পরশুরাম-ফুলগাজীর লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি : বিচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ

ফেনী প্রতিনিধি, ১৩ জুন ২০১৮

ফেনীতে স্থায়ী বেড়ীবাঁধ ও পূর্ব প্রস্তুতি না রাখায় প্রতি বছরের মত এবারও অবিরাম বর্ষণ এবং মুহুরী-কহুয়া-সিলোনিয়া নদীতে ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে দুই উপজেলার ৩০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। প্রবল বর্ষণ ও ঢলে গত মঙ্গল ও বুধবার (১৩ জুন) জেলার ফুলগাজী-পরশুরাম উপজেলার তিন নদীর দুর্বল বেড়ি বাঁধের ১০ স্থানে ভয়াবহ ভাঙ্গনে পানিবন্দি হয়েছে লক্ষাধিক মানুষ। খাদ্য ও সুপেয় পানির সংকটে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকাবাসী। গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় ফেনী-পরশুরাম সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এই সড়কের ফুলগাজী উপজেলার ঘনিয়ামোড়া অংশের প্রায় অর্ধ কি.মি. সড়ক দেড় ফুট পানির নিচে তলিয়ে গেছে। গতকাল মুহুরী-কহুয়া নদীর পানি বিপদসীমার ৩০০ সে. মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি ক্রমশ অবনতি ঘটছে।

ফেনী জেলা প্রশাসক মনোজ কুমার রায় বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার কথা বললেও বানভাসি এলাকার তিগ্রস্ত মানুষ ােভ প্রকাশ করে বলেন, প্রতিবারের মত বন্যায় আমাদেরকে ত্রাণ দিয়ে ঠাট্টা করার চেয়ে নদীর টেকসই বাঁধ নির্মাণ করেন। তাহলে আমাদের উপকার হবে।

সরেজমিনে গিয়ে সংশ্লিষ্ট সূত্র ও এলাকাবাসী থেকে জানা গেছে, ফুলগাজী উপজেলায় মুহুরি-কহুয়া নদীর বেড়িবাঁধের ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা হল- উত্তর ও দক্ষিণ দৌলতপুর, বরইয়া, ঘনিয়ামোড়, ফুলগাজী মাদ্রাসা, বৈরাগপুর, জয়পুর, মনিপুর নিলখী, আবুল হাসেম মেম্বার বাড়ি সংলগ্ন অংশ এবং পরশুরাম উপজেলায় চিতলিয়া ইউনিয়নের দুর্গাপুর ও শালধর, কাউতলি, রামপুর।

অথৈই পানিতে ফুলগাজী ও পরশুরামের ৩০টি গ্রামের মানুষজন এখন পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। এইসব এলাকার বাড়ি-ঘর, পুকুরের মাছ, সবজি ক্ষেত সবই এখন পানির নিচে তলিয়ে গেছে। অনেকের গোলার ধান-চাল পানি ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। মানুষের রান্নাঘর পানির নিচে। অনেকে উপোষ থেকে রোজা রেখেছেন। অনেকে তাদের গৃহপালিত ও গবাধি পশু আশপাশের গ্রামে আশ্রয় নিয়েছে।

পরশুরাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আহসান উদ্দিন মুরাদ জানান, আমরা সরেজমিনে ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পর্যবেক্ষণ করছি। আমরা ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের তালিকা করছি, তালিকা চলমান আছে। আপাতত পানিবন্দী মানুষদের শুকনো খাবার সরবরাহ করছি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড, ফেনীর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কোহিনুর আলম জানান, মুহুরী-কহুয়া নদীর পানি বিপদসীমার ৩০০ সে. মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এখনও বিপদসীমার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। আমরা তা পর্যবেক্ষণে রাখছি।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *