পা দিয়ে লিখে বিবিএস পড়ছে কুসুম, স্বপ্ন উচ্চতর ডিগ্রী

 সৌরভ পাটোয়ারী, ফেনী

পা দিয়ে লিখে ফেনী সরকারী কলেজে বিবিএস এ পড়ছে নাদিয়া পারভিন কুসুম । দুটি হাতই জন্ম থেকে অচল, পা দুটোও অচল । অচল বামমহাত আর বাম পায়ের সমন্বয়ে পা দিয়ে লিখে এসএসসি প্রাথমিক সমাপনী থেকে শুরু করে আই এ পাশ করে কুসুম এখন ফেনী সরকারী কলেজে বিবিএস এ পড়ছে। তার এ অদম্য ইচ্ছাকে স্বাগত জানিয়ে তার মা ফরিদা ইয়াছমিন ও বাবা নুর আহম্মদ দুলাল জানালেন কুসুম মাস্টার্স পর্যন্ত পড়া লিখা করবে ।

ঝকঝকে লিখে পা দিয়ে নাদিয়া পারভিন কুসুম, মনোযোগ সহকারে পরীক্ষায় খাতায় লিখে একাগ্রচিত্তে।
তিন ভাইবোনের মধ্যে  নাদিয়া পারভিন কুসুম সবার বড়, পড়াশুনায়ও সে বেশ মনোযোগী। তার অপর দুই ভাই  স্বাভাবিক হলেও নাদিয়া পারভিন কুসুম জন্মের পর থেকে প্রতিবন্ধী । শিশুকালে মায়ের কোলে  চড়ে নাদিয়া পারভিন কুসুম স্কুলে যেতো। কিশোরকাল থেকে যুব বয়সে রিক্সা ও সিএনজি অটো রিক্সাযোগে সে নিয়মিত কলেজে যায়।তার ্এ অদম্য প্রচেষ্টা দেখে ওই এলাকার মানুষ বিষ্মিত। সে এখন সমাজের দৃষ্টান্ত।তার দেখাদেখিতে স্বাভাবিক ছাত্রছাত্রীরা পড়ালিখায় মনোযোগি হচ্ছে।

বাবা নুর আহম্মদ দুলাল একজন কাতার প্রাবাসী আর মা ফরিদা ইয়াছমিন ঘর গৃহিনী। ফেনী সদর উপজেলার  পৌরসভার পূর্ব  মধুপুর গ্রামের অধিবাসী সে। মা  তার প্রতিবন্ধী মেয়েকে পড়াশুনা করাচ্ছেন অতিকষ্টে। নাদিয়া পারভিন কুসুম স্থানীয়   মধুপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেনী ও উচ্চ মাধ্যমিক পাশ করে ভর্তি হয় জয়নাল হাজারী কলেজে।সেখানে এইচএসসি পাশ করে ফেনী সরকারী কলেজে ভর্তি হয়।

মেধা তালিকায় পেছনের সবগুলো পরীক্ষায় সে ভালো ফলাফল করে। আগামীতে বিবিএস এ তার রেজাল্ট ভালো হবে এমনটিই বিশ্বাস কুসুমের শিক্ষক, সহপাঠী, প্রতিবেশী ও বাবা-মায়ের।

মা ফরিদা ইয়াছমিন তাকে খাইয়ে দেন, গোসল করিয়ে দেন আর পোশাক পড়তে সহযোগিতা করেন। শারিরীক প্রতিবন্ধী নাদিয়া পারভিন কুসুম অদম্য ইচ্ছা থেকে পড়াশুনা করছে আর উচ্চ শিক্ষিত হয়ে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন দেখে ।পড়াশোনা শেষ করে অনলাইন সার্ভিস করবেেএমনটি জানিয়েছে নাদিয়া পারভিন কুসুম।

 আর  প্রতিবন্ধীকে জয় করে নাদিয়া পারভিন কুসুম একদিন লালিত স্বপ্নকে বাস্তব রুপ দিতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *