ফেনীতে স্বাস্থ্যবিধি মানছে না > পকেটে মাস্ক-মুখ খোলা  !

সৌরভ পাটোয়ারী, ১০ আগস্ট
কারো পকেটে, কারো হাতে আর কারো থুতনীর নিছে মাস্ক, অনায়াসে খোলা রয়েছে মুখ। আর কোরো যেন মাক্স পরার দরকারই নেই এমন চিত্র ফেনীর শহর-গ্রাম-গঞ্জে মসজিদ-মন্দির সবখানে।
স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই নেই, এমন দৃশ্য খোদ আজিজ নামে এ ট্রাফিক পুলিশেরও দেখা গেলো। তিনি মহিপাল ফ্লাই ওভার ব্রীজের নিচে দায়িত্ব পালন করছেন মাক্সটি বাম হাতে রেখে।
জীবন ও জীবিকার তাগিদে বিধি-নিষেধ ও শর্ত দিয়ে সরকার দেশের লকডাউন কিছুটা শিথিল করেছে। খুলে দেয়া হয়েছে গার্মেন্টসসহ বেশিরভাগ শিল্প প্রতিষ্ঠান। গণপরিবহন চলাচলও স্বাভাবিক হয়েছে। খুলেছে দোকান মার্কেট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো। কিন্তু সরকারের দেয়া বিধি-নিষেধ ও শর্ত ফেনীর কোথাও মানা হচ্ছে না। ফলে প্রতিদিনই করোনার সংক্রমণ বাড়ছে। বাড়ছে মৃত্যুও।
রোববার (৯ আগস্ট) ফেনীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, সড়কে বিপুল সংখ্যক ব্যক্তিগত গাড়ি, সিএনজি, অটোরিকশা, ট্রাক ও বাস চলাচল করছে। মার্কেটগুলোতেও হরহামেশাই যাতায়াত করছে কেনাকাটা করছে মানুষ। বেশিরভাগ জায়গায় মানা হচ্ছে না সামাজিক দূরত্ব, মানা হচ্ছে না সরকারের দেয়া বিধি-নিষেধ কিংবা স্বাস্থ্যবিধি।
ফেনীর অলিগলিতেও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার কোনো বালাই নেই। চায়ের দোকানগুলোতে আড্ডায় জমে আছে সবাই কারো মুখে মাক্স নাই। মুদি দোকানগুলোতে ভিড় করছে মানুষ সামাজিক দূরত্ব মানছে না কেউ।

ফেনী শহরের ফুটপাত মার্কেট গুলো ঘুরে দেখা গেছে দোকানদাররা কোন স্বাস্থ্য বিধি মানছে না। স্বাস্থ্যবিধি মানছেনা ক্রেতারাও। যে যার মত গা ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে জিনিসপত্র কেনাকাটা করছে।
ফুটপাতদোকান ও মার্কেটগুলো দেখে বোঝাই মুশকিল যে দেশে করোনাভাইরাস নামে ভয়াবহ কোনো সংক্রমণ ব্যাধি আছে। মার্কেটের প্রবেশপথে হ্যান্ড স্যানিটাইজার এর ব্যবস্থা রাখার নির্দেশ থাকলেও তা
পর্যাপ্ত নেই। প্রতিটি দোকানের সামনে হাত ধুয়ার হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখার নির্দেশ থাকলেও মানছে না দোকানিরা।
ট্রাংক রোডের ফুটপাতে ফলের দোকান করে আবুল হোসেন তার পাশে রয়েছে আবসার কারো মুখে মাস্ক নেই। মাস্ক নেই কেন জানতে চাইলে আবুল হোসেন বলেন, মাস্ক আছে পকেটে।
মহিপালের খোলা বিস্কুট বিক্রেতা শংকর দাশের মুখে মাস্ক নেই। মাস্ক নেই কেন জানতে চাইলে তিনি কোনো কথা বলেননি। এরকম বহু মানুষই স্বাস্থ্যবিধ মানেছ না।
কেনো মাক্স পরেন না এমন প্রশ্নের জবাবে সুগন্ধা সুপারের এক যাত্রী জানালেন প্রচুর পরিমাণ রোদ , প্রচুর গরম, মাস্ক পরলে আরো বেশি গরম লাগে।
তাই পরি নাই। অনেক মানুষই তো পরছে না।

এ বিষয়ে ফেনীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) গোলাম জাকারিয়া ফেনীর তালাশকে জানান, স্বাস্থ্যবিধি মানা ও সচেতনতা বাড়ানোর জন্য আমাদের ভ্রাম্যমান আদালতে অভিযান অব্যাহত আছে। তবে মানুষ সচেতন না হলে ফেনীর ১৬ লাখ মানুষকে কন্ট্রোল করা কঠিন। যারা বিধি মানবে না তারাই বিপদে পড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *