ফেনীতে শ্রমক্ষেত্রে নারী আজও বৈষম্যের শিকার

সৌরভ পাটোয়ারী, ফেনী

নারী ক্ষমতায়নের যুগে আজ নারী ও উপেক্ষিত অবহেলিত বঞ্চিত নির্যাতিত-নিপীড়িত । সোনালী সূর্যের প্রতীক্ষায় আজও তৃণমূল নারীরা কাজ করে চলেছে। যদিও পুরুষশাসিত সমাজের পুরুষ শ্রমিকের বেতন ৫০০ থেকে ৭০০ টাকা সেখানে একজন নারীর বেদন ১৩০ থেকে মাত্র ১৫০ টাকা। আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস কিন্তু নারীদের শ্রমের মূল্য নারীদের মজুরি সরকার পক্ষ থেকে নির্ধারণ করে দেয়া হয়নি। যেখানে পুরুষ বেতন পাচ্ছে চারগুণ বেশি সেখানে একজন নারী পাচ্ছে চারভাগের একাংশ। সরেজমিনে এমন চিত্র পাওয়া যায় বিভিন্ন শ্রমিক কারখানা ফুলের নার্সারি সহ বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে এখনো নারী যে বেতন পায় তা পুরুষের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য।
ফেনী সদর উপজেলার বিভিন্ন, কল-খারখানা নার্সারি ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেল। শ্রমিকের বেতন নিয়ে কথা বললে বা কম মজুরী কথা প্রকাশ করা হলে মালিকের পক্ষ থেকে তাদের চাকরি থাকবে না বলে এমন হুঁসিয়ারী রয়েছে।

বিশ্বে যা কিছু সৃষ্টি চির-কল্যাণকর,
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী অর্ধেক তার নর।

অথচ কাজের বেলায় নারীরা সব সময় ঠকে চলেছে, বিশেষ করে তৃণমূল নারী যারা এখনও শ্রমজীবী যারা এখনো কর্মের বিনিময়ে খাদ্য জোগায় তাদের ক্ষেত্রে আজও বৈষম্য চলেছে। এই বৈষম্য পেছনে খুঁজতে গিয়ে অনেক কিছুই বোঝা গেছে।

যে ক্ষেত্রে পুরুষ শাসিত সমাজে নারীদের নারীদের বলা হচ্ছে যে নারীরা পুরুষের চেয়ে কাজ কম করে। অপরদিকে নারী নির্যাতন, শোষণ,নারী স্বামী পরিত্যাক্তা, নারী বিধবা, নারী শারীরিক গঠন চিকন, শারীরিক গঠন কালো, ইত্যাদি কারণে নারী আজও অবহেলিত। নারীদের এই অবহেলার সুযোগ নিয়ে পুরুষশাসিত সমাজ তাদের শোষণ করে চলেছে।

আজ আন্তর্জাতিক নারী দিবস। পুরুষ সমতা বিশ্বের নতুনভাবে উম্মোচিত হবে। এবার শ্লোগান ”করোনা কালে নারী নেতৃত্ব ঘটবে” কিন্তু বাংলাদেশের তৃণমূল নারী কি সে ক্ষমতা পেয়েছে ?

রাজনীতি কর্মক্ষেত্র সমাজ-রাষ্ট্রের নানান পর্যায়ে নারীরা এখনো পিছিয়ে আছে। পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থাকে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞরা। এমন একটি উদাহরণ খুঁজতে গিয়ে আজ আমরা একটি নার্সারিতে গেলাম সে নার্সারির একজন নারী শ্রমিকের বেতন ১৩০ থেকে দেড়শ টাকা ধরা হয়েছে।

ঘটনাটি যদি শ্রমিকের কর্মকর্তা জেনে যায় তখন নারী তার চাকরি চলে যাবে। এজন্য সে সেটি প্রকাশ করতেও ভয় পাচ্ছে। তাহলে বুঝুন আমাদের নারীদের অবস্থান কোথায় আছে ?

জীবন জীবিকার তাগিদে বেঁচে থাকার অবলম্বন হিসেবে নারী এখনো কাজ করে দৈনিক বা মাসিক নাম মাত্র মূল্যে । বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে দেশে এখনও ৭৭শতাংশ নারী পরিবারের নির্যাতনের শিকার। ৪০ ভা্গ বিবাহিত নারী স্বামী দ্বারা নির্যাতিত হচ্ছে।

জাতীয় সংঘ সূত্র মতে বাংলাদেশে এখনও অর্ধেকের বেশি মেয়ের বাল্যবিবাহ হয়। উচ্চশিক্ষায় নারীরা পুরুষের তুলনায় পিছিয়ে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী সরকারের চাকরির ক্ষেত্রে নারীর পদচারণা ৩০ শতাংশের কম। তাই সমতার বিশ্বে করতে লাগবে সকলের মনোভাব ইতিবাচক ভূমিকা।

আজ নারী দিবসে একটি কথাই বারবার উচ্চারিত হচ্ছে সেটি হচ্ছে নারীর শোষণ-বঞ্চনা এবং প্রতারণার শিকার। তার একটি মাত্র কারণ হচ্ছে নারীরা এখনো সেকেলে রয়ে গেছে অবলা রয়ে গেছে এবং প্রতিবাদ করার শক্তি এখনও তৃণমূল পর্যায়ে জোটেনি। পুরুষশাসিত সমাজে আমাদের নারী সোনালী সূর্যের প্রতীক্ষায় এখনও তাকিয়ে আছে| আর কতকাল তারা তাকিয়ে থাকবে অবলা অসহায় নারী । ???

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *