পরিত্যক্ত জমিদার বাড়িতে দিনে দর্শনার্থীর ভিড়, রাতে চলে অসামাজিক কাজ(পর্ব -২)

সৌরভ পাটোয়ারী, পরিত্যক্ত জমিদার বাড়িতে দিনে দর্শনার্থীর ভিড় রাতে চলে অসামাজিক কার্যকলাপ ।

 

 

দাগনভূইয়া প্রতাপপুর জমিদার বাড়ি এখন আসামাজিক কার্যকলাপের অভয়ারণ্য
বিশাল বাড়ি ৬ টি দোতলা পরিত্যক্ত ভবন। ভিতরে ঘুট-ঘুটে অন্ধকার মলমুত্রের র্দূগন্ধ, আশপাশে চড়িয়ে ছিটিয়ে আছে নেশা জাতিয় দ্রব্যের খালি বোতল । বাড়ির পিছনে গিয়ে দেখতে পেলাম বখাটের উৎপাত। ডিংকস্ করছে আর মাতলামি করছে। হাতে ক্যামরা দেখে বখাটেরা নিজেদের গুটিয়ে নিলেন।

কথা হয় এলাকার দায়িত্ব প্রাপ্ত ইউপি সদস্য জয়নাল আবেদিনের সাথে। তিনি বলেন, বখাটের উৎপাত বন্ধ করতে কয়েকবার অভিযান চালিয়েও কাজ হয়নি। বাড়িটি পরিত্যক্ত থাকার কারণে অসামাজিক কার্যকলাপ বৃদ্ধি পায়। সরকার ও প্রসাশনিক উদ্যোগ না থাকলে সমস্যা উত্তোরণ সম্ভব নয়।

বাংলা ১২২৮ সালের ১৩ ফাল্গুনে নির্মিত হয় রাম নাথ কৃষ্ণ সাহার জমিদার বাড়ি। যা বর্তমানে দাগনভূইয়া প্রতাপপুর অবস্থিত। এলাকায় এটি প্রতাপপুর বড় বাড়ি নামে পরিচিত ।


এলাকাবাসী ও প্রবীণ শিক্ষক নেপাল চন্দ্র জানান, সাড়ে ১৩ একর জায়গায় উপর নির্মিত কৃষ্ণ সাহার ৫ ভবন বিশিষ্ট বাড়ি। নিজ নামে সে জায়গার উপর রাজ প্রসাদ এই জমিদার বাড়ি তিনি নির্মাণ করে যান। তারা পাচঁ ভাই ছিলেন, ৫টি দ্বিতল ভবনে তারা বসবাস করতেন ।

১২টি পুকুরে মাছ চাষ করতেন। বাড়ির ভিতরে ৫ পুকুরের ৫ টি পাকা ঘাটে স্লান করতেন বউ ঝি’রা । বাহিরে ধানের জমির পরিমান ছিল শতাধিক একর জায়গা। মাঠের ধানে ভরে যেত উঠান-ঘর গোলা আর কাচারী ঘর। ধান উঠানো শেষে শুষ্ক মৌসুমে যেখানে চাষ হতো শরিষা, মটরসুটি, খেসারী, কলাই, মুসারী রবি শস্য। সব কিছু নিজেদের উৎপাদিত। জায়গা জমি যা ছিল তাতে বছরের চাহিদা শেষে বাকি খাদ্য শস্য বেঁচে দিতেন।

উপজেলার সিন্দুরপুর ও রাজাপুর এলাকায় পরিষদ ববনে বসে ১০ তালুকের খাজনা আদায় করতেন। গোড়া করে এ বাড়ি ওবাড়ি যাতায়াত করতেন। খাজনা আদায় করে সে খাজনা সরকারী কোষাঘারে জমা দিতেন।

প্রতিবা, বংশ, প্রভাব সবই ছিল। সাহাদের কথায় উঠবস করত এলাকার মানুষ।
কিন্তু কালে বির্বতন, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, দীর্ঘ দিন ধরে ডাকাতদের নির্যাতন
রাজনৈতিক হানাহানীর কারণে সাহা বংশধররা এলাকা ছাড়তে শুরু করে।

সাহা বংশের উত্তেরাধিকার মেয়ে নাতি মানস সাহা ফেনীর তালাশকে জানান, নিরাপত্তার অভাব, ব্যবসায়ীক ও যোগাযোগের সমস্যার কারনে ১৯৯৮ সালের দিকে এ বড় বাড়িটি ছেড়ে দিয়ে তার বংশধররা ঢাকা-চট্রগ্রাম কলকাতা ও ত্রিপুরায় চলে যায়। এর পর বাড়িটি ফাঁকা পড়ে থাকে। বর্তমানে বাড়িটির বিভিন্ন চাষীয় জমি, পুকুর ও গাছ-পালা বর্গা দেয়া হয়েছে । বছরে ২ বার এসে টাকা নিয়ে যাওয়া হয়।

বাড়ি পরিত্যক্ত থাকার কারণে এখানে নারী ঘঠিত অসামাজিক কার্যকলাপ চলে। প্রতি বছর ২১ ফ্রেরুয়ারীতে এখানে ২দিন ব্যাপী উৎসব হয় উৎসবে উপস্থিত থাকে জমিদারদের বংশধররা নাতি- পূতিরা। জমিদার বাড়ির স্মৃতিচারণ পুতিপাট ও গল্প পাঠের আসর চলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *