পরশুরামে সেই ফেলু মিয়ার পাশে সহায়

পরশুরাম প্রতিনিধি

 

ফেনীর পরশুরাম উপজেলার জয়চাঁদপুর গ্রামের কৃষক ফেলু মিয়ার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন ফেনীর স্বেচ্ছসেবী সংগঠন সহায়।

 

আজ ৬ জানুয়ারী বিকেলে সহায়ের পক্ষ থেকে ফেলু মিয়ার পরিবারের জন্য ১ মাসের খাদ্য সহায়তা, নতুন কাপড়,কম্বল ও শীত বস্ত্র, প্রদান করা হয়। এসময় আমৃত্যু তাদের চিকিৎসার আশ্বাস দেয়া হয় সহায়ের পক্ষ থেকে।

 

সহায়তা প্রদানের সময় উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক আবু ইউসুফ মিন্টু, সহায়ের সভাপতি মন্জিলা মিমি, সহ-সভাপতি জুলহাস তালুকদার, সহ-সভাপতি ইয়াসির আরাফাত রুবেল, সাধারণ সম্পাদক দুলাল তালুকদার, সহ-সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির পারভেজ।

 

এর আগে গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর ফেলু মিয়াকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাকে নিয়ে লেখা হয়েছিলো….খ্যাতিতেই ক্ষতি হয়েছে ফেলু মিয়ার, এখন সহযোগিতা চায় সবার।

 

ফেনীর পরশুরাম উপজেলার জয়চাঁদপুর গ্রামের কৃষক ফেলু মিয়া।বয়স ৭০ বছর। ২০০৮ সালে বাংলাদেশর জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ইত্যাদিতে ফেলুমিয়াকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রচার করা হয়। সেখানে বলা হয় একগ্রামে শুধু একটি পরিবার থাকে যার লোক সংখ্যা ২ জন। তারাই ফেলু মিয়া ও তার স্ত্রী।

 

ফেলু মিয়ার গ্রামের তিন দিকে ভারত সীমান্ত অপর দিকে বাংলাদেশ। ফেলু মিয়ার গ্রামে ২০০৮ সালে শুধু তারা দুজন থাকলেও এখন সেখানে ছয় পরিবারের বসবাস। ছয় সন্তানের জনক অভাগা ফেলু মিয়া বয়সের বারে এখন অনেকটাই ক্লান্ত। তিন মেয়ে বিয়ে হয়েছে স্বামীর বাড়িতে থাকে বাবা মায়ের খোঁজ নেয়না। তিন ছেলে তারাও ফেলু মিয়ার খোঁজ নেয়না এমনটাই বলেছে সে।

 

ফেলু মিয়া বলেন, ইত্যাদিতে আমাকে দেখানোর পরে ভেবে ছিলাম আমাকে অনেকে সহযোগিতা করবে কিন্তু হয়েছে তার উল্টো। তখন এক ছেলে বিদেশি ছিলো তাই কেউ সহযোগিতা করেনি আমাকে।তারই কয়েক মাস পরে ছেলে প্রবাস থেকে অসুস্থ হয়ে ফিরে আসে। তারপরে সে সুস্থ হলেও আর আমার খোঁজ নেয়না।

 

এখন কারো কাছে সহযোগিতার জন্য হাত বাড়ালে তাকে বলে তোমাকে ইত্যাদি অনুষ্ঠানে দেখিয়েছেন তোমার সহযোগিতার কি দরকার। আক্ষেপ করে ফেলু মিয়া বলেছেন টিভিতে দেখিয়ে যে খ্যাতি হয়েছিল সেটাই আমার এখন ক্ষতির কারন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *