিচালনা করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *