নড়াইলের জনগনের আস্থার ঠিকানা এস,পি জসিম

শেখ তাজউদ্দিন চৌধুরী,

গতকাল ঝটিকা সফর করলাম দক্ষিনের জেলা নড়াইলে।ভোর ৬টায় রওয়ানা দিয়ে দুপুর ৩টা নাগাদ পৌছলাম এস,পি বাংলোয়।সাধারন পোশাকে নীচে নেমে এসে বুকে জড়িয়ে ধরলো আমাকে।অনেকদিন পর দেখা হওয়ায় কণ্ঠে ছিলো আবেগ এবং উচ্চাস।নাস্তা পর্ব সেরে শুক্রবার ছুটির দিনেও ইউনিফর্ম পরে আমাকে নিয়ে বের হলো।পথে স্থানীয় এম,পি মাশরাফি বিন মরতুজার বাসভবন পরিদর্শন করিয়ে ছুটলো শহরতলী থেকে দূরে এক ইউনিয়নে “দাংগা এবং মাদকবিরোধী” এক সমাবেশে প্রধান অতিথী হিসেবে অংশ নিতে।

শত শত সাধারন নাগরিক সহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ পুলিশ সুপারকে বরন করে নিলেন।দুটি বিবাদমান গ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের বিরাজমান সংঘাতের নিরসন করলেন নিমিষে।প্রধান অতিথি পুলিশ সুপার আর আমি স্থানীয়দের কাছে অজানা অতিথি।কিছুক্ষন পর মঞ্চের পাশে অবস্থান নিলাম।সাধারন মানুষের মুখে এস,পি সাহেবের প্রশংসা শুনছিলাম।

কেউ কেউ বলছিলো এস,পি সাহেবকে টাকা দিয়ে কেনা যায়না,উনার মত ভালো মানুষ আছে বলেই নড়াইলের অসহায় জনগন পুলিশি সেবা পাচ্ছে।আইনজীবী সমিতির সভাপতি তার বক্তব্যে আক্ষেপের সাথে বললেন পুলিশ সুপারের সামাজিক সমস্যা নিরসনের দ্রুত পদক্ষেপের জেরে কোর্টে মামলা মোকদ্দমা কমে যাচ্ছে।আমার বুকটা গর্বে ফুলে উঠছিলো নিজেকে পুলিশ সুপারের বন্ধু হওয়ার সুবাদে।সামাবেশ শেষ করে নিজের গাড়ীতে উঠতেই এস,পি সাহেবের ফোন বেজে উঠলো।অপর প্রান্তে অসহায় এক কলেজ ছাত্রী জানালো বখাটেরা তাকে উত্যক্ত করছে।

তাৎক্ষনিক ভাবে ডিবি টিমকে ভিকটিমের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশনা দেয়।শুধু বন্ধু বলে প্রশংসা নয়,এমন পুলিশ সুপার যদি সব জেলায় থাকে তাহলে পুলিশ সম্পর্কে জনগনের মাঝে আস্থা ফিরে আসবে নিশ্চিত। আমাকে ঘুরে ঘুরে দেখালো কীভাবে পরিত্যাক্ত জলাশয়সমুহকে নিজ উদ্যোগে পরিচ্ছন্ন করে মাছের একুরিয়াম করা হয়েছে।

অব্যাবহৃত পুলিশ লাইনের ভুমিতে ধান চাষ করে এখনকার প্রজন্মকে কৃষি বিষয়ক ব্যাবহারিক শিক্ষা প্রদান করেছে। সন্ধ্যা ৭ঃ৩০ এ আমাকে নিজ কার্যালয়ের নীচে এসে বিদায় জানানো,আমাকে আভীভূত করেছে। শুভ কামনা মোহাম্মদ জসিমউদ্দিন পি,পি,এম,পুলিশ সুপার,নড়াইল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *