ফেনীতে পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে ৮১টি ক্লিনিক !

নিজস্ব  , ৫ সেপ্টেম্বর ২০২০

ফেনীতে পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার। বর্জ্য নষ্ট ও শোধন ব্যবস্থাপনা না থাকায় ছাড়পত্র না দেয়া হলেও এসব প্রতিষ্ঠানে নিয়মের কোন বালাই নেই। এতে করে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ঝুঁকি ক্রমেই বাড়ছে।

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, পরিবেশ সংরক্ষণ (সংশোধন) আইন, ২০১০ অনুযায়ী যেকোনো বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার নিবন্ধিত হওয়ার আগেই পরিবেশ ছাড়পত্র নেওয়াটা বাধ্যতামূলক। জেলা শহর সহ ৬ উপজেলায় ৮৫ টি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র ৪টি প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ ছাড়পত্র রয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠান ছাড়পত্র নবায়নের আবেদন করলেও বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠান এখনো আবেদনও করেনি।

সূত্র আরো জানায়, পরিবেশ ছাড়পত্র না থাকলে আইন অনুযায়ী কোনো বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার অনুমোদন পেতে পারে না। ছাড়পত্র না থাকলে আইন অমান্যকারী প্রতিষ্ঠানের মালিককে কমপক্ষে দুই থেকে ৫ বছরের কারাদন্ড বা কমপক্ষে এক লাখ টাকা জরিমানা বা অনধিক পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা বা উভয় দন্ডই হতে পারে।

ফেনীস্থ পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক ফাইজুল কবির  জানান, ফেনী শহরে অবস্থিত হাসপাতাল ক্লিনিক ও ডায়গনস্টিক সেন্টার সমূহের বর্জ্য অপসারনের জন্য সার্ভ বাংলাদেশ লি: নামক প্রতিষ্ঠানের সাথে পৌরসভার চুক্তি রয়েছে। সে মোতাবেক বর্জ্যসমূহ অপসারন করে পৌরসভা ডাম্পিং সাইটে বিধিবহির্ভূতভাবে অপসারন করা হচ্ছে। এছাড়া শহরের বিভিন্ন স্থানে যত্রতত্র বর্জ্য অপসারন করা হচ্ছে।

তিনি আরো জানান, শহরের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারসমূহে বর্জ্য একই ড্রামে অথবা একই গাড়িতে করে পরিবহন করে একই স্থানে রাখা হচ্ছে। এতে করে পৌরসভাসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় বসবাসকারী ও চলাচলরত জনসাধারণ মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে।
ফাইজুল আরো জানান, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য পৌরসভার ও সার্ভ বাংলাদেশের সাথে চুক্তি ভঙ্গ করায় সকল প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যে লাইসেন্স নবায়নের আবেদন করেছে তাদের কোন প্রতিষ্ঠানকে লাইসেন্স নবায়ন করা হচ্ছে না। চুক্তি ভঙ্গ হওয়ায় ফেনী পৌরসভাকে কারন জানতে ইতিমধ্যে বেশ কয়েকবার নোটিশ দেয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম পরিবেশ অধিদপ্তরে কার্যালয়ে এ বিষয়ে শুনানী করা হয়েছে। সেই মোতাবেক পৌরসভা কিছু নির্দেশনা পালন করেছে।

ফাইজুল কবির জানান, বেশিরভাগ হাসপাতাল ও ডায়গনস্টিক সেন্টার মালিকরা শুধুমাত্র আবেদন করে বছরের পর বছর ব্যবসা করে যাচ্ছে। তবে অনেক প্রতিষ্ঠানের ডায়গনস্টিক কাগজপত্র অসম্পূর্ণ থাকায় লাইসেন্স দেয়া যাচ্ছে না। যেসব সকল প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র সম্পন্ন রয়েছে তাদেরকে ২০ থেকে ২১ দিনের মধ্যে লাইসেন্স দেয়া হচ্ছে।

সিভিল সার্জন ডা. মীর মোবারক হোসাইন দিগন্ত  বলেন, পরিবেশ ছাড়পত্র ছাড়া হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার চালুর সুযোগ নেই। ছাড়পত্রের অপেক্ষায় প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনুমোদন দেয়া হয়। বিষয়টি জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ তদারকী করে থাকেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *