ফেনীতে কোরবানীর পশুর চামড়ার বাজারে ধ্বস

প্রতিনিধি, ২৬ আগস্ট ২০১৮
ফেনীতে কোরবানীর পশুর চামড়ার বাজারে ধ্বস নেমেছে। গ্রামের সাধারণ মানুষ অতি অল্প দামে
তাদের কোরবানীর পশুর চামড়া বিক্রি করতে বাধ্য হয়েছেন। গরুর চামড়ার থেকে মহিষের চামড়ার দাম আরও কম। ছাগলের চামড়া ২০-২৫ টাকা দামে বিক্রি হয়। তবে অনেকেই বিক্রি করতে পারেনি।
এবছর গ্রাম গঞ্জে মৌসুমী ব্যবসায়ী এবং শহরে আড়তদারের সংখ্যাও কমে গেছে। গত বছর ফেনীর চামড়া বাজার খ্যাত পাঁচগাছিয়া বাজারসহ আশেপাশের বাজারে প্রায় ৫০জন আড়তদার ৮০-৯০ হাজার চামড়া সংগ্রহ ও মজুদ করেছিলেন। কিন্তু এ বছর আড়তদারের সংখ্যা প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে এবং তাঁরা চামড়া সংগ্রহ ও মজুদ করেছেন প্রায় ৫০ হাজার।

ব্যবসায়ী ও আড়তদারদের অভিযোগ, তারা অনেকেই গত তিন বছর থেকে ঢাকায় ট্যানারী মালিকদের কাছে চামড়া বিক্রি করে ওই বকেয়া পায়নি। ফলে অনেকেই পুঁজি সংকট ও ব্যাংকে
ঋনগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন। কিছু আড়তদার বাধ্য হয়ে চামড়ার ব্যবসা চেড়ে দিয়েছেন।
ফুলগাজীর বন্দুয়া দৌলতপুর গ্রামের বাসিন্দা কাজী জামাল উদ্দিন জানান, তিনি এক লাখ ৬৩ হাজার টাকা দিয়ে কোরবানীর গরু কিনেছেন। গ্রামের একজন মৌসুমী চামড়া ব্যসায়ীর কাছে বিক্রি করেছেন মাত্র তিনশত ৮০ টাকায়। ফেনী সদর উপজেলার পাঁচগাছিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম জানান, তিনি ৭০ হাজার টাকা দামের গরুর চামড়ার দাম তিনশত টাকার বেশী না ওঠায় এবং বিকেল পর্যন্ত বিক্রি না হওয়ায় ােভে দুঃখে সে চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলেন।
ছাগলনাইয়ার রাধানগর ইউনিয়নের বাসিন্দা আবুল কাশেমসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, তাদের
মহিষের চামড়ার সর্বোচ্চ দাম ছিল চারশত টাকা।

ফেনী সদর উপজেলা কাতালিয়া গ্রামের মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি
গরুর বড় ছোট আকার ভেদে দুইশত টাকা থেকে সাড়ে তিনশত টাকা পর্যন্ত দামে ২৪টি কোরবানীর গরুর চামড়া কিনে সন্ধ্যায় সেগুলি শহরের ট্রাংক রোডে নিয়ে আড়তদারদের নিকট গড়ে সাড়ে চার শত টাকা করে বিক্রি করেছেন। তবে চামড়া সংগ্রহ ও পরিবহন করতে চামড়া প্রতি প্রায় একশত টাকা করে খরচ হয়েছে। ২৪টি চামড়ায় গড়ে একশত টাকা করে লাভ হয়েছে।
সোনাগাজীর পূর্ব বাদুরিয়া নুরানী মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির সাধারণ স¤পাদক আহছান উল্যাহ
জানান, ওই মাদ্রাসার জন্য স্থানীয়দের নিকট থেকে ৩৭টি গরুর চামড়া সংগ্রহ করে সেগুলি আড়তে নিয়ে পাঁচশত টাকা দামে বিক্রি করেছেন।

পাঁচগাছিয়া বাজারের চামড়া আড়তদার নুর নবী ওরফে নবী মেম্বার জানান, তিনি গত তিন বছর
ঢাকার ট্যানারী মালিকদের কাছে চামড়া সরবরাহ করে প্রায় দুই কোটি টাকার বেশী পাওনা রয়েছে।
এবছর ওই ট্যানারী মালিক কোন টাকা পরিশোধ করেননি। তিনি গত বছর মৌসুমী ব্যবসায়ীদের
নিকট থেকে প্রায় ছয় হাজার চামড়া কিরেছিল। কিন্তু এবছর গড়ে সাড়ে চারশত টাকা দরে মাত্র
দুইহাজার পাঁচশত চামড়া সংগ্রহ করেছেন জেলার পাঁচগাছিয়া বাজারের বড় আড়তদার নিজাম উদ্দিন ভ‚ঁঞা বলেন, তিনি গত বছর প্রায় ১৫ হাজার চামড়া সংগ্রহ করেছিলেন। এবছর সংগ্রহ করেছেন প্রায় ১০ হাজার। তিনি জানান, এবছর গ্রাম থেকে চামড়ার সরবরাহ ছিল কম। তিনি গড়ে সাড়ে পাঁচশত টাকা দরে চামড়া কিনেছেন। প্রতিটি চামড়া সংরনে লবন ও শ্রমিকসহ আরও দুইশত টাকা খরচ পড়বে। কত টাকা করে বিক্রি করবেন তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় রয়েছেন।
পাঁচগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বলেন, সম্ভাবনাময় চামড়া
শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে সরকার ও ট্যানারী মালিকসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে উদ্যোগী হতে হবে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *