তাকিয়া রোড-আবুবক্কর সড়কে ভেজাল মসলার মহোৎসব

সৌরভ পাটোয়ারী,  ৪ মার্চ

যতক্ষণ ভেজাল হুলুদ-মরিচ গুঁড়ার কারখানা চলে ততক্ষণ পাহারায় বসে থাকে মালিক । প্রশাসনের কেউ আসলে দ্রুত খবর চলে যায় স্পটে. দরজায় তালা দিয়ে পালায় মালিক শ্রমিক সবাই । এভাবেই চলে ভেজাল মসলা তৈরীর কারবার ।

ফেনীতে এক শ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফার আশায় ধুলো ময়লা-বালি মিশ্রিত চাল, কেমিক্যাল রঙ , কয়াল ধান, গমের ভূষা ও এ্যাংকর ডাল মিশিয়ে ভেজাল হলুদ-মরিচ ও মশলা করে সরবরাহ করছে বলে অভিযোোগ রয়েছে। ভোক্তারা এসব হলুদ-মরিচের গুঁড়া খেয়ে বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছে।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন এর চট্রগ্রাম বিভাগীয় উপ-পরিচালক জোবায়ের আহম্মদ জানান, ভেজালের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে । জেলা সদরসহ ফেনীর বিভিন্ন উপজেলায় দুর্ইশতাধিক মিলে ভেজাল দিয়ে ময়লাসহ হলুদ-মরিচ গুঁড়া করে তা পেকেট জাত করে চালিয়ে দিচ্ছে বাজারে।

অভিযোগ রয়েছে, এসব মিল বা কারখানার মালিকের আইনগত সনদ নেই। নেই বিএসটিআই এর অনুমোদন ও পরিবেশ ছাডপত্র । প্রশাসনের কতিপয় দালালের মাধ্যমে অভিযানের পূর্বে খবর পেয়ে পালিয়ে যায় কারখানা মালিকরা । পরে আবার এসে শুরু করে ভেজাল মশলা তৈরীর প্রক্রিয়া।

প্রশাসনের নাকের ডগায় ফেনী শহরের তাকিয়া রোড, ইসলামপুর রোড, পায়খানা গলি, রামপুর, ডাক্তারপাড়া, মাস্টার পাড়া, গুদাম কোয়াটার, কদলগাজী রোড, স্টেশান রোড, একাডেমী, বনানী পাড়া, পূর্ব- পশ্চিম উকিল পাড়া ও এসএসকে রোড়ে রয়েছে শতাধিক হলুদ-মরিচের মিল। এখানে বিরতিহীন ভাবে চলছে ভেজাল মসলা তৈরী। কম মজুরীর নারী শ্রমিক দিয়ে সকাল থেকে রাত পর্যন্ন্ত চলে মসলা জাতিয় দ্রব্য।

অভিযোগ আছে, দোকানগুলোতে যে পরিমাণ ভেজাল হলুদ-মরিচের গুঁড়া সরবরাহ করে মজুদ রাখা হয়েছে তা আগামী এক বছরেও শেষ হবে না দোকানীরা এ গুলোকে নিজস্ব হাতের তৈরী বলে চালিয়ে দিচ্ছে।
গৃহিনীরা জানান, ভেজাল হলুদ বেশি পরিমাণে সবজির সাথে দিলে রঙ হয় না। ঝোল সাদা ও লোট লোট হয়ে যায়।
চিকিৎসকদের মতে ওই রং মেশানো মরিচ খেয়ে মানুষের গ্যাসট্রিক, আলসার, আমাশয়, ডায়রিয়া, ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ ডাক্তারেরা।

ফেনীতে একটি মসলা কারখানায অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান বিষাক্ত রঙসহ মসলা তৈরীর ভেজাল সামগ্রী জব্দ করেছে ভ্রাম্যমান আদালাত। এ ঘটনায আদালত কারখানা মালিক পবিত্র কুমার বনিককে এক বছরের কারাদন্ড প্রদান করে কারাগারে প্রেরন করেছে।

ভ্রম্যমান আদালত সূত্রে জানা যায, সম্প্রতি ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মামুনের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত ফেনী পৌরসভার পশ্চিম রামপুর এলাকায একটি মসলা তৈরীর কারখানায অভিযান চালায। এসময সেখানে ধানের কুঁডা, কাঁকন ধান ও লাল, হলুদ এবং মেজেন্ডা ইত্যাদি বিষাক্ত রং মিশিয মসলা তৈরী করতে দেখেন। আদালত সেখান থেকে চার ড্রাম ও দুই বস্তা ট্যাক্সটাইলের বিষাক্ত রঙ, দুই মন ধানের কুঁডা, ৪৫ বস্তা পঁচা মরিচ, ১২ বস্তা মরিচের গোটা, ১২ মন ভেজাল মরিচের গুডা জব্দ করে তাৎনিক ভাবে ধ্বংস করেন।

এছাডা এক শত ১২ বস্তা গোটা হলুদ, ২২ বস্তা গোটা মরিচ, ৪২ বস্তা কাঁকন ধান, দুই বস্তা ধনিযা জব্দ করে তাৎনিক ভাবে ২০ হাজার টাকায নিলামে বিক্রি করেন। এ সময কারখানা মালিক ও পশ্চিম রামপুর গ্রামের গৌরাঙ্গ কুমার বনিকের ছেলে পবিত্র কুমার বনিককে আটক করা হয।
কারখানার মালিক ও শ্রমিকের দোষ স্বীকারের ভিত্তিতে ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক ও ফেনী সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা (ইউএনও) মোহাম্মদ মনসুর উদ্দিন কারখানা মালিক পবিত্র কুমার বনিককে এক বছর কারাদন্ড প্রদান করে কারাগারে পাঠিযদিযেেছন

অনুসন্ধানে জানা যায়, ৫০ কেজি হলুদের গুঁড়া তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে ৫ কেজি আস্ত হলুদ, এক বস্ত ধানের কুঁড়া ও ১০০ গ্রাম রঙ। আর ২৫০ কেজি গুঁড়া গরম মশলায় ব্যবহার হচ্ছে এক বস্তা ধনিয়া, ৫ বস্তা ধানের কুঁড়া, দুই কেজি খনির কয়লা, ২০০ গ্রাম এলাচ, ২০০ গ্রাম দারচিনি, ২৫০ গ্রাম গোল মরিচ ও ২৫০ গ্রাম জয়ত্রী। উৎপাদিত এ পণ্য বিক্রিও হচ্ছে অনেক কম দামে।

এক বস্তা (৫০ কেজি) বোম্বাই মরিচ ও ২০ বস্তা ধানের কুঁড়া, সঙ্গে সাড়ে ৫ কেজি রাসায়নিক পদার্থ (অরেঞ্জ কালার)। মেশিনে গুঁড়া করার পর তা হয়ে উঠছে এক হাজার ৫৫ কেজি গুঁড়া মরিচ। একইভাবে তৈরি হচ্ছে হলুদের গুঁড়া। আর গরম মশলার গুঁড়ায় মেশানো হচ্ছে কয়লা। প্যাকেটজাত হয়ে তা ঠাঁই নিচ্ছে ভোক্তার রান্নাঘরে। মরিচ, হলুদ ও মশলার নামে বিক্রি হওয়া এ ভেজালসামগ্রী মারাত্বক স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করছে ভোক্তাদের।

তবে অনুমোদন ছাড়া যেসব প্রতিষ্ঠান প্যাকেটজাত হলুদ, মরিচ তৈরি করছে, বিএসটিআইয়ের প থেকে তাদের জরিমানা করা হয়েছে। অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে। তাকিয়া রোড ও রামপুর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, পায়খানা গলির মোস্তাকের মরিচের মিলে দুটি মেশিনে চলছে ভেজাল মরিচ ও হলুদের গুঁড়া তৈরির কাজ। শ্রমিকরা ব্যস্ত রঙ, বোম্বাই মরিচ ও ধানের কুঁড়া গুঁড়া করার কাজে। পাশেই চারজন সহকারী গুঁড়া করা এসব উপাদান আনুপাতিক হারে মেশানোর কাজে ব্যস্ত। আরেকজন ব্যস্ত মিশ্রিত ভেজাল গুঁড়া প্যাকেজিং কারখানায় নিয়ে যাওয়ার কাজে।

ক্রেতা পরিচয়ে জানতে চাইলে মিল মালিক সমির কুমার জানান
প্রতিদিন এক থেকে দেড় টন মরিচ, হলুদ ও গরম মশলা প্রস্তুত করার সমতা আছে তাদের। তবে বাজারের চাহিদা অনুযায়ী মাসে ১০-১৫ টন উৎপাদন করেন তারা। একই এলাকায় প্রদিপের মরিচের মিলেও প্রতিদিন এক থেকে দেড় টন মরিচের গুঁড়া উৎপাদন হয় বলে জানা যায়। ভ্রাম্যমান আদালত অফিস থেকে বের হবার আগে মোবাইল ফোনে কল দিয়ে আমাদের সর্তক করার জন্য একটা বাজেট আছে।

বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়াই ইসলাপুর রোডের একটি মিলে মরিচ ও মসলা প্রস্তুত করছে । প্রতি মাসে ১৫-২০ টন মরিচ ও গরম মশলা বাজারজাত করছে। এসব মিল থেকে কম দামে ভেজাল মরিচ, হলুদ ও গরম মশলা কিনে প্যাকেটজাতের পর বিক্রি করছে কেয়া, সিংহ, শাপলা, চাঁদ তারাসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান।
এক কারখানা মালিক রাখাল চন্দ্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ঠিক ভেজাল নয়, একটু নিুমানের পণ্য ব্যবহার করা হয়। দেশের প্রতিটি এলাকায় এ মানের মরিচ ও গরম মশলার চাহিদা রয়েছে। এছাড়া এতে পুঁজি লাগে কম। কিন্তু লাভ বেশি। আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের প্রতি মাসে মোটা অংকের চাঁদা দিয়ে ব্যবসা করতে হচ্ছে বলে জানান এ ব্যবসায়ী।
পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কিছু অসাধু কর্মকর্তা প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে মোটা অংকের উৎকোচ আদায় করেন। এ কারণেই এদের বিরুদ্ধে আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হয় না। অভিযানের আগে তাদের সর্তক করে দেয়া হচ্ছে তাদের।

নোয়াখালী মেডিক্যাল হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডাঃ ওয়ালী উল্লাহ জানান, ভিন্ন ভিন্ন কেমিক্যাল ভিন্ন ভাবে দেহের অঙ্গ প্রত্ঙগের তি করে। দীর্ঘ মেয়াদি ভেজাল খেলে গর্ভবতি মায়ের বিকলাঙ্গ শিশু জন্ম নিতে পারে। ্রপসুতি তার সাভাবিকতা হারাতে পারে। থেমে থেমে গ্যাসট্রিক, আলসার, পেটে পিড়া , লং ডিসএন্ট্রি, হতে পারে। পুট্রিহীনদের ক্সেত্রে হার্ট ও কিডনির তি সমভাবনা রয়েছে বলে তিনি জানান।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর এর চট্রগ্রাম বিভাগীয় উপ-পরিচালক জোবায়ের আহম্মদ জানান, ভেজাল বিরোধী অভিযান পরিচালনার  প্রত্যেক জেলার জন্য আলাদা রুটিন দেয়া হয় কেন্দ্র থেকে। ইচ্ছে করলেই অভিযান পরিচালনা করা যায় না। ফেনীর ডিসি সাহেব যে কোন সময় অভিযান পরিচারনা করতে পারেন। যে কোন মহুত্বে আমরা অভিযান শুরু করব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *