ফেনীতে শিশুকে অপহরণ ও ধর্ষণের ঘটনায় যুবক কারাগারে

নিজস্ব প্রতিনিধি,  ৪ জানুয়ারী

ফেনী থেকে একজন মেয়ে শিশুকে (১১) অপহরণের ১৪ দিন পর উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত অভিযোগে একজনকে গ্রেপ্তার

করা হয়েছে। তাঁর নাম মো. রাকিব হোসেন (৩৫)। তিনি কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার আদরা বড়ুয়া এলাকার বাসিন্দা হলেও ফেনীতে বসবাস করতো।

রোববার বিকেলে ফেনীর সিনিয়র জুডিশিয়াল

ম্যাজিষ্ট্রেট মো. জাকির হোসেনের আদালতে নারী ও শিশু নির্ষাতন দমন আইনের ২২ ধারায় জবানবন্দিতে ওই শিশু তাকে অপহরণ ও আটক রেখে ধর্ষণের অভিযোগ করে।

 

পুলিশ ও পারিবারিক সুত্র জানায়, ওই শিশুর পৈত্রিক বাড়ী লক্ষীপুর্জেলায় হলেও তারা ফেনী পৌরসভার মধ্যম চাড়িপুর এলাকায় ভাড়া বাড়ীতে পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করতো। একই এলাকায় অপর একজন ভাড়াটিয়া মো. রাকির হোসেন ওই শিশুকে প্রায়ই উত্যক্ত করতো। এক পর্যায়ে মেয়ের বাবার কাছে ৬০ হাজার টাকা

দাবি করেন। মেয়ের বাবা টাকা দিতে অস্বীকার করেন। গত ১৮ ডিসেম্বর রাত ১১টার দিকে মেয়েকে একা পেয়ে চেতনা নাশক দিয়ে অচেতন করে একটি মাইক্রোতে তুলে আরও তিন সহযোগীসহ ঢাকার কমলাপুর এলাকায় নিয়ে যায়। ঢাকায় তিন

দিন রাখার পর রাকিব তার অপর দুই সহযোগীসহ শিশু মেয়েটিকে চট্টগ্রামের নিউমার্কেট এলাকায় একটি বাসায় রাখে।

 

চট্টগ্রামে রাকিব ওই শিশু মেয়েকে ধর্ষণ করে। এদিকে মেয়েকে না পেয়ে মেয়ের মা ফেনী মডেল থানায় একটি নিখোঁজ সংক্রান্ত সাধারণ ডায়েরী (জিডি) করেন। শুক্রবার মধ্যরাতের পর চট্টগ্রামের পশ্চিম বাকলিয়া এলাকা থেকে অভিযুক্ত রাকিবকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে ফেনী নিয়ে আসেন।

 

এদিকে রাকিবকে গ্রেপ্তারের পর তার সহযোগীরা ওই অপহৃত শিশু মেয়েকে শনিবার সকালে ফেনীর ট্রাংক রোডে নিয়ে ছেড়ে দেয়। শহরের ট্রাংক রোড থেকে ফেনী মডেল থানা পুলিশ মেয়েটিকে উদ্ধার

করে। এ ঘটনায় মেয়ের মা বাদী হয়ে আসামী মো. রাকিব হোসেনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ২-৩ জনকে আসামী করে থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

 

রোববার বিকেলে ওই মেয়ে তাকে অপহরণ ও ধর্ষণের ঘটনা আদালতে বর্ণনা করে। পরে মেয়েটিকে বাবা ও মায়ের জিম্মায় দেওয়া হয়।

গ্রেপ্তার আসামী মো. রাকিব হোসেনকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

 

ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলমগীর হোসেন শিশু অপহরণের ১৪ দিন উদ্ধার, একজনকে গ্রেপ্তার ও ধর্ষণের অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *