ফেনীতে বাড়ছে করোনা রোগি, একদিনেই ভর্তি-৩৫, আক্রান্ত-৮ জন

বিশেষ প্রতিনিধিঃ
ফেনীতে করোনায় সংক্রমনের সংখ্যা বাড়ছে। নতুন করে করোনায় শনাক্ত হয়েছে ৮ জন। এর মধ্যে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ৭ জন ও প্রাইভেট হাসপাতালে ১ জন ভর্তি রয়েছে। ফেনী জেনারেল হাসপাতালের ৩০ শয্যা আইসোলেশান ওয়ার্ডে গতকাল শনিবার ৩৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছে।
সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত করোনায় শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়াল ২ হাজার ৪শ ৩ জনে। বৃহস্পতিবার নোয়াখালী আব্দুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজ মলিকুলার ল্যাবে ফেনী জেলার ৩৮টি ও ফেনী বক্ষব্যাধি ক্লিনিকে ১০ টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এতে নতুন করে ১৮ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। সদর উপজেলায় ১২ জন, দাগনভূঞায় ১ জন, ছাগলনাইয়ায় ৪ জন ও ফুলগাজীতে ১ জন আক্রান্ত হয়েছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জেলায় ২ হাজার ৯৩ জন সুস্থ হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. এসএম মাসুদ রানা।
ফেনী জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডাঃ আবু তাহের মিয়াজী জানান, ফেনীতে করোনা সংক্রমনের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। ফেনী জেনারেল হাসপাতালের ৩০ শয্যা আইসোলেশান ওয়ার্ডে গতকাল শনিবার ৩৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ১৮ জন পুরুষ ও ১৭ জন মহিলা। ২৪ ঘন্টায় ভর্তি হয়েছে ৬ জন। এর মধ্যে ৪ জন পুরুষ ও ২ জন মহিলা। ১ জন পুরুষ ও ২ জন মহিলাকে রেফার করা হয়েছে। করোনা পজেটিভ ৮ জনের মধ্যে ৫ জন পুরুষ ও ৩ জন মহিলা।
ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডাঃ এসএম মাসুদ রানা জানান, ফেনী জেলাতে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়েছে। বৃহস্পতিবার করোনায় শনাক্ত ১৮ জনের মধ্যে ৮ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ও ১০ জন হোম আইশোলেসনে চিকিৎসা নিচ্ছে। হোম আইশোলেসনে থাকা রোগীদের সাথে মেডিকেল অফিসারেরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে। তিনি আরো বলেন, আপনারা বাসার বাইরে বের হওয়ার সময় মাস্ক পরুন। জনসমাগম যথাসম্ভব এড়িয়ে চলুন। জনসমাগমে হাঁচি-কাশির শিষ্টাচার মেনে চলুন। কোভিডের উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

ফেনীতে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে জেলায় সিভিল সার্জন ডাঃ সাজ্জাদ হোসেন সহ ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে ৩৮ জন পুরুষ ও ৭ জন নারী রয়েছে। মৃতদের মধ্যে সদর উপজেলায় ১৫ জন, সোনাগাজীতে ১১ জন, দাগনভূঞা উপজেলায় ৮ জন, ছাগলনাইয়ায় ৬ জন, পরশুরামে ৩ জন ও ফুলগাজীতে একজন রয়েছে।
জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যমতে, গত বছরের ১৬ এপ্রিল ফেনীতে প্রথম এক যুবকের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রামন শনাক্ত হয়। ফেনীর বক্ষব্যাধি হাসপাতালের জেনেক্সপার্ট ল্যাব, নোয়াখালী আবদুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজ পিসিআর ল্যাব, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেজ (বিআইটিআইডি) এবং চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয় ল্যাবে ১৪ হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে।

আক্রান্তদের মধ্যে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ, গণমাধ্যমকর্মী, জনপ্রতিনিধি, সরকারী কর্মকর্তা, ব্যাংকার, প্রকৌশলী, শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও শিশু রয়েছে।
তবে স্বাস্থ্য বিভাগের একটি সূত্র জানায়, ফেনীতে আক্রান্ত অনেক রোগী উন্নত চিকিৎসা নিতে যেয়ে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন হাসপাতালে মারা গেলেও বেশিরভাগ মৃতব্যক্তিদের সংখ্যা জেলার স্বাস্থ্য বিভাগে তালিকায় যোগ হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *