ফেনীতে কৃষি জমির উপর খুঁটি নির্মাণের প্রতিবাদে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিনিধি,

কৃষকদের কোন নোটিশ বা ক্ষতিপূরণ না দিয়ে ফেনীতে কৃষি জমির উপর দিয়ে বাংলাদেশ পাওয়ার গ্রীড কোম্পানীর (পিজিসিবি) বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইনের খুঁটি নির্মাণের পুনরায় উদ্যোগ নিলে কৃষকরা তার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে।

শনিবার (১৯ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় ফেনী সদর উপজেলার জাহানপুর গ্রামে কৃষি জমিতে পুনরায় বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইনের খুঁটি নির্মাণের উদ্যোগ নিলে ক্ষতিগ্রস্থ ভ’মি মালিক ও কৃষকগণ এর প্রতিবাদ এ মানববন্ধন করেন।

ইতোপূর্বে চলতি বছরের আগস্ট মাসেও কৃষি জমির উপর দিয়ে ঠিকাদার সঞ্চালন লাইনের খুঁটি নির্মাণের উদ্যোগ নিলে কৃষকদের প্রতিবাদ ও মানববন্ধনে তা বন্ধ হয়ে যায়।

জানা যায়, ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা এর প্রতিকার চেয়ে মহামান্য হাইকোর্টে রিট পিটিশন (নং- ৫১২, অফ ২০২০, এনেক্স-১৭) করলে হাইকোর্ট ফেনী জেলা প্রশাসককে আবেদনকারীদের সাথে আলোচনা করে ৩০ দিনের মধ্যে আইনগতভাবে সমাধান/নিস্পত্তির জন্যে বলে। এছাড়া স্থানীয় কৃষক আবদুস শাকুর ঠিকাদার সাজ্জাদ হোসেন ও মামুনুর রহমান ভূঁঞার ফেনীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পিটিশন মামলা (নং ৪০০/২০২০, তারিখ : ০৮-১২-২০২০) দায়ের করেছেন।

স্থানীয় কৃষক নেয়ামত উল্লাহ ভূঁঞা সোহেল বলেন, ’বিদ্যুৎ আইন-২০১৮ এর ধারা-৬, উপধারা-৩ মোতাবেক নোটিশ প্রাপ্তীর পর কোন ব্যক্তি বা স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সংক্ষুব্দ হইলে তিনি সরকারের নিকট আপিল করিতে পারিবেন এবং আপিল নিস্পত্তির পর লাইসেন্সি পূর্তকর্ম করিতে পারিবে।’ এক্ষেত্রে পিজিসিবি কৃষকদের আদৌ কোন নোটিশ প্রদান করেনি এবং কৃষকরা সংক্ষুব্দ হয়ে প্রতিবাদ, মানববন্ধন, বহু আবেদন নিবেদনের পরও ঠিকাদার বিভিন্ন স্থানে জোরপূর্বক খুঁটি নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। কোথায় কোথায় ঠিকাদার কৃষকদের উপর হামলাও চালাচ্ছে। এইক্ষেত্রে পুলিশ নির্লিপ্ত রয়েছে বলে কৃষকরা অভিযোগ করেছেন।

কৃষকদের দাবী, দেশের ও জনগণের স্বার্থে বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইন নির্মাণে তাদের কোন বাঁধা নেই, তবে বৈদ্যুতিক লাইন নির্মাণের ফলে তাদের ফসলী জমির যে ক্ষতি হবে-সে ক্ষতিপূরণ যেন তাদের দেওয়া হয়। অন্যথায় তারা তাদের ভ’মির উপর দিয়ে বৈদ্যুতিক লাইন নির্মাণ করতে দিবে না।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকগণ বলেন, বাংলাদেশ পাওয়ার গ্রীড কোম্পানী মেঘনাঘাট টু মদুনাঘাট ৪০০ কেভি বৈদ্যুতিক লাইনের বৃহৎ খুঁটি/টাওয়ার জোরপূর্বক আমাদের জমির উপর দিয়ে নির্মাণের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এতে চাষাবাদ ব্যাহত হয়ে কৃষকগণ সর্বশান্ত হয়ে পড়বেন। বৃহৎ লাইনের খুঁটি নির্মিত হলে উক্ত ভূমি ব্যবহার অনুপযোগী, বসত বাড়ি নির্মাণ অযোগ্য হয়ে পড়বে। ভবিষ্যতে কৃষদের আর্থিক প্রয়োজনে উক্ত জমি বিক্রি করতে চাইলে তারা ন্যায্য মূল্য থেকে তারা বঞ্চিত হবেন।

স্থানীয় একজন কৃষক বলেন, আমাদের মালিকানাধীন ফসলী ভূমির উপর দিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের এরকম বৃহৎ একটি সঞ্চালন লাইন নির্মাণের পূর্বে আমাদের তথা ভূমি মালিকদের কোন প্রকার নোটিশ প্রদান বা অবগত করানো হয়নি। যা অত্যন্ত অমানবিক।

মানববন্ধনে কৃষকগণ অভিযোগ করেন, রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে জনগণের ভূমি ব্যবহার করলে তা অধিগ্রহণ করে মৌজা মূল্যের তিনগুন ক্ষতিপূরণ সরকার দিয়ে থাকেন। কিন্তু উক্ত ভুমিতে বিদ্যুতের সঞ্চালন লাইন নেওয়ার জন্য বিশাল আয়তনের টাওয়ার স্থাপন শুরু করেও বাংলাদেশ পাওয়ার গ্রীড কোম্পানী (পিজিসিবি) কৃষকদের কোনো ক্ষতিপূরণ দেয়নি। এটি কৃষকের প্রতি নিষ্ঠুর আচরণ ও দরিদ্র কৃষকের প্রতি অবিচার, জুলুম ও নায্য অধিকার হরণের সামিল।

তারা বলেন, এ এলাকায় কিছুদিন পূর্বে মাটির প্রায় ৪/৫ ফুট নিচ দিয়ে গ্যাস সঞ্চালন লাইন যায়। কর্তৃপক্ষ ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকদের যথাযথ ক্ষতি পূরণ প্রদান করেন। অথচ গ্যাসের লাইনটি মাটির নীচ দিয়ে যাওয়ায় ফসলি ভূমির কোন ক্ষতি হয়নি।

কৃষকরা বলেন, ক্ষতিপূরণের জন্য আমরা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাবো। যান দেব, তবু ভূমি দেবো না ।

উল্লেখ্য, ইতোপূর্বে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকগণ ফেনী জেলা প্রশাসক, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বাংলাদেশ পাওয়ার গ্রীড কোম্পানী (পিজিসিবি), স্থানীয় ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান ও ফেনী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে বার বার মানববন্ধন করেছে ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *