ফেনীতে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় বাখরাবাদ গ্যাস কর্মকর্তা টয়লেটে তিন ঘন্টা অবরুদ্ধ,পরে মামলা

নিজস্ব প্রতিনিধি, ৯ ডিসেম্বর

ফেনীর বিভিন্ন স্থানে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করায় মঙ্গলবার সকালে বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানীর এক কর্মকর্তাকে তিন ঘন্টা টয়লেটে অবরুদ্ধ করে রাখে ঠিকাদারেরা। পরে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে। এ ঘটনায় দুই দিনেও থানায় কোন অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। তবে ঘটনার পর দিন যার পক্ষে অবরুদ্ধের ঘটনা ঘটে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
ফেনী বাখরাবাদ অফিস সূত্রে জানা যায়, ফেনী সদর উপজেলা, ছাগলনাইয়া ও শহরের বিভিন্ন স্থানে গত কয়েকমাস ধরে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করছে ফেনী বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী। এ সময় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে জরিমানাও করা হয়েছে। অবৈধ সংযোগ দেওয়ার ঘটনায় ফেনীতে ৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এতে অবৈধ সংযোগ প্রদানকারী ঠিকাদারেরা ক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে। মঙ্গলবার সকালে তারা বিসিক বাখরাবাদ গ্যাস অফিসের সামনে কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে স্লোগান দেয় ও গালমন্দ করে। পরে এক পর্যায় ৪০/৫০ জন অফিসে ঢুকে পড়ে। অফিসের সিসি টিভি ফুটেজে মহিউদ্দিন দিদার ও তার ভাতিজা রিংকু সহ বেশ কয়েকজনকে দেখা যায়। অফিসের বিক্রয় সহকারী মোঃ জামাল উদ্দিন তাদের ভয়ে বাথরুমে ঢুকলে তাকে ওইখানে অবরুদ্ধ করে রাখে দুই ঘন্টা।তিনি আরো জানান, প্রতি রুম তল্লাশী করে সন্ত্রাসী পরে আমি বাথরুম-টয়লেটে আছি জানতে পেরে দরজা তিন বার লাতি মারে এ সময় প্রাণের ভয়ে ফোন- মোবাইল টোন বন্ধ করে দিন ।
জামাল উদ্দিন বলেন, কি অপরাধ আমার। আমি সরকারী দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বাথরুমে দুই ঘন্টা ও অফিসে এক ঘন্টা অবরুদ্ধ ছিলাম। তিনি আরো জানান, মহিউদ্দিন দিদারের ভাতিজা রিংকুর নেতৃত্বে কতগুলো লোক জড় হয়ে আমার নাম ও শিপনের নাম ধরে গালাগালি করে। পরে তিনি বাথরুম থেকে ম্যানেজারকে মোবাইলে ম্যসেজ পাঠান। সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ খালেদ হোসেনকে বিষয়টি অবহিত করা হলে পুলিশ পাঠানো হয়।
বাখরাবাদ এরিয়া অফিস ব্যবস্থাপক মোঃ সাহাবুদ্দিন জানান, আমার জানামতে এখানে অবরুদ্ধের কিছুই হয়নি। জামাল সাহেব তার নিরাপত্তের জন্য অফিসের একটি কক্ষে বসে থাকেন। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যা বলেন সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

আরামবাগে অনুমোদনহীন চুলা ব্যবহার করায়
গ্রাহকের বিরুদ্ধে মামলা

 

ফেনী শহরের আরামবাগ এলাকায় অনুমোদনহীন চুলা ব্যবহার করায় নুর নবী মাষ্টার নামে এক গ্রাহকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফেনী বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিমিটেডের এরিয়া অফিসের উপ-ব্যবস্থাপক (রাজস্ব ও হিসাব) মো: আবুল বাসার ভূঁইয়া বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।

পুলিশ ও বাখরাবাদ সূত্র জানায়, গত ২৪ নভেম্বর আরামবাগ এলাকার নুর নবীর মালিকীয় ভবনে ৮ দ্বৈত চুলার অনুমোদন নিয়ে ১৯টি দ্বৈত চুলা সংযোগকৃত অবস্থায় দেখতে পায় বাখরাবাদ কর্তৃপক্ষ। ওইদিন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর ৩০ নভেম্বর পুনরায় ওই ভবনে গিয়ে অনুমোদনহীনভাবে পুনঃসংযোগ পাওয়া যায়।
নুর নবী ধলিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে গতবছর অবসর গ্রহণ করেন এবং তিনি নিজেকে আওয়ামীলীগ নেতা বলে দাবী করেন। তার স্ত্রী পেয়ারা বেগম পরিবার পরিকল্পনায় চাকরী করেন।
আবুল বাসার ভূঁইয়া জানান, নুর নবী অনুমোদন না নিয়ে চুলা ব্যবহার করে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৫শ ৯৮ টাকা সরকারী রাজস্ব ফাঁকি দিয়েছেন। তিনি আরো জানান, নুর নবী ২০০৩ সালের ৫ ফেব্রুয়ারী ৮ দ্বৈত চুলার অনুমোদন নিয়ে ১৯টি দ্বৈত চুলা সংযোগকৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। ১১ টি দ্বৈত চুলার সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এদিকে ১১ টার দিকে কতিপয় সন্ত্রাসী কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরকে গালমন্দ করে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।

এদিকে একটি সূত্র জানায়, বাখরাবাদের অভিযানে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর কতিপয় কর্মচারী ও এক শ্রেণীর ঠিকাদার পুনঃসংযোগ দিয়ে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। গুটি কয়েকজন কর্মচারী নিয়ম ভঙ্গ করে ঠিকাদারি কাজে নিযুক্ত হওয়ায় কর্মচারী-ঠিকাদার উভয়ের মাঝে অসন্তোষ রয়েছে।
ফেনী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) মোঃ ওমর হায়দার মামলা দায়েরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *